৩৫০০
মোট হাদিস
৩৫০০
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
১১৮/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৫০০
১১৬৭
তাহাজ্জুদ নফল সালাত দু’ দু’ রাক‘আত করে আদায় করা।
মুজাহিদ (রহ.)
মুজাহিদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর বাড়িতে এসে তাঁকে খবর দিল, এইমাত্র আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা শরীফে প্রবেশ করলেন। ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেন, আমি অগ্রসর হলাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা ঘর হতে বের হয়ে পড়েছেন। বিলাল (রাযি.) দরজার নিকট দাঁড়িয়ে আছেন। আমি বললাম, হে বিলাল! রসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বার ভিতরে সালাত আদায় করেছেন কি? তিনি বললেন, হাঁ। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোন স্থানে? তিনি বললেন, দু’স্তম্ভের মাঝখানে।* তারপর তিনি বেরিয়ে এসে কা‘বার সামনে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। (৩৯৭) ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাযি.) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দু’রাক‘আত সালাতুয্‌ যুহা (চাশ্‌ত-এর সালাত)-এর আদেশ করেছেন। ইতবান (ইব্‌নু মালিক আনসারী) (রাযি.) বলেন, একদা অনেকটা বেলা হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাক্‌র এবং ‘উমার (রাযি.) আমার এখানে আসলেন। আমরা তাঁর পিছনে কাতারে দাঁড়ালাম আর তিনি (আমাদের নিয়ে) দু’রাক‘আত সালাত (চাশ্‌ত) আদায় করলেন।
১১৬৮
তাহাজ্জুদ ফজরের (সুন্নাত) দু’রাক‘আতের পর কথাবার্তা বলা।
আয়িশাহ্ (রাযি.)
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফজরের) দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) সালাত আদায় করতেন। অতঃপর আমি জেগে থাকলে আমার সাথে কথাবার্তা বলতেন, নইলে (ডান) কাতে শয়ন করতেন। (বর্ণনাকারী ‘আলী বলেন), আমি সুফ্ইয়ান (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, কেউ কেউ এ হাদীসে (দু’রাক‘আত স্থলে) ফজরের দু‘ রাক‘আত রিওয়ায়াত করে থাকেন। (এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?) সুফ্ইয়ান (রহ.) বললেন, এটা তা-ই।
১১৬৯
তাহাজ্জুদ ফজরের (সুন্নাত) দু’রাক‘আতের হিফাযাত করা আর যারা এ দু’রাক‘আতকে নফল বলেছেন।
আয়িশাহ্ (রাযি.)
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন নফল সালাতকে ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাতের চেয়ে অধিক গুরুত্ব প্রদান করতেন না।
১১৭০
তাহাজ্জুদ ফজরের (সুন্নাত) দু’রাক‘আতে কতটুকু কিরা‘আত পড়া প্রয়োজন।
আয়িশাহ্ (রাযি.)
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তের রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, অতঃপর সকালে আযান শোনার পর সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।
১১৭১
তাহাজ্জুদ ফজরের (সুন্নাত) দু’রাক‘আতে কতটুকু কিরা‘আত পড়া প্রয়োজন।
আয়িশাহ্ (রাযি.)
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতের পূর্বের দু’রাক‘আত (সুন্নাত) এত সংক্ষিপ্ত করতেন এমনকি আমি (মনে মনে) বলতাম, তিনি কি (শুধু) উম্মুল কিতাব (সূরাহ্ ফাতিহা) তিলাওয়াত করলেন?
১১৭২
তাহাজ্জুদ ফরয সালাতের পর নফল সালাত
ইবনু ‘উমার (রাযি.)
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে যুহরের পূর্বে দু’রাক‘আত, যুহরের পর দু’রাক‘আত, মাগরিবের পর দু’রাক‘আত, ‘ইশার পর দু’রাক‘আত এবং জুমু‘আহর পর দু’রাক‘আত সালাত আদায় করেছি। তবে মাগরিব ও ‘ইশার পরের সালাত তিনি তাঁর ঘরে আদায় করতেন।
১১৭৩
তাহাজ্জুদ ফরয সালাতের পর নফল সালাত
ইবনু ‘উমার (রাযি.)
ইবনু ‘উমার (রাযি.) আরও বলেন, আমার বোন (উম্মুল মু’মিনীন) হাফসাহ (রাযি.) আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর হবার পর সংক্ষিপ্ত দু’রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। (ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেন,) এটি ছিল এমন একটি সময়, যখন আমরা কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে হাযির হতাম না। ইবনু আবু যিনাদ (রহ.) বলেছেন, মূসা ইবনু ‘উক্বাহ (রাযি.) নাফি‘ (রহ.) হতে ‘ইশার পরে তাঁর পরিজনের মধ্যে কথাটি বর্ণনা করেছেন।
১১৭৪
তাহাজ্জুদ ফরযের পর নফল সালাত না আদায় করা
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আট রাক‘আত একত্রে (যুহর ও ‘আসরের) এবং সাত রাক‘আত একত্রে (মাগরিব-‘ইশার) সালাত আদায় করেছি। (সে ক্ষেত্রে সুন্নাত আদায় করা হয়নি।) ‘আমর (রহ.) বলেন, আমি বললাম, হে আবুশ্ শা’সা! আমার ধারণা, তিনি যুহর শেষ ওয়াক্তে এবং আসর প্রথম ওয়াক্তে আর ‘ইশা প্রথম ওয়াক্তে ও মাগরিব শেষ ওয়াক্তে আদায় করেছিলেন। তিনি বলেছেন, আমিও তাই মনে করি।
১১৭৫
তাহাজ্জুদ সফরে যুহা সালাত আদায় করা।
মুওয়াররিক (রহ.)
মুওয়াররিক (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে প্রশ্ন করলাম, আপনি কি যুহা সালাত আদায় করে থাকেন? তিনি বললেন, না। আমি প্রশ্ন করলাম, ‘উমার (রাযি.) তা আদায় করতেন কি? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, আবূ বকর (রাযি.)? তিনি বললেন, না। আমি প্রশ্ন করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম? তিনি বললেন, আমি তা মনে করি না।
১১৭৬
তাহাজ্জুদ সফরে যুহা সালাত আদায় করা।
আবদুর রাহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহ.)
আবদুর রাহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হানী (রাযি.) ব্যতীত অন্য কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে চাশ্তের সালাত আদায় করতে দেখেছেন, এমন আমাদের নিকট কেউ বর্ণনা করেননি। তিনি উম্মে হানী (রাযি.) অবশ্য বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন (পূর্বাহ্নে) তাঁর ঘরে গিয়ে গোসল করেছেন। (তিনি বলেছেন) যে, আমি আর কখনো (তাঁর) অনুরূপ সংক্ষিপ্ত সালাত দেখিনি। তবে কিরা‘আত ছাড়া তিনি রুকূ‘ ও সিজদা্ পূর্ণাঙ্গরূপে আদায় করছিলেন।