৩৪৯৯
মোট হাদিস
৩৪৯৯
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
৩১৮/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৪৯৯
৩১৭১
জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন নারীগণ কর্তৃক নিরাপত্তা ও আশ্রয় প্রদান।
উম্মু হানী বিনতু আবূ তালিব (রাঃ)
উম্মু হানী বিনতে আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম। তখন তাঁকে এমন অবস্থায় পেলাম যে, তিনি গোসল করছিলেন এবং তাঁর মেয়ে ফাতিমাহ (রাঃ) তাঁকে পর্দা করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, ইনি কে? আমি বললাম, আমি উম্মু হানী বিনতে আবূ তালিব। তখন তিনি বললেন, মারহাবা হে উম্মু হানী! যখন তিনি গোসল হতে ফারেগ হলেন, একখানি কাপড়ে শরীর ঢেকে দাঁড়িয়ে আট রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সহোদর ভাই ‘আলী (রাঃ) হুবাইরার অমুক পুত্রকে হত্যা করার সংকল্প করেছে, আর আমি তাকে আশ্রয় দিয়েছি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উম্মু হানী! তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছো, আমিও তাকে আশ্রয় দিয়েছি। উম্মু হানী (রাঃ) বলেন, এটা চাশ্তের সময় ছিল।
৩১৭২
জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন মুসলিমদের পক্ষ হতে নিরাপত্তা ও আশ্রয় প্রদান একই ব্যাপার। তা সাধারণ মুসলিমের জন্যও পালনীয়।
ইব্রাহীম তাইমী (রহঃ)
ইব্রাহীম তাইমী (রহ.)-এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলী (রাঃ) আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন এবং বললেন, আমাদের নিকট আল্লাহর কিতাব ও এই সহীফায় যা আছে, এছাড়া অন্য কোন কিতাব নেই, যা আমরা পাঠ করে থাকি। তিনি বলেন, এ সাহীফায় রয়েছে, যখমের দন্ড বিধান, উটের বয়সের বিবরণ এবং আইর পর্বত থেকে সওর পর্যন্ত মদিনা্ হারাম হবার বিধান। যে ব্যক্তি এর মধ্যে বিদ্‘আত উদ্ভাবণ করে কিংবা বিদ্আতীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সকল মানুষের অভিসম্পাত। আল্লাহ তার কোন নফল ও ফরজ ‘ইবাদাত কবূল করেন না। আর যে নিজ মাওলা ব্যতীত অন্যকে মাওলা হিসেবে গ্রহণ করে, তার উপর একই রকম লা‘নত। আর নিরাপত্তা দানের ক্ষেত্রে সর্বস্তরের মুসলিমগণ একইভাবে দায়িত্বশীল এবং যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের চুক্তি ভঙ্গ করে তার উপরও তেমনি অভিসম্পাত।
৩১৭৩
জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন মুশরিকদের সঙ্গে দ্রব্য-সামগ্রী প্রভৃতির বদলে সন্ধি সম্পাদন এবং যে ওয়াদা পূরণ করে না তার পাপ।
সাহল ইবনু আবূ হাসমা (রাঃ)
সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু সাহল ও মুহায়্যিসাহ ইবনু মাস’ঊদ ইবনু যায়দ (রাঃ) খায়বারের দিকে গেলেন। তখন খায়বারের ইয়াহূদীদের সঙ্গে সন্ধি ছিল। পরে তাঁরা উভয়ে আলাদা হয়ে গেলেন। অতঃপর মুহায়্যিসাহ ’আবদুল্লাহ ইবনু সাহলের নিকট আসেন এবং বলেন যে, তিনি মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। তখন মুহাইয়িসাহ তাঁকে দাফন করলেন। অতঃপর মদিনা্য় এলেন। ’আবদুর রহমান ইবনু সাহল ও মাস’উদের দুই পুত্র মুহায়্যিসাহ ও হুওয়ায়্যিসাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলেন। ’আবদুর রহমান (রাঃ) কথা বলার জন্য এগিয়ে এলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বড়কে আগে বলতে দাও, বড়কে আগে বলতে দাও। আর ’আবদুর রহমান ইবনু সাহল (রাঃ) ছিলেন বয়সে সবচেয়ে ছোট। এতে তিনি চুপ রইলেন এবং মুহায়্যিসাহ ও হুওয়ায়্যিসাহ উভয়ে কথা বললেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি শপথ করে বলবে এবং তোমাদের হত্যাকারীর অথবা বলেছেন, তোমাদের সঙ্গীর রক্ত পণের অধিকারী হবে? তারা বললেন, আমরা কিভাবে শপথ করব? আমরা তো উপস্থিত ছিলাম না এবং স্বচক্ষে দেখিনি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে ইয়াহূদীরা পঞ্চাশটি শপথের মাধ্যমে তোমাদের নিকট হতে অব্যাহতি লাভ করবে। তাঁরা বললেন, তারা তো কাফির সম্প্রদায়। আমরা কিরূপে তাদের শপথ গ্রহণ করতে পারি? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ হতে ’আবদুর রাহমানকে তাঁর ভাইয়ের দীয়াত পরিশোধ করলেন।
৩১৭৪
জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন ওয়াদা পূরণ করার ফযীলত।
আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হারব ইবনু উমায়্যাহ (রাঃ)
আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হারব ইবনু উমায়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, হিরাকল তাঁকে ডেকে পাঠালেন, কুরাইশদের সেই কাফেলাসহ যারা সিরিয়ায় বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। এটা কুরাইশ কাফিরদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চুক্তি থাকাকালীন ঘটনা।
৩১৭৫
জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন কোন জিম্মী যাদু করলে তাকে কি ক্ষমা করা হবে?
আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যাদু করা হয়েছিল। ফলে তিনি ধারণা করতেন যে, তিনি এ কাজ করেছেন অথচ তিনি তা করেননি।
৩১৭৬
জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন বিশ্বাসঘাতকতার ব্যাপারে সতর্ক করা।
আউফ ইবনু মালিক (রাঃ)
‘আউফ ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তাবুক যুদ্ধে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলাম। তিনি তখন একটি চামড়ার তৈরি তাঁবুতে ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কিয়ামতের আগের ছয়টি নিদর্শন গণনা করে রাখো। আমার মৃত্যু, অতঃপর বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়, অতঃপর তোমাদের মধ্যে ঘটবে মহামারী, বকরীর পালের মহামারীর মত, সম্পদের প্রাচুর্য, এমনকি এক ব্যক্তিকে একশ’ দ্বীনার দেয়ার পরেও সে অসন্তুষ্ট থাকবে। অতঃপর এমন এক ফিতনা আসবে যা আরবের প্রতিটি ঘরে প্রবেশ করবে। অতঃপর যুদ্ধ বিরতির চুক্তি-যা তোমাদের ও বানী আসফার বা রোমকদের মধ্যে সম্পাদিত হবে। অতঃপর তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং আশিটি পতাকা উড়িয়ে তোমাদের বিপক্ষে আসবে; প্রত্যেক পতাকার নীচে থাকবে বার হাজার সৈন্য।
৩১৭৭
জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন চুক্তিতে আবদ্ধ গোত্রের চুক্তি কিভাবে বাতিল করা যাবে?
আবূ হুরায়রা (রাঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) আমাকে সে সকল লোকের সঙ্গে পাঠান যাঁরা মিনায় কুরবানীর দিন এ ঘোষণা দিবেনঃ এ বছরের পর কোন মুশরিক হাজ্জ করতে পারবে না আর বায়তুল্লাহ শরীফে কোন নগ্ন ব্যক্তি তাওয়াফ করতে পারবে না আর কুরবানীর দিনই হল হজ্জে আকবারের দিন। একে আকবার এ জন্য বলা হয় যে, লোকেরা (উমরাহ্কে) হজ্জে আসগার (ছোট) বলে। আবূ বকর (রাঃ) সে বছর মুশরিকদের চুক্তি রহিত করে দেন। কাজেই হুজ্জাতুল বিদার বছর যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ করেন, তখন কোন মুশরিক হাজ্জ করেনি।
৩১৭৮
জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন যারা অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করে তাদের গুনাহ।
আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ)
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, চারটি স্বভাব যার মধ্যে পাওয়া যাবে, সে খালিস মুনাফিক বলে গণ্য হবে। যে ব্যক্তি কথা বলার সময় মিথ্যা বলে, আর অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে, প্রতিশ্রুতি দিলে বিশ্বাসঘাতকতা করে, যখন ঝগড়া করে গালাগালি করে। যার মধ্যে এগুলোর কোন একটি স্বভাব পাওয়া যাবে, তার মধ্যে নিফাকের একটি স্বভাব পাওয়া গেল, যতক্ষণ না সে তা পরিত্যাগ করে।
৩১৭৯
জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন যারা অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করে তাদের গুনাহ।
আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কুরআন এবং এ কাগজে যা লিখা আছে তা ছাড়া কোন কিছু লিপিবদ্ধ করিনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আয়ির পর্বত হতে এ পর্যন্ত মদিনার হরম এলাকা। যে কেউ দ্বীনের ব্যাপারে বিদ্‘আত উদ্ভাবণ করে কিংবা কোন বিদ্‘আতীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহ তা‘আলা, ফেরেশতা ও সকল মানুষের লা’নত। তার কোন ফরজ কিংবা নফল ‘ইবাদাত গৃহীত হবে না। আর সকল মুসলিমের পক্ষ হতে নিরাপত্তা একই স্তরের। সাধারণ মুসলিম নিরাপত্তা দিলে সকলকে তা রক্ষা করতে হবে। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দেয়া নিরাপত্তা বাধাগ্রস্ত করবে তার উপর আল্লাহ তা‘আলার লা‘নত এবং ফেরেশতামন্ডলী ও সকল মানুষের। তার কোন নফল কিংবা ফরজ ‘ইবাদাত গৃহীত হবে না। আর যে স্বীয় মনিবের অনুমতি ব্যতীত অন্যদের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি করে, তার উপর আল্লাহ তা‘আলার লা‘নত এবং ফেরেশতামন্ডলী ও সকল মানুষের। তার কোন নফল কিংবা ফরজ ‘ইবাদাত কবূল হবে না।
৩১৮০
জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন যারা অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করে তাদের গুনাহ।
আবূ হুরায়রা (রাঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অমুসলিমদের নিকট হতে (জিযইয়াহ স্বরূপ) একটি দ্বীনার বা দিরহামও তোমরা পাবে না, তখন তোমাদের কী অবস্থা হবে? তাকে বলা হল, হে আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) আপনি কিভাবে মনে করেন যে, এমন অবস্থা দেখা দিবে, তিনি বললেন, হ্যাঁ, শপথ সে মহান সত্তার যাঁর হাতে আবূ হুরাইরাহর প্রাণ, যিনি সত্যবাদী ও সত্যবাদী বলে স্বীকৃত তাঁর উক্তি থেকে আমি বলছি। লোকেরা বলল, কী কারণে এমন হবে? তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেয়া নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করা হবে। ফলে আল্লাহ্ তা‘আলা জিম্মীদের হৃদয়কে কঠিন করে দিবেন; তারা তাদের হাতের সম্পদ দিবে না।