৩৪৯৯
মোট হাদিস
৩৪৯৯
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
৩০০/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৪৯৯
২৯৯১
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার যুদ্ধকালীন তাকবীর উচ্চারণ করা।
আনাস (রাঃ)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতি সকালে খায়বার প্রান্তরে প্রবেশ করেন। সে সময় ইয়াহূদীগণ কাঁধে কোদাল নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। তারা যখন তাঁকে দেখতে পেল, তখন বলতে লাগল, মুহাম্মদ সেনাদলসহ আগমন করেছে, মুহাম্মদ সেনাদলসহ আগমন করেছে ফলে তারা দূর্গে ঢুকে পড়ল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় হাত তুলে বললেন, আল্লাহু আকবার, খায়বার ধ্বংস হোক। আমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের অঞ্চলে অবতরণ করি, তখন সাবধান করে দেয়া লোকদের সকাল মন্দ হয়। আমরা সেখানে কিছু গাধা পেলাম। অতঃপর আমরা এগুলোর (গোশ্ত) রান্না করলাম। এর মধ্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোষণা দানকারী ঘোষণা দিল, নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে গাধার মাংস হতে নিষেধ করেছেন। ডেকগুলো উল্টে দেয়া হল তার সামগ্রীসহ। ‘আলী সুফ্ইয়ান সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দু’হাত উপরে উঠান বর্ণনায় ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মুহাম্মদ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন।
২৯৯২
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার তাকবীর পাঠে আওয়াজ উচ্চ করা।
আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ)
আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা যখন কোন উপত্যকায় আরোহণ করতাম, তখন লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার বলতাম। আর আমাদের আওয়াজ অতি উঁচু হয়ে যেত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের প্রতি সদয় হও। তোমরা তো বধির বা অনুপস্থিত কাউকে ডাকছ না। বরং তিনি তো তোমাদের সঙ্গেই আছেন, তিনি তো শ্রবণকারী ও নিকটবর্তী।
২৯৯৩
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার কোন উপত্যকায় অবতরণ করার সময় তাসবীহ পাঠ করা।
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন কোন উঁচু স্থানে আরোহণ করতাম, তখন তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করতাম আর যখন কোন উপত্যকায় অবতরণ করতাম, সে সময় সুবহানাল্লাহ্ বলতাম।
২৯৯৪
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার ৫৬/১৩৩. উঁচু স্থানে আরোহণের সময় তাকবীর পাঠ করা।
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন উঁচুস্থানে আরোহণ করতাম, তখন আল্লাহু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করতাম আর যখন নিম্ন ভূখন্ডে অবতরণ করতাম, সে সময় সুবহানাল্লাহ্ বলতাম।
২৯৯৫
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার ৫৬/১৩৩. উঁচু স্থানে আরোহণের সময় তাকবীর পাঠ করা।
আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হজ্জ কিংবা ‘উমরাহ থেকে ফিরতেন, বর্ণনাকারী বলেন, আমি জানি না, নাকি এরূপ বলেছেন যে, যখন জিহাদ থেকে ফিরতেন, তখন তিনি ঘাঁটি অথবা প্রস্তরময় ভূমিতে পৌঁছে তিনবার আল্লাহু আকবার বলতেন। অতঃপর এ দু‘আ পাঠ করতেন, ‘‘আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই; তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই, কর্তৃত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই; তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান। আমরা সফর থেকে প্রত্যাবর্তনকারী, গুনাহ থেকে তাওবাকারী, ‘ইবাদাতকারী, সিজদাকারী, আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী। আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন, তাঁর বান্দাহকে সাহায্য করেছেন, কাফির সৈন্যদলকে তিনি একাই পরাস্ত করেছেন।’’ সালেহ (রহ.) বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আবদুল্লাহ্ কি ইনশাআল্লাহ্ বলেননি? তিনি বললেন, না।
২৯৯৬
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার মুসাফিরের জন্য তা-ই লিখিত হবে, যা সে স্বীয় আবাসে ‘আমল করত।
আবূ ইসমাঈল আসসাকসাকী
আবূ ইসমাঈল আসসাকসাকী বলেন, আবূ বুরদাহ্-কে বলতে শুনেছি, তিনি এবং ইয়াযিদ ইবনু আবূ কাবশা (রাঃ) সফরে ছিলেন। আর ইয়াযিদ (রাঃ) মুসাফির অবস্থায় রোযা রাখতেন। আবূ বুরদাহ (রাঃ) তাঁকে বললেন, আমি আবূ মূসা (আশ‘আরী) (রাঃ)-কে একাধিকবার বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন বান্দা পীড়িত হয় কিংবা সফরে থাকে, তখন তার জন্য তা-ই লেখা হয়, যা সে আবাসে সুস্থ অবস্থায় ‘আমল করত। (আধু
২৯৯৭
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার নিঃসঙ্গ ভ্রমণ
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খন্দকের যুদ্ধের দিন লোকদেরকে ডাক দিলেন। যুবাইর (রাঃ) সে ডাকে সাড়া দিলেন, পুনরায় তিনি লোকদেরকে ডাক দিলেন, আবারও যুবাইর (রাঃ) সে ডাকে সাড়া দিলেন। পুনরায় তিনি লোকদেরকে ডাকলেন, এবারও যুবাইর (রাঃ) সে ডাকে সাড়া দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘প্রত্যেক নবীর জন্য একজন বিশেষ সাহায্যকারী থাকে আর আমার বিশেষ সাহায্যকারী হচ্ছে যুবাইর।’ সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, হাওয়ারী সাহায্যকারীকে বলা হয়।
২৯৯৮
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার নিঃসঙ্গ ভ্রমণ
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি লোকেরা একা সফরে কী ক্ষতি আছে তা জানত, যা আমি জানি, তবে কোন আরোহী রাতে একাকী সফর করত না।
২৯৯৯
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার ভ্রমণে ত্বরা করা।
হিশাম (রহ.)
হিশাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা বর্ণনা করেছেন যে, উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, বিদায় হজ্জে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেমন গতিতে পথ চলেছিলেন। রাবী ইয়াহয়া (রাঃ) বলতেন, ‘উরওয়াহ (রহ.) বলেন, ‘‘আমি শুনতেছিলাম, তবে আমার বর্ণনায় তা ছুটে গেছে। উসামাহ (রহ.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহজ দ্রুতগতিতে চলতেন আর যখন প্রশস্ত ফাঁকা জায়গা পেতেন, তখন দ্রুত চলতেন। নাস হচ্ছে সহজ গতির চেয়ে দ্রুততর চলা।
৩০০০
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার ভ্রমণে ত্বরা করা।
আসলাম (রহ.)
আসলাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কার পথে ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। পথে তাঁর নিকট সাফিয়্যাহ বিনতু আবূ ‘উবাইদ (রাঃ)-এর ভীষণ অসুস্থতার সংবাদ পৌঁছে। তখন তিনি দ্রতগতিতে চলতে থাকেন। এমনকি যখন সূর্যাস্তের পরে লালিমা কেটে গেল, তখন তিনি উট থেকে নেমে মাগরিব ও এশার সালাত একত্রে আদায় করেন। আর ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, যখন তাঁর দ্রুত গতিতে চলার প্রয়োজন দেখা দিত, তখন তিনি মাগরিবকে বিলম্বিত করে মাগরিব ও এশার উভয় সালাত একত্রে আদায় করতেন।