৩৪৯৯
মোট হাদিস
৩৪৯৯
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
২৯৯/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৪৯৯
২৯৮১
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার যুদ্ধে পাথেয় বহন করা।
সুয়াইদ ইবনু নু‘মান (রাঃ)
সুয়াইদ ইবনু নু‘মান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, খায়বার যুদ্ধে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তিনি জিহাদে অংশ গ্রহণ করেন। তাঁরা যখন খায়বারের সন্নিকটে অবস্থিত সাহবা নামক স্থানে পৌঁছলেন, তাঁরা সেখানে ‘আসরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবার নিয়ে আসতে বললেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যবের ছাতু ছাড়া কিছুই নেয়া হয়নি। আমরা তা পানির সঙ্গে মিশিয়ে আহার করলাম ও পান করলাম। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়ালেন এবং কুলি করলেন, আমরাও কুলি করলাম ও সালাত আদায় করলাম।
২৯৮২
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার যুদ্ধে পাথেয় বহন করা।
সালামাহ ইবনু আক্ওয়া‘ (রাঃ)
সালামাহ (ইবনু আকওয়া‘) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে লোকদের পাথেয় কমে যায় এবং তারা অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়েন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হয়ে তাদের উট যবেহ করার অনুমতি চাইলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে অনুমতি দিলেন। সে সময় ‘উমার (রাঃ)-এর সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হল। তারা তাঁকে বিষয়টি জানালো। তিনি বললেন, উট যবেহ করে অতঃপর তোমরা কিরূপে টিকে থাকবে? ‘উমার (রাঃ) রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ সকল লোক উট যবেহ করে খেয়ে ফেলার পর কিভাবে বাঁচবে? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিজ নিজ অবশিষ্ট পাথেয় নিয়ে হাজির করার জন্য তাদের মধ্যে ঘোষণা দাও। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবারের জন্য বরকতের দু‘আ করলেন। অতঃপর তাদেরকে নিজ নিজ পাত্র নিয়ে হাজির হতে বললেন। তারা তাদের পাত্র ভরে নিতে লাগলো, অবশেষে সকলই নিয়ে নিল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। আর আমি আল্লাহর রাসূল।’
২৯৮৩
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার স্কন্ধে পাথেয় বহন করা।
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক জিহাদে বের হলাম এবং আমরা সংখ্যায় তিনশ’ ছিলাম। প্রত্যেকে নিজ নিজ পাথেয় নিজেদের কাঁধে বহন করছিলাম। পথে আমাদের পাথেয় নিঃশেষ হয়ে গেল। এমনকি আমরা দৈনিক একটি মাত্র খেজুর খেতে থাকলাম। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আবূ ‘আবদুল্লাহ্! একটি মাত্র খেজুর একজন লোকের কী করে যথেষ্ট হত? তিনি বললেন, যখন আমরা তাও হারালাম তখন এর হারানোটা টের পেলাম। অবশেষে আমরা সমুদ্র তীরে এসে উপস্থিত হলাম। হঠাৎ সমুদ্র একটা বিরাট মাছ কূলে নিক্ষেপ করল। আমরা সে মাছটি মজা করে আঠার দিন পর্যন্ত খেলাম।
২৯৮৪
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার উটের পিঠে ভাই এর পশ্চাতে মহিলার উপবেশন।
আয়িশাহ (রাঃ)
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সাহাবীগণ তো হাজ্জ ও ‘উমরাহর সাওয়াব নিয়ে ফিরছেন, আর আমি তো হাজ্জের বেশি কিছুই করতে পারলাম না।’ তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, তুমি যাও, ‘আবদুর রহমান তোমাকে তার পেছনে সাওয়ারীতে বসিয়ে নিবে। তিনি ‘আবদুর রহমানকে আদেশ করলেন, তাঁকে তানয়ীম থেকে ‘উমরাহর ইহরাম করিয়ে আনতে। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় উঁচুভূমিতে তাঁর ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকলেন।
২৯৮৫
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার উটের পিঠে ভাই এর পশ্চাতে মহিলার উপবেশন।
আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)
আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে আমার পেছনে বসিয়ে তানয়ীম থেকে ‘উমরাহর ইহরাম করিয়ে আনার জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
২৯৮৬
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার যুদ্ধ ও হজ্জে একই সাওয়ারীতে পেছনে বসা।
আনাস (রাঃ)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ ত্বলহা (রাঃ)-এর পেছনে একই সওয়ারীতে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন লোকেরা হজ্জ ও ‘উমরাহ পালনের জন্য লাববায়ক ধ্বনি তুলছিল।
২৯৮৭
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার গাধার পিঠে অপরের পেছনে বসা।
উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)
উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাধার পিঠে পালান চাপিয়ে তার উপর চাদর বিছিয়ে তাতে চড়লেন। আর উসামাহ (রাঃ)-কে তাঁর পেছনে বসিয়ে নিলেন।
২৯৮৮
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার গাধার পিঠে অপরের পেছনে বসা।
আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন আপন সাওয়ারীর পিঠে নিজের পেছনে উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)-কে বসিয়ে মক্কার উঁচু ভূমির দিক থেকে আসলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিলাল (রাঃ) এবং চাবি রক্ষণকারী ‘উসমান ইবনু ত্বলহা। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের পার্শ্বে উটটিকে বসালেন। অতঃপর ‘উসমান (রাঃ)-কে কা’বা গৃহের চাবি নিয়ে আসতে আদেশ করলেন। কাবা খুলে দেয়া হল এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভেতরে প্রবেশ করলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন উসামাহ, বিলাল ও ‘উসমান (রাঃ)। দিনের দীর্ঘ সময় তিনি সেখানে অবস্থান করলেন। অতঃপর সেখান হতে বেরিয়ে এলেন। এ সময়ে লোকেরা প্রবেশ করার জন্য দৌঁড়িয়ে আসল। সকলের আগে ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং বিলাল (রাঃ)-কে দরজার পেছনে দাঁড়ানো দেখতে পেলেন। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন্ স্থানে সালাত আদায় করেছিলেন? ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি তাঁকে একথা জিজ্ঞেস করতে ভুলে গিয়েছিলাম যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত রাক‘আত সালাত আদায় করেছিলেন?
২৯৮৯
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার রিকাব বা অনুরূপ কিছু ধরে আরোহণে সাহায্য করা।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, মানুষের প্রত্যেক জোড়ার প্রতি সাদাকা রয়েছে, প্রতি দিন যাতে সূর্য উদিত হয় দু’জন লোকের মধ্যে সুবিচার করাও সাদাকা, কাউকে সাহায্য করে সাওয়ারীতে আরোহণ করিয়ে দেয়া বা তার উপরে তার মালপত্র তুলে দেয়াও সাদাকা, ভাল কথাও সাদাকা, সালাত আদায়ের উদ্দেশে পথ চলায় প্রতিটি কদমেও সাদাকা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করাও সাদাকা।
২৯৯০
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার কুরআন শরীফ নিয়ে শত্রু দেশে সফর করা অপছন্দনীয়।
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমর (রাঃ)
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন সঙ্গে নিয়ে শত্রু-দেশে সফর করতে নিষেধ করেছেন।