৩৫০০
মোট হাদিস
৩৫০০
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
১১৫/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৫০০
১১১৯
সালাত ক্বাসর করা বসে সালাত আদায়কারী সুস্থ হয়ে গেলে কিংবা একটু হালকাবোধ করলে, বাকী সালাত (দাঁড়িয়ে) পূর্ণভাবে আদায় করবে।
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে সালাত আদায় করতেন। বসেই তিনি কিরা‘আত পাঠ করতেন। যখন তাঁর কিরা‘আতের প্রায় ত্রিশ বা চল্লিশ আয়াত বাকী থাকত, তখন তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দাঁড়িয়ে তা তিলাওয়াত করতেন, অতঃপর রুকূ‘ করতেন; পরে সিজদা্ করতেন। দ্বিতীয় রাক‘আতেও তেমনই করতেন। সালাত শেষ করে তিনি লক্ষ্য করতেন, আমি জেগে থাকলে আমার সাথে কথা বলতেন আর ঘুমিয়ে থাকলে তিনিও শুয়ে পড়তেন।
১১২০
তাহাজ্জুদ রাতের বেলায় তাহজ্জুদ (ঘুম হতে জেগে) সালাত আদায় করা।
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তাহাজ্জুদের উদ্দেশে যখন দাঁড়াতেন, তখন দু‘আ পড়তেন- ‘‘হে আল্লাহ্! আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, আপনি আসমান যমীন ও এ দু’য়ের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর নিয়ামক এবং আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আসমান যমীন এবং তাদের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর কর্তৃত্ব আপনারই। আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনি আসমান যমীনের নূর। আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনি আকাশ ও যমীনের মালিক, আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনিই চির সত্য। আপনার ওয়াদা চির সত্য; আপনার সাক্ষাৎ সত্য; আপনার বাণী সত্য; জান্নাত সত্য; জাহান্নাম সত্য; নবীগণ সত্য; মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য, কিয়ামত সত্য। ইয়া আল্লাহ্! আপনার নিকটই আমি আত্মসমর্পণ করলাম; আপনার প্রতি ঈমান আনলাম; আপনার উপরেই তাওয়াক্কুল করলাম, আপনার দিকেই রুজূ‘ করলাম; আপনার (সন্তুষ্টির জন্যই) শত্রুতায় লিপ্ত হলাম, আপনাকেই বিচারক মেনে নিলাম। তাই আপনি আমার পূর্বাপর ও প্রকাশ্য গোপন সব অপরাধ ক্ষমা করুন। আপনিই অগ্র পশ্চাতের মালিক। আপনি ব্যতীত সত্য প্রকৃত কোন ইলাহ্ নেই, অথবা (অপর বর্ণনায়) আপনি ব্যতীত প্রকৃত কোন সত্য মা‘বূদ নেই। সুফইয়ান (রহ.) বলেছেন, আবূ উমাইয়্যাহ (রহ.) তাঁর বর্ণনায় وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ (বাক্যটি) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। সুফইয়ান (রহ.).....ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।
১১২১
তাহাজ্জুদ রাত জেগে ইবাদত করার গুরুত্ব।
সালিম (রহ.)
সালিম (রহ.) তাঁর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবিতকালে কোন ব্যক্তি স্বপ্ন দেখলে তা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে বর্ণনা করত। এতে আমার মনে আকাঙ্ক্ষা জাগলো যে, আমি কোন স্বপ্ন দেখলে তা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বর্ণনা করব। তখন আমি যুবক ছিলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে আমি মসজিদে ঘুমাতাম। আমি স্বপ্নে দেখলাম, যেন দু’জন ফিরিশতা আমাকে ধরে জাহান্নামের দিকে নিয়ে চলেছেন। তা যেন কুপের পাড় বাঁধানোর ন্যায় পাড় বাঁধানো। তাতে দু’টি খুঁটি রয়েছে এবং এর মধ্যে রয়েছে এমন কতক লোক, যাদের আমি চিনতে পারলাম। তখন আমি বলতে লাগলাম, আমি জাহান্নাম হতে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই। তিনি বলেন, তখন অন্য একজন ফেরেশ্তা আমাদের সঙ্গে মিলিত হলেন। তিনি আমাকে বললেন, ভয় পেয়ো না।
১১২২
তাহাজ্জুদ রাত জেগে ইবাদত করার গুরুত্ব।
সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রহঃ)
আমি এ স্বপ্ন (আমার বোন উম্মুল মু’মিনীন) হাফসাহ (রাযি.)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। অতঃপর হাফসাহ (রাযি.) তা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বর্ণনা করলেন। তখন তিনি বললেনঃ ‘আবদুল্লাহ্ কতই ভাল লোক! যদি রাত জেগে সে সালাত (তাহাজ্জুদ) আদায় করত! তারপর হতে ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) খুব অল্প সময়ই ঘুমাতেন।
১১২৩
তাহাজ্জুদ রাতের সালাতে সিজদা্ দীর্ঘ করা।
উরওয়াহ (রহ.)
উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) আমাকে জানিয়েছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাহাজ্জুদে) এগার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন এবং তা ছিল তাঁর (স্বাভাবিক) সালাত। সে সালাতে তিনি এক একটি সিজদা্ এত পরিমাণ করতেন যে, তোমাদের কেউ (সাজ্দাহ হতে) তাঁর মাথা তোলার পূর্বে পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারত। আর ফজরের (ফারয) সালাতের পূর্বে তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি ডান কাতে শুতেন যতক্ষণ না সালাতের জন্য তাঁর কাছে মুআয্যিন আসত।
১১২৪
তাহাজ্জুদ রুগ্ন ব্যক্তির তাহজ্জুদ আদায় না করা।
জুনদাব (রাযি.)
জুনদাব (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে এক রাত বা দু’ রাত তিনি (তাহাজ্জুদের জন্য) উঠেননি।
১১২৫
তাহাজ্জুদ রুগ্ন ব্যক্তির তাহজ্জুদ আদায় না করা।
জুনদাব ইবনু ‘আব্দুল্লাহ্ (রাযি.)
জুনদাব ইবনু ‘আব্দুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিন বলেন, একবার সাময়িকভাবে জিব্রীল (‘আ.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট হাযিরা হতে বিরত থাকেন। এতে জনৈকা কুরায়শ নারী বলল, তার শয়তানটি তাঁর নিকট আসতে দেরী করছে। তখন অবতীর্ণ হল- ‘‘শপথ পূর্বাহ্নের ও রজনীর! যখন তা হয় নিঝুম। আপনার প্রতিপালক আপনাকে পরিত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি বিরূপও হননি’’- (সূরাহ্ ওয়ায্যুহা ৯৩/১-৩)।
১১২৬
তাহাজ্জুদ তাহজ্জুদ ও নফল ইবাদতের প্রতি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উৎসাহ দান করা, অবশ্য তিনি তা আবশ্যক করেননি।
উম্মু সালামাহ (রাযি.)
উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একরাতে ঘুম হতে জেগে বললেনঃ সুবহানাল্লাহ্! আজ রাতে কত না ফিতনা নাযিল করা হল! আজ রাতে কতই না (রহমতের) ভান্ডার নাযিল করা হল! কে জাগিয়ে দিবে বাড়ীগুলোর লোকজনকে? ওহে! শোন, দুনিয়ার অনেক পোষাক পরিহিতা আখিরাতে উলঙ্গ হয়ে যাবে।
১১২৭
তাহাজ্জুদ তাহজ্জুদ ও নফল ইবাদতের প্রতি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উৎসাহ দান করা, অবশ্য তিনি তা আবশ্যক করেননি।
আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযি.)
আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে তাঁর কন্যা ফাতিমাহ (রাযি.)-এর নিকট এসে বললেনঃ তোমরা কি সালাত আদায় করছ না? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের আত্মাগুলো তো আল্লাহ্ তা‘আলার হাতে রয়েছে। তিনি যখন আমাদের জাগাতে ইচ্ছা করবেন, জাগিয়ে দিবেন। আমরা যখন একথা বললাম, তখন তিনি চলে গেলেন। আমার কথার কোন জবাব দিলেন না। পরে আমি শুনতে পেলাম যে, তিনি ফিরে যেতে যেতে আপন উরুতে করাঘাত করছিলেন এবং কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করছিলেন- وَكَانَ الْإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلاً ‘‘মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই বিতর্ক প্রিয়’’- (সূরাহ্ আল-কাহ্ফ ১৮/৫৪)।
১১৪৬
তাহাজ্জুদ যে ব্যক্তি রাতের প্রথমাংশে ঘুমিয়ে থাকে এবং শেষ অংশকে (সালাত ও যিকরের মাধ্যমে) প্রাণবন্ত করে।
আসওয়াদ (রহ.)
আসওয়াদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত কেমন ছিল? তিনি বলেন, তিনি প্রথমাংশে ঘুমাতেন, শেষাংশে জেগে সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তাঁর শয্যায় ফিরে যেতেন, মুআয্যিন আযান দিলে শীঘ্র উঠে পড়তেন, তখন তাঁর প্রয়োজন থাকলে গোসল করতেন, নইলে উযূ করে (মসজিদের দিকে) বেরিয়ে যেতেন।