৩৪৯৯
মোট হাদিস
৩৪৯৯
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
৯৮/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৪৯৯
৯৭১
দুই’ঈদ মিনা’র দিনগুলোতে এবং সকালে আরাফাহ্য় যাওয়ার সময় তাকবীর বলা।
উম্মু ‘আতিয়্যাহ (রাযি.)
উম্মু ‘আতিয়্যাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন আমাদের বের হবার আদেশ দেয়া হত। এমন কি আমরা কুমারী মেয়েদেরকেও অন্দর মহল হতে বের করতাম এবং ঋতুমতী মেয়েদেরকেও। তারা পুরুষদের পিছনে থাকতো এবং তাদের তাকবীরের সাথে তাকবীর বলতো এবং তাদের দু‘আর সাথে দু‘আ করত- সে দিনের বরকত এবং পবিত্রতা তারা আশা করত।
৯৭২
দুই’ঈদ ‘ঈদের দিন যুদ্ধের হাতিয়ারের সম্মুখে সালাত আদায়।
ইবনু ‘উমার (রাযি.)
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। ‘ঈদুল ফিতর ও কুরবানীর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে যুদ্ধের হাতিয়ার রেখে দেয়া হত। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করতেন।
৯৭৩
দুই’ঈদ ঈদের দিন ইমামের সামনে বর্শা পুঁতে সালাত আদায় করা।
ইবনু ‘উমার (রাযি.)
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। ‘ঈদুল ফিতর ও কুরবানীর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে বর্শা পুঁতে দেয়া হত। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করতেন।
৯৭৪
দুই’ঈদ নারীদের ও ঋতুমতীদের ‘ঈদগাহে যাওয়া।
উম্মু ‘আতিয়্যাহ (রাযি.)
উম্মু ‘আতিয়্যাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন (‘ঈদের সালাতের উদ্দেশে) যুবতী ও পর্দানশীন মেয়েদের নিয়ে যাবার জন্য আমাদের নির্দেশ দেয়া হতো। আইয়ূব (রহ.) হতে হাফসাহ (রাযি.) সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত আছে এবং হাফসাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত রিওয়ায়াতে অতিরিক্ত বর্ণনা আছে, ‘ঈদগাহে ঋতুমতী নারীরা আলাদা থাকতেন।
৯৭৫
দুই’ঈদ বালকদের ‘ঈদমাঠে গমন।
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ‘ঈদুল ফিতর বা আযহার দিন বের হলাম। তিনি সালাত আদায় করলেন। অতঃপর খুৎবাহ দিলেন। অতঃপর নারীদের নিকট গিয়ে তাঁদের নাসীহাত করলেন এবং তাঁদেরকে সদাক্বাহ করার নির্দেশ দিলেন।
৯৭৬
দুই’ঈদ ঈদের খুত্বাহ দেয়ার সময় মুসল্লীদের প্রতি ইমামের মুখ করে দাঁড়ানো।
বারাআ (রাযি.)
বারাআ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল আযহার দিন বাকী‘তে (নামক কবরস্থানে) যান। অতঃপর তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে আমাদের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন এবং তিনি বললেন, আজকের দিনের প্রথম ‘ইবাদাত হল সালাত আদায় করা। অতঃপর ফিরে গিয়ে কুরবানী করা। যে ব্যক্তি এরূপ করবে সে আমাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করবে। আর যে এর পূর্বেই যবেহ করবে তা হলে তার যবেহ হবে এমন একটি কাজ, যা সে নিজের পরিবারবর্গের জন্যই তাড়াতাড়ি করে ফেলেছে, এর সাথে কুরবানীর কোন সম্পর্ক নেই। তখন এক ব্যক্তি (আবূ বুরদাহ ইবনু নিয়ার (রাযি.) দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি (পূর্বেই) যবেহ করে ফেলেছি। এখন আমার নিকট এমন একটি মেষশাবক আছে যা পূর্ণবয়স্ক মেষের চেয়ে উত্তম। (এটা কুরবানী করব কি?) তিনি বললেন, এটাই যবেহ কর। তবে তোমার পর আর কারো জন্য তা যথেষ্ট হবে না।
৯৭৭
দুই’ঈদ ঈদগাহে চিহ্ন রাখা।
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে কখনো ‘ঈদে উপস্থিত হয়েছেন? তিনি বললেন হাঁ। যদি তাঁর নিকট আমার মর্যাদা না থাকত তা হলে কম বয়সী হবার কারণে আমি ‘ঈদে উপস্থিত হতে পারতাম না। তিনি বের হয়ে কাসীর ইবনু সালাতের গৃহের নিকট স্থাপিত নিশানার নিকট এলেন এবং সালাত আদায় করলেন। অতঃপর খুৎবাহ দিলেন। অতঃপর তিনি মহিলাগণের নিকট উপস্থিত হলেন। তখন তাঁর সঙ্গে বিলাল (রাযি.) ছিলেন। তিনি নারীদের উপদেশ দিলেন, নাসীহাত করলেন এবং দান সাদাকা করার জন্য নির্দেশ দিলেন। আমি তখন নারীদেরকে হাত বাড়িয়ে বিলাল (রাযি.)-এর কাপড়ে দান সামগ্রী ফেলতে দেখলাম। অতঃপর তিনি এবং বিলাল (রাযি.) নিজ বাড়ির দিকে চলে গেলেন।
৯৭৮
দুই’ঈদ ঈদের দিন নারীদের প্রতি ইমামের নাসীহাত করা।
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ফিত্রের দিন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন, পরে খুৎবাহ দিলেন। খুৎবাহ শেষে নেমে নারীদের নিকট আসলেন এবং তাঁদের নাসীহাত করলেন। তখন তিনি বিলাল (রাযি.)-এর হাতের উপর ভর দিয়ে ছিলেন এবং বিলাল (রাযি.) তাঁর কাপড় প্রসারিত করে ধরলেন। এতে নারীগণ দান সামগ্রী ফেলতে লাগলেন আমি (ইবনু জুরায়জ) আত্বা (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, এ কি ‘ঈদুল ফিত্রের সাদাকা? তিনি বললেন না, বরং এ সাধারণ সাদাকা যা তাঁরা ঐ সময় দিচ্ছিলেন। কোন মহিলা তাঁর আংটি দান করলে অন্যান্য নারীরাও তাঁদের আংটি দান করতে লাগলেন। আমি আতা (রহ.)-কে (আবার), জিজ্ঞেস করলাম, মহিলাগণকে উপদেশ দেয়া কি ইমামের জন্য জরুরী? তিনি বললেন, অবশ্যই, তাদের উপর তা জরুরী। তাঁদের (অর্থাৎ ইমামগণের) কী হয়েছে যে, তাঁরা তা করবেন না?
৯৭৯
দুই’ঈদ ঈদের দিন নারীদের প্রতি ইমামের নাসীহাত করা।
ইবনু জুরায়জ (রহ.)
ইবনু জুরায়জ (রহ.) বলেছেন, হাসান ইবনু মুসলিম (রহ.) তাঊস (রহ.) এর মাধ্যমে ইবনু আব্বাস (রাযি.) হতে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর, ‘উমার ও উসমান (রাযি.)-এর সঙ্গে ‘ঈদুল ফিত্রে আমি উপস্থিত ছিলাম। তাঁরা খুৎবার পূর্বে সালাত আদায় করতেন, পরে খুৎবা দিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন, আমি যেন দেখতে পাচ্ছি তিনি হাতের ইঙ্গিতে (লোকদের) বসিয়ে দিচ্ছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের এ আয়াত পাঠ করলেনঃ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ ‘‘হে নবী! যখন ঈমানদার মহিলাগণ আপনার নিকট এ শর্তে বায়‘আত করতে আসেন..... (সূরাহ্ মুমতাহিনাহ ৬০/১২)। এ আয়াত শেষ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা এ বায়‘আতের উপর আছ? তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা বলল, হাঁ, সে ছাড়া আর কেউ এর জবাব দিল না। হাসান (রহ.) জানেন না, সে মহিলা কে? অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা সদাক্বাহ কর। সে সময় বিলাল (রাযি.) তাঁর কাপড় প্রসারিত করে বললেন, আমার মা-বাপ আপনাদের জন্য কুরবান হোক, আসুন, আপনারা দান করুন। তখন নারীগণ তাঁদের ছোট-বড় আংটিগুলো বিলাল (রাযি.)-এর কাপড়ের মধ্যে ফেলতে লাগলেন। আবদুর রাযযাক (রহ.) বলেন, الْفَتَخُ হলো বড় আংটি যা জাহিলী যুগে ব্যবহৃত হতো।
৯৮০
দুই’ঈদ ঈদের সালাতে যাওয়ার জন্য নারীদের ওড়না না থাকলে।
হাফসাহ বিনত সীরীন (রহ.)
হাফসাহ বিনত সীরীন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ‘ঈদের দিন আমাদের যুবতীদের বের হতে নিষেধ করতাম। একদা জনৈকা মহিলা এলেন এবং বনু খালাফের প্রাসাদে অবস্থান করলেন। আমি তাঁর নিকট গেলে তিনি বললেন, তাঁর ভগ্নিপতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে বারোটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, এর মধ্যে ছয়টি যুদ্ধে স্বয়ং তাঁর বোনও স্বামীর সাথে অংশগ্রহণ করেছেন, (মহিলা বলেন) আমার বোন বলেছেন, আমরা রুগ্নদের সেবা করতাম, আহতদের শুশ্রুষা করতাম। একবার তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমাদের কারো ওড়না না থাকে, তখন কি সে বের হবে না? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ অবস্থায় তার বান্ধবী যেন তাকে নিজ ওড়না পরিধান করতে দেয় এবং এভাবে মহিলাগণ যেন কল্যাণকর কাজে ও মু’মিনদের দু‘আয় অংশগ্রহণ করেন। হাফ্সাহ (রহ.) বলেন, যখন উম্মে আতিয়্যাহ (রাযি.) এলেন, তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম যে, আপনি কি এসব ব্যাপারে কিছু শুনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ, হাফসাহ (রহ.) বলেন, আমরা পিতা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য উৎসর্গিত হোক এবং তিনি যখনই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নাম উল্লেখ করতেন, তখনই একথা বলতেন। তাঁবুতে অবস্থানকারিণী যুবতীরা এবং ঋতুমতী নারীরা যেন বের হন। তবে ঋতুমতী নারীরা যেন সালাতের স্থান হতে সরে থাকেন। তারা সকলেই যেন কল্যাণকর কাজে ও মু’মিনদের দু‘আয় অংশগ্রহণ করেন। হাফ্সা (রহ.) বলেন, আমি তাকে বললাম, ঋতুমতী নারীরাও? তিনি বললেন, হাঁ, ঋতুমতী নারী কি আরাফাত এবং অন্যান্য স্থানে উপস্থিত হয় না?