৩৪৯৯
মোট হাদিস
৩৪৯৯
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
৯১/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৪৯৯
৯০১
জুমু‘আহ বৃষ্টির কারণে জুমু‘আহর সালাতে উপস্থিত না হবার অবকাশ।
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর মুয়ায্যিনকে এক প্রবল বর্ষণের দিনে বললেন, যখন তুমি (আযানে) ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ বলবে, তখন ‘হাইয়া আলাস্ সালাহ্’ বলবে না, বলবে, ‘‘সাল্লু ফী বুয়ুতিকুম’’ (তোমরা নিজ নিজ বাসগৃহে সালাত আদায় কর)। তা লোকেরা অপছন্দ করল। তখন তিনি বললেনঃ আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তিই (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) তা করেছেন। জুমু‘আহ নিঃসন্দেহে জরুরী। আমি অপছন্দ করি তোমাদেরকে মাটি ও কাদার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করার অসুবিধায় ফেলতে।
৯০২
জুমু‘আহ কতদূর হতে জুমু‘আহর সালাতে আসবে এবং জুমু‘আহ কার উপর ওয়াজিব?
আয়িশাহ্ (রাযি.)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকজন তাদের বাড়ি ও উঁচু এলাকা হতেও জুমু‘আহর সালাতের জন্য পালাক্রমে আসতেন। আর যেহেতু তারা ধুলো-বালির মধ্য দিয়ে আগমন করতেন, তাই তারা ধূলি মলিন ও ঘর্মাক্ত হয়ে যেতেন। তাঁদের দেহ হতে ঘাম বের হত। একদা তাদের একজন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আসেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট ছিলেন। তিনি তাঁকে বললেনঃ যদি তোমরা এ দিনটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে।
৯০৩
জুমু‘আহ সূর্য হেলে গেলে জুমু‘আহর সময় হয়।
ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা‘ঈদ (রহ.)
ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা‘ঈদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘আমরাহ (রহ.)-কে জুমু‘আহর দিনে গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। ‘আমরাহ (রহ.) বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেছেন যে, লোকজন নিজেদের কাজকর্ম নিজেরাই করতেন। যখন তারা দুপুরের পরে জুমু‘আহর জন্য যেতেন তখন সে অবস্থায়ই চলে যেতেন। তাই তাঁদের বলা হল, যদি তোমরা গোসল করে নিতে।
৯০৪
জুমু‘আহ সূর্য হেলে গেলে জুমু‘আহর সময় হয়।
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহর সালাত আদায় করতেন, যখন সূর্য হেলে যেতো।
৯০৫
জুমু‘আহ সূর্য হেলে গেলে জুমু‘আহর সময় হয়।
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা প্রথম ওয়াক্তেই জুমু‘আহর সালাতে যেতাম এবং জুমু‘আহর পরে কাইলূলা (দুপুরের বিশ্রাম) করতাম।
৯০৬
জুমু‘আহ জুমু‘আহর দিন যখন সূর্যের উত্তাপ প্রখর হয়।
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচন্ড শীতের সময় প্রথম ওয়াক্তেই সালাত আদায় করতেন। আর তীব্র গরমের সময় ঠান্ডা করে (বিলম্ব করে- সালাত আদায় করতেন। অর্থাৎ জুমু‘আহর সালাত। ইউনুস ইবনু বুকায়র (রহ.) আমাদের বলেছেন, আর তিনি সালাত শব্দের উল্লেখ করেছেন, জুমু‘আহ শব্দের উল্লেখ করেননি। আর বিশ্র ইবনু সাবিত (রহ.) বলেন, আমাদের নিকট আবূ খালদাহ (রহ.) বর্ণনা করেছেন যে, জুমু‘আহর ইমাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। অতঃপর তিনি আনাস (রাযি.)-কে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত কিরূপে আদায় করতেন?
৯০৭
জুমু‘আহ জুমু‘আহর জন্য পায়ে হেঁটে চলা
আবায়া ইবনু রিফা‘আহ (রহ.)
আবায়া ইবনু রিফা‘আহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জুমু‘আহর সালাতে যাবার কালে আবূ আবস্ (রাযি.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, যার দু’পা আল্লাহর পথে ধূলি ধূসরিত হয়, আল্লাহ্ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেন।
৯০৮
জুমু‘আহ জুমু‘আহর জন্য পায়ে হেঁটে চলা
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, যখন সালাত শুরু হয়, তখন দৌড়িয়ে গিয়ে সালাতে যোগদান করবে না, বরং হেঁটে গিয়ে সালাতে যোগদান করবে। সালাতে ধীর-স্থিরভাবে যাওয়া তোমাদের জন্য অপরিহার্য। কাজেই জামা‘আতের সাথে সালাত যতটুকু পাও আদায় কর, আর যা ছুটে গেছে, পরে তা পূর্ণ করে নাও।
৯০৯
জুমু‘আহ জুমু‘আহর জন্য পায়ে হেঁটে চলা
আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাযি.)
আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত সালাতে দাঁড়াবে না। তোমাদের জন্য ধীর-স্থির থাকা অত্যাবশ্যক।
৯১০
জুমু‘আহ জুমু‘আহর দিন দু’জনের মাঝে ফাঁক করে না।
সালমান ফারিসী (রাযি.)
সালমান ফারিসী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমু‘আহর দিন গোসল করে এবং যথাসম্ভব উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, অতঃপর তেল মেখে নেয় অথবা সুগন্ধি ব্যবহার করে, অতঃপর (মসজিদে) যায়, আর দু’জনের মধ্যে ফাঁক করে না এবং তার ভাগ্যে নির্ধারিত পরিমাণ সালাত আদায় করে। আর ইমাম যখন (খুৎবাহর জন্য) বের হন তখন চুপ থাকে।তার এ জুমু‘আহ এবং পরবর্তী জুমু‘আহর মধ্যবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।