৩৪৯৯
মোট হাদিস
৩৪৯৯
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
৮৩/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৪৯৯
৮২২
আযান সিজদা্য় কনুই বিছিয়ে না দেয়া।
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সিজদায় (অঙ্গ প্রত্যঙ্গের) সামঞ্জস্য রক্ষা কর এবং তোমাদের মধ্যে কেউ যেন দু’ হাত বিছিয়ে না দেয়, যেমন কুকুর বিছিয়ে দেয়।
৮২৩
আযান সালাতের বেজোড় রাক‘আতে সিজদা্ হতে উঠে বসার পর দন্ডায়মান হওয়া।
মালিক ইবনু হুয়াইরিস লাইসী (রাযি.)
মালিক ইবনু হুয়াইরিস লাইসী (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। তিনি তাঁর সালাতের বেজোড় রাক‘আতে (সাজ্দাহ হতে) উঠে না বসে দাঁড়াতেন না।
৮২৪
আযান রাক‘আত শেষে কীরূপে জমিতে ভর দিয়ে দাঁড়াবে।
আবু কিলাবাহ (রাযি.)
আবু কিলাবাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু হুয়াইরিস (রাযি.) এসে আমাদের এ মসজিদে আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি বললেন, আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব। এখন আমার সালাত আদায়ের কোন ইচ্ছা ছিল না, তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি তা তোমাদের দেখাতে চাই। আইয়ুব (রহ.) বলেন, আমি আবূ ক্বিলাবাহ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তাঁর [মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাযি.)-এর] সালাত কীরূপ ছিল? তিনি [আবূ ক্বিলাবাহ (রহ.)] বলেন, আমাদের এ শায়খ অর্থাৎ আমর ইবনু সালিমাহ (রহ.)-এর সালাতের মতো। আইয়ুব (রহ.) বললেন, শায়খ তাকবীর পূর্ণ বলতেন এবং যখন দ্বিতীয় সিজদা্ হতে মাথা উঠাতেন তখন বসতেন, অতঃপর মাটিতে ভর দিয়ে দাঁড়াতেন।
৮২৫
আযান দু’ সিজদার শেষে উঠার সময় তাক্বীর বলবে।
সা‘ঈদ ইবনু হারিস (রাযি.)
সা‘ঈদ ইবনু হারিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) সালাতে আমাদের ইমামাত করেন। তিনি প্রথম সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময়, দ্বিতীয় সিজদা্করার সময়, দ্বিতীয় সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময় এবং দু’ রাক‘আত শেষে (তাশাহ্হুদের বৈঠকের পর) দাঁড়ানোর সময় সশব্দে তাকবীর বলেন। তিনি বলেন, আমি এভাবেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে (সালাত আদায় করতে) দেখেছি।
৮২৬
আযান দু’ সিজদার শেষে উঠার সময় তাক্বীর বলবে।
মুতাররিফ (রাযি.)
মুতাররিফ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও ‘ইমরান (রাযি.) একবার ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযি.)-এর পিছনে সালাত আদায় করি। তিনি সিজদা্ করার সময় তাক্বির বলেছেন। উঠার সময় তাক্বির বলেছেন এবং দু’ রাক‘আত শেষে দাঁড়ানোর সময় তাক্বির বলেছেন। সালাম ফিরানোর পর ‘ইমরান (রহ.) আমার হাত ধরে বললেন, ইনি তো (‘আলী) আমাকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত স্মরণ করিয়ে দিলেন।
৮২৭
আযান তাশাহ্হুদে বসার নিয়ম।
আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু মালিক ইব্‌নু বুহাইনাহ (রাযি.)
‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু উমার (রাযি.)-কে সালাতে আসন পিঁড়ি করে বসতে দেখেছেন। ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাযি.) বলেন, আমি সে সময় অল্প বয়স্ক ছিলাম। আমিও এমন করলাম। ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘উমার (রাযি.) আমাকে নিষেধ করলেন এবং তিনি বললেন, সালাতে (বসার) সুন্নাত তরীকা হল তুমি ডান পা খাড়া রাখবে এবং বাঁ পা বিছিয়ে রাখবে। তখন আমি বললাম, আপনি এমন করেন? তিনি বললেন, আমার দু’পা আমার ভার বহন করতে পারে না।
৮২৮
আযান তাশাহ্হুদে বসার নিয়ম।
মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর ইবনু ‘আত্বা (রহ.)
মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর ইবনু ‘আত্বা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর একদল সাহাবীর সঙ্গে বসা ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তখন আবূ হুমাইদ সা‘ঈদী (রাযি.) বলেন, আমিই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত সম্পর্কে অধিক স্মরণ রেখেছি। আমি তাঁকে দেখেছি (সালাত শুরু করার সময়) তিনি তাকবীর বলে দু’ হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন। আর যখন রুকূ‘ করতেন তখন দু’ হাত দিয়ে হাঁটু শক্ত করে ধরতেন এবং পিঠ সমান করে রাখতেন। অতঃপর রুকূ‘ হতে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন যাতে মেরুদন্ডের হাড়গুলো স্ব-স্ব স্থানে ফিরে আসতো। অতঃপর যখন সিজদা্ করতেন তখন দু’ হাত সম্পূর্ণভাবে মাটির উপর বিছিয়ে দিতেন না, আবার গুটিয়েও রাখতেন না। এবং তাঁর উভয় পায়ের আঙ্গুলির মাথা ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী করে দিতেন। যখন দু’রাকআতের পর বসতেন তখন বাম পা-এর উপর বসতেন আর ডান পা খাড়া করে দিতেন এবং যখন শেষ রাক‘আতে বসতেন তখন বাঁ পা এগিয়ে দিয়ে ডান পা খাড়া করে নিতম্বের উপর বসতেন। লায়স (রহ.) ....... ইবনু আত্বা (রহ.) হতে হাদীসটি শুনেছেন। আবূ সালিহ্ (রহ.) লায়স (রহ.) হতে كُلُّ قَفَارٍ বলেছেন। আর ইবনু মুবারক (রহ.) ..... মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর (রহ.) হতে كُلُّ فَقَارٍ বর্ণনা করেছেন।
৮২৯
আযান যারা প্রথম বৈঠকে তাশাহ্হুদ ওয়াজিব নয় বলে মনে করেন।
আবদুর রহমান ইবনু হুরমুয (রাযি.)
বানূ ‘আবদুল মুত্তালিবের আযাদকৃত দাস এবং রাবী কোন সময়ে বলেছেন রাবীয়া ইবনু হারিসের আদাকৃত দাস, ‘আবদুর রহমান ইবনু হুরমুয (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, বনূ ‘আব্দ মানাফের বন্ধু গোত্র আয্দ শানআর লোক ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু বুহাইনাহ (রাযি.) যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবীগণের অন্যতম। তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের নিয়ে যুহরের সালাত আদায় করলেন। তিনি প্রথমে দু’ রাকাআত পড়ার পর না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। মুক্তাদীগণ তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেলেন। এভাবে সালাতের শেষভাবে মুক্তাদীগণ সালামের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসাবস্থায় তাকবীর বললেন এবং সালাম ফিরানোর পূর্বে দু’বার সিজদা্ করলেন, এরপর সালাম ফিরালেন।
৮৩০
আযান প্রথম বৈঠকে তাশাহ্হুদ পড়া।
আবদুল্লাহ্ ইবনু মালিক (রাযি.)
আবদুল্লাহ্ ইবনু মালিক (রাযি.)- যিনি ইবনু বুহাইনা- হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে যুহরের সালাত আদায় করলেন। দু’ রাক‘আত পড়ার পর তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন অথচ তাঁর বসা জরুরী ছিল। অতঃপর সালাতের শেষভাগে বসে তিনি দু’টো সিজদা্ করলেন।
৮৩১
আযান শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ পড়া।
শাকীক ইবনু সালামাহ (রাযি.)
শাকীক ইবনু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাযি.) বলেন, আমরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে সালাত আদায় করতাম, তখন আমরা বলতাম, ‘‘আস্সালামু আলা জিব্রীল ওয়া মিকাইল এবং আস্সালামু আলা ফুলান ওয়া ফুলান।’’ তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ আল্লাহ্ নিজেই তো সালাম, তাই যখন তোমরা কেউ সালাত আদায় করবে, তখন সে যেন বলে- التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ ‘‘সকল মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ‘ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর বর্ষিত হোক।’’ কেননা, যখন তোমরা এ বলবে তখন আসমান ও যমীনের আল্লাহর সকল নেক বান্দার নিকট পৌঁছে যাবে। এর সঙ্গে اَشْهَدُ أَنْ لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল)-ও পড়বে।