৩৪৯৯
মোট হাদিস
৩৪৯৯
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
৮০/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৪৯৯
৭৯২
আযান রুকূ‘ পূর্ণ করার সীমা এবং এতে মধ্যম পন্থা ও ধীরস্থিরতা অবলম্বন।
বারাআ (রাযি.)
বারাআ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতে দাঁড়ানো ও বসা অবস্থা ছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রুকূ’, সিজদা্ এবং দু’ সিজদার মধ্যবর্তী সময় এবং রুকূ’ হতে উঠে দাঁড়ানো, এগুলো প্রায় সমপরিমাণ ছিল।
৭৯৩
আযান যে ব্যক্তি সঠিকভাবে রুকূ‘ করেনি তাকে পুনরায় সালাত আদায়ের জন্য নাবী ﷺ-এর নির্দেশ।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। একসময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে তাশরীফ আনলেন, তখন এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করলো। অতঃপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাম করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের জবাব দিয়ে বললেনঃ তুমি ফিরে গিয়ে সালাত আদায় কর, কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। লোকটি আবার সালাত আদায় করল এবং আবার এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাম দিল। তিনি বললেনঃ আবার গিয়ে সালাত আদায় কর, কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। এভাবে তিনবার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল। অতঃপর লোকটি বলল, সে মহান সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি এর চেয়ে সুন্দর সালাত আদায় করতে জানি না। কাজেই, আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। তখন তিনি বললেনঃ যখন তুমি সালাতে দাঁড়াবে, তখন তাকবীর বলবে। অতঃপর কুরআন হতে যতটুকু তোমার পক্ষে সহজ ততটুকু পড়বে। অতঃপর রুকূ‘তে যাবে এবং ধীরস্থিরভাবে রুকূ‘ আদায় করবে। অতঃপর রুকূ‘ হতে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। ধীরস্থিরভাবে সিজদা্ করবে। অতঃপর সিজদা্ হতে উঠে স্থিরভাবে বসবে এবং পুনরায় সিজদা্য় গিয়ে স্থিরভাবে সিজদা্ করবে। অতঃপর পুরো সালাত এভাবে আদায় করবে।
৭৯৪
আযান রুকূ‘তে দু‘আ।
আয়িশাহ্ (রাযি.)
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘ ও সিজদা্য় এ দু‘আ পড়তেন-سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ‘‘হে আমাদের রব আল্লাহ্! আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ্! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন’’।
৭৯৫
আযান রুকূ‘ হতে মাথা উঠানোর সময় ইমাম ও মুক্তাদী যা বলবেন।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে (রুকূ‘ হতে উঠতেন) তখন اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলতেন, আর তিনি যখন রুকূ‘তে যেতেন এবং রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন, তখন তাকবীর বলতেন এবং উভয় সিজদা্ হতে যখন দাঁড়াতেন, তখন اللهُ أَكْبَرُ বলতেন।
৭৯৬
আযান ‘আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’-এর ফযীলত।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলেন, তখন তোমরা اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ বলবে। কেননা, যার এ উক্তি মালাইকাহর উক্তির সঙ্গে একই সময়ে উচ্চারিত হয়, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।
৭৯৭
আযান পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ (রাযি.)
আবূ হুরায়রাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অবশ্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করব। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) যুহর, ‘ইশা ও ফজরের সালাতের শেষ রাক‘আতেঃسَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ’ বলার পর কুনূত পড়তেন। এতে তিনি মু’মিনগণের জন্য দু‘আ করতেন এবং কাফিরদের প্রতি অভিসম্পাত করতেন।
৭৯৮
আযান পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাযি.)
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময়ে) কুনূত ফজর ও মাগরিবের সালাতে পড়া হত।
৭৯৯
আযান পরিচ্ছেদ নাই
রিফা‘আহ ইবনু রাফি’ যুরাকী (রাযি.)
রিফা‘আহ ইবনু রাফি’ যুরাকী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠিয়ে سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বললেন, তখন পিছন হতে এক সাহাবা رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ বললেন। সালাত শেষ করে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে এরূপ বলেছিল? সে সাহাবী বললেন, আমি। তখন তিনি বললেনঃ আমি দেখলাম ত্রিশ জনের অধিক মালাইকাহ এর সওয়াব কে পূর্বে লিখবেন তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছেন।
৮০০
আযান রুকূ‘ হতে মাথা উঠানোর পর স্থির হওয়া।
সাবিত (রহ.)
সাবিত (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) আমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের বর্ণনা দিলেন। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করে দেখালেন। তিনি যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠালেন, তখন (এতক্ষণ) দাঁড়িয়ে রইলেন যে, আমরা মনে করলাম, তিনি (সিজদার কথা) ভুলে গেছেন।
৮০১
আযান রুকূ‘ হতে মাথা উঠানোর পর স্থির হওয়া।
বারাআ (রাযি.)
বারাআ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রুকূ‘ ও সিজদা্ এবং তিনি যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন, এবং দু‘ সিজদার মধ্যবর্তী সময় সবই প্রায় সমান হত।