৩৪৯৯
মোট হাদিস
৩৪৯৯
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
৭২/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৪৯৯
৭১১
আযান নিজের সালাত আদায় করার পর অন্য লোকের ইমামাত করা।
জাবির (রাযি.)
জাবির (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু‘আয (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সালাত আদায় করে নিজ গোত্রে ফিরে গিয়ে তাদের ইমামাত করতেন।
৭১২
আযান লোকদেরকে ইমামের তাকবীর শোনান।
আয়িশাহ্ (রাযি.)
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগে আক্রান্ত থাকাকালে একবার বিলাল (রাযি.) তাঁর নিকট এসে সালাতের (সময় হওয়ার) সংবাদ দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আবূ বকরকে বল, যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেন] আমি বললাম, আবূ বকর (রাযি.) কোমল হৃদয়ের লোক, তিনি আপনার স্থানে দাঁড়ালে কেঁদে ফেলবেন এবং কিরাআত পড়তে পারবেন না। তিনি আবার বললেনঃ আবূ বকরকে বল, সালাত আদায় করতে। আমি আবারও সেকথা বললাম। তখন তৃতীয় বা চতুর্থবারে তিনি বললেন, তোমরা তো ইউসুফের (‘আ.)-সাথী রমণীদেরই মত। আবূ বকর (রাযি.)-কে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। আবূ বকর (রাযি.) লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন, ইতোমধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’জন লোকের কাঁধে ভর করে বের হলেন। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেন]ঃ আমি যেন এখনও সে দৃশ্য দেখতে পাই, তিনি দু’ পা মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়িয়ে যান। আবূ বকর (রাযি.) তাঁকে দেখতে পেয়ে পিছনে সরে আসতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইঙ্গিতে তাঁকে সালাত আদায় করতে বললেন, (তবুও) আবূ বকর (রাযি.) পিছনে সরে আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পাশে বসলেন, আবূ বকর (রাযি.) তাকবীর শুনাতে লাগলেন। মুহাযির (রহ.) আমাশ (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু দাঊদ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন।
৭১৩
আযান কোন ব্যক্তির ইমামের অনুসরণ করা এবং অন্যদের সেই মুক্তাদীর ইক্তিদা করা।
আয়িশাহ্ (রাযি.)
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (রোগে) পীড়িত হয়ে পড়েছিলেন, বিলাল (রাযি.) এসে সালাতের কথা বললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবূ বকরকে বল, লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ বকর (রাযি.) অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন সাহাবীগণকে কিছুই শুনাতে পারবেন না। যদি আপনি ‘উমার (রাযি.)-কে এ নির্দেশ দেন (তবে ভাল হয়)। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেনঃ লোকদের নিয়ে আবূ বকর (রাযি.)-কে সালাত আদায় করতে বল। আমি হাফ্সাহ (রাযি.)-কে বললাম, তুমি তাঁকে একটু বল যে, আবূ বকর (রাযি.) অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি যখন আপনার বদলে সে স্থানে দাঁড়াবেন, তখন সাহাবীগণকে কিছুই শোনাতে পারবেন না। যদি আপনি ‘উমার (রাযি.)-কে এ নির্দেশ দিতেন (তবে ভাল হতো)। এ শুনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা ইউসুফের সাথী নারীদেরই মতো। আবূ বকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। আবূ বকর (রাযি.) লোকদের নিয়ে সালাত শুরু করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে একটু সুস্থবোধ করলেন এবং দু’জন সাহাবীর কাঁধে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে মসজিদে গেলেন। তাঁর দু’ পা মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়ে যাচ্ছিল। আবূ বকর (রাযি.) যখন তাঁর আগমন টের পেলেন, পিছনে সরে যেতে উদ্যত হলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি ইঙ্গিত করলেন (স্বস্থানে থাকার জন্য)। অতঃপর তিনি এসে আবূ বকর (রাযি.)-এর বামপাশে বসে গেলেন। অবশেষে আবূ বকর (রাযি.) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আর সাহাবীগণ আবূ বকর (রাযি.)-এর সালাতের অনুসরণ করছিল।
৭১৪
আযান ইমামের সন্দেহ হলে মুক্তাদীদের মত গ্রহণ করা।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ রাক‘আত আদায় করে সালাত শেষ করে ফেললেন। যূল-ইয়াদাইন (রাযি.) তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সালাত কি কম করা হয়েছে, না আপনি ভুলে গেছেন? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অন্যদের লক্ষ্য করে) বললেনঃ যূল-ইয়াদাইন কি ঠিক বলছে? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং আরও দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর সালাম ফিরালেন এবং তাকবির বলে স্বাভাবিক সিজদার মতো অথবা তার চেয়ে দীর্ঘ সিজদা্ করলেন।
৭১৫
আযান ইমামের সন্দেহ হলে মুক্তাদীদের মত গ্রহণ করা।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত দু’ রাক‘আত আদায় করলেন। তাঁকে বলা হল, আপনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। তখন তিনি আরও দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন এবং সালাম ফিরানোর পর দু’টি (সাহু) সিজদা্ করলেন।
৭১৬
আযান সালাতে ইমাম কেঁদে ফেললে।
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অন্তিম) রোগে আক্রান্ত অবস্থায় বললেনঃ আবূ বকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি তাঁকে বললাম, আবূ বকর (রাযি.) যখন আপনার স্থলে দাঁড়াবেন, তখন কান্নার কারণে সাহাবীগণকে কিছুই শুনাতে পারবেন না। কাজেই ‘উমার (রাযি.)-কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেনঃ আবূ বকরকে বল লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নিতে। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, তখন আমি হাফসাহ (রাযি.)-কে বললাম, তুমি তাঁকে বল যে, আবূ বকর (রাযি.) যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন কান্নার কারণে সাহাবীগণকে কিছুই শুনাতে পারবেন না। কাজেই ‘উমার (রাযি.)-কে বলুন তিনি যেন সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করেন। হাফ্সা (রাযি.) তাই করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ থামো! তোমরা ইউসুফের সাথী মহিলাদেরই মতো। আবূ বকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। এতে হাফসাহ (রাযি.) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে (দুঃখ করে) বললেন, তোমার কাছ হতে আমি কখনো ভাল কিছু পাইনি।
৭১৭
আযান ইক্বামাতের সময় এবং এর পরে কাতার সোজা করা।
নু‘মান ইবনু বশীর (রাযি.)
নু‘মান ইবনু বশীর (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা অবশ্যই কাতার সোজা করে নিবে, তা না হলে আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করে দিবেন।
৭১৮
আযান ইক্বামাতের সময় এবং এর পরে কাতার সোজা করা।
আনাস (রাযি.)
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা কাতার সোজা করে নিবে। কেননা, আমি আমার পিছনে তোমাদেরকে দেখতে পাই।
৭১৯
আযান কাতার সোজা করার সময় মুক্তাদীগণের প্রতি ইমামের ফিরে দেখা।
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হচ্ছে, এমন সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে মুখ করে তাকালেন এবং বললেনঃ তোমাদের কাতারগুলো সোজা করে নাও আর মিলে দাঁড়াও। কেননা, আমি আমার পিছনে তোমাদেরকে দেখতে পাই।
৭২০
আযান প্রথম কাতার।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পানিতে ডুবে, কলেরায়, প্লেগে এবং ভূমিধসে বা চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তিরা শহীদ।