৩৪৯৯
মোট হাদিস
৩৪৯৯
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
৬০/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৪৯৯
৫৯১
সালাতের সময়সমূহ আসরের পর কাযা বা অনুরূপ কোন সালাত আদায় করা।
আয়িশাহ্ (রাযি.)
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে ভাগ্নে! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট উপস্থিত থাকার কালে ‘আসরের পরবর্তী দু’রাক‘আত কখনও ছাড়েননি।
৫৯২
সালাতের সময়সমূহ আসরের পর কাযা বা অনুরূপ কোন সালাত আদায় করা।
আয়িশাহ্ (রাযি.)
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু’রাক‘আত সালাত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রকাশ্যে বা গোপনে কোন অবস্থাতেই ছাড়তেন না। তাহলো ফজরের সালাতের পূর্বের দু’রাক‘আত ও ‘আসরের পরের দু’রাক‘আত।
৫৯৩
সালাতের সময়সমূহ আসরের পর কাযা বা অনুরূপ কোন সালাত আদায় করা।
আয়িশাহ্ (রাযি.)
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দিনই ‘আসরের পর আমার নিকট আসতেন সে দিনই দু’রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।
৫৯৪
সালাতের সময়সমূহ মেঘলা দিনে জলদি সালাত আদায় করা।
আবূ মালীহ্ (রাযি.)
আবূ মালীহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মেঘলা দিনে আমরা বুরাইদা (রাযি.)-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেন, শীঘ্র সালাত আদায় করে নাও। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ‘আসরের সালাত ছেড়ে দেয় তার সমস্ত ‘আমল বিনষ্ট হয়ে যায়।
৫৯৫
সালাতের সময়সমূহ সময় চলে যাওয়ার পর আযান দেয়া।
আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.)
আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম। যাত্রী দলের কেউ কেউ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! রাতের এ শেষ প্রহরে আমাদের নিয়ে যদি একটু বিশ্রাম নিতেন। রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার ভয় হচ্ছে সালাতের সময়ও তোমরা ঘুমিয়ে থাকবে। বিলাল (রাযি.) বললেন, আমি আপনাদের জাগিয়ে দিব। কাজেই সবাই শুয়ে পড়লেন। এ দিকে বিলাল (রাযি.) তাঁর হাওদার গায়ে একটু হেলান দিয়ে বসলেন। এতে তাঁর দু’চোখ মুদে আসলো। ফলে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। সূর্য কেবল উঠতে শুরু করেছে, এমন সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হলেন এবং বিলাল (রাযি.)-কে ডেকে বললেন, হে বিলাল! তোমার কথা গেলো কোথায়? বিলাল (রাযি.) বললেন, আমার এতো অধিক ঘুম আর কখনও পায়নি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা যখন ইচ্ছা করেছেন তখন তোমাদের রূহ্ কবয করে নিয়েছেন; আবার যখন ইচ্ছা করেছেন তখন তা তোমাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। হে বিলাল! উঠ, লোকদের জন্য সালাতের আযান দাও। অতঃপর তিনি উযূ করলেন এবং সূর্য যখন উপরে উঠল এবং উজ্জ্বল হলো তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং সালাত আদায় করলেন।
৫৯৬
সালাতের সময়সমূহ সময় চলে যাওয়ার পর লোকদের নিয়ে জামা‘আতে সালাত আদায় করা।
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ (রাযি.)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, খন্দকের দিন সূর্য অস্ত যাওয়ার পর ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাযি.) এসে কুরাইশ গোত্রীয় কাফিরদের ভৎর্সনা করতে লাগলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এখনও ‘আসরের সালাত আদায় করতে পারিনি, এমন কি সূর্য অস্ত যায় যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আল্লাহর শপথ! আমিও তা আদায় করিনি। অতঃপর আমরা উঠে বুতহানের দিকে গেলাম। সেখানে তিনি সালাতের জন্য উযূ করলেন এবং আমরাও উযূ করলাম; অতঃপর সূর্য ডুবে গেলে ‘আসরের সালাত আদায় করেন, অতঃপর মাগরিবের সালাত আদায় করেন।
৫৯৭
সালাতের সময়সমূহ কেউ যদি কোন ওয়াক্তের সালাত আদায় করতে ভুলে যায়, তাহলে যখন স্মরণ হবে, তখন সে তা আদায় করে নিবে। সে সালাত ব্যতীত অন্য সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে না।
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কেউ কোনো সালাতের কথা ভুলে যায়, তাহলে যখনই স্মরণ হবে, তখন তাকে তা আদায় করতে হবে। এ ব্যতীত সে সালাতের অন্য কোনো কাফ্ফারা নেই। (কেননা, আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন) ‘‘আমাকে স্মরণের উদ্দেশে সালাত কায়িম কর’’- (সূরাহ্ ত্বা-হা ২০/১৪)। মূসা (রহ.) বলেন, হাম্মাম (রহ.) বলেছেন যে, আমি তাকে [কাতাদাহ (রহ.)] পরে বলতে শুনেছি, ‘‘আমাকে স্মরণের উদ্দেশে সালাত কায়িম কর।’’ (সূরাহ্ ত্বা-হা ২০/১৪) হাববান (রহ.) বলেন, আনাস (রাযি.)-এর সূত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।
৫৯৮
সালাতের সময়সমূহ একাধিক সালাতের কাযা ক্রমান্বয়ে আদায় করা।
জাবির (রাযি.)
জাবির (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধকালে এক সময় ‘উমার (রাযি.) কুরাইশ কাফিরদের তিরস্কার করতে লাগলেন এবং বললেন, সূর্যাস্তের পূর্বে আমি ‘আসরের সালাত আদায় করতে পারিনি, [জাবির (রাযি.) বলেন] অতঃপর আমরা বুতহান উপত্যকায় উপস্থিত হলাম। সেখানে তিনি সূর্যাস্তের পর সে সালাত আদায় করলেন, তার পরে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন।
৫৯৯
সালাতের সময়সমূহ ইশার সালাতের পর গল্প গুজব করা মাকরূহ।
আবূ মিনহাল (রহ.)
আবূ মিনহাল (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে আবূ বারযা আসলামী (রাযি.)-এর নিকট গেলাম। আমার পিতা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরজ সালাতসমূহ কোন্ সময় আদায় করতেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত যাকে তোমরা প্রথম সালাত বলে থাকো, সূর্য ঢলে পড়লে আদায় করতেন। আর তিনি ’আসরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যে, আমাদের কেউ সূর্য সজীব থাকতেই মদিনার শেষ প্রান্তে নিজ পরিজনের নিকট ফিরে আসতে পারতো। মাগরিব সম্পর্কে তিনি কী বলেছিলেন, তা আমি ভুলে গেছি। অতঃপর আবূ বারযা (রাযি.) বলেন, ’ইশার সালাত একটু বিলম্বে আদায় করাকে তিনি পছন্দ করতেন। আর ’ইশার পূর্বে ঘুমানো এবং পরে কথাবার্তা বলা তিনি অপছন্দ করতেন। আর এমন মুহূর্তে তিনি ফজরের সালাত শেষ করতেন যে, আমাদের যে কেউ তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিকে চিনতে পারত। এ সালাতে তিনি ষাট হতে একশত আয়াত তিলাওয়াত করতেন।
৬০০
সালাতের সময়সমূহ ইশার পর জ্ঞানচর্চা ও কল্যাণকর বিষয়ের আলোচনা।
কুররাহ ইবনু খালিদ (রহ.)
কুররাহ ইবনু খালিদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা হাসান বসরী (রহ.)-এর অপেক্ষায় ছিলাম। তিনি এতো বিলম্বে আসলেন যে, নিয়মিত সালাত শেষে চলে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসলো। এরপর তিনি এসে বললেন, আমাদের এ প্রতিবেশীগণ আমাদের ডেকেছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) বর্ণনা করেছেন, এক রাতে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অপেক্ষায় ছিলাম। এমন কি প্রায় অর্ধেক রাত হয়ে গেলো, তখন এসে তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর আমাদের সম্বোধন করে তিনি বললেনঃ জেনে রাখ! লোকেরা সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে, তবে তোমরা যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় ছিলে ততক্ষণ সালাতেই রত ছিলে। হাসান (বসরী (রহ.) বলেন, মানুষ যতক্ষণ কল্যাণের অপেক্ষায় থাকে, ততক্ষণ তারা কল্যাণেই রত থাকে। কুর্রা (রহ.) বলেন, এ উক্তি আনাস (রাযি.) কর্তৃক বর্ণিত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাদীসেরই অংশ।