৩৪৯৯
মোট হাদিস
৩৪৯৯
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
২৯৬/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৪৯৯
২৯৫১
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার যুহরের পর সফরের উদ্দেশে বের হওয়া।
আনাস (রাঃ)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্তে যুহরের সালাত চার রাকআত আদায় করেন এবং যুল-হুলায়ফাতে পৌঁছে দু’রাকআত আসর সালাত আদায় করেন। আমি তাদের হজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়টির তালবিয়া জোরে পাঠ করতে শুনেছি।
২৯৫২
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার মাসের শেষাংশে সফরে বের হওয়া।
আয়িশাহ (রাঃ)
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যুল-কাদার ৫ রাত থাকতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। হজ্জ আদায় ব্যতীত আমাদের আর কোন উদ্দেশ্য ছিল না। মক্কার নিকটবর্তী হলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আদেশ দিলেন যাদের নিকট কুরবানীর জন্তু নেই, তারা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ এবং সাফা মারওয়ার সা‘ঈ করার পর ইহরাম খুলে ফেলবে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, কুরবানীর দিন আমাদের নিকট গরুর গোশ্ত পৌঁছানো হলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এগুলো কিসের? বলা হলো, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে কুরবানী আদায় করেছেন। ইয়াহ্ইয়া (রহ.) বলেন, আমি হাদীসটি কাসেম ইবনু মুহাম্মদ (রহ.)-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বললেন, আল্লাহর কসম বর্ণনাকারিণী এ হাদীসটি আপনার নিকট সঠিকভাবে বর্ণনা করেছেন।
২৯৫৩
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার ৫৬/১০৬. রমাযান মাসে সফরে বের হওয়া।
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান মাসে সফরে বের হন এবং সিয়াম পালন করেন। যখন তিনি কাদীদ নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন সিয়াম ছেড়ে দেন। সুফ্ইয়ান (রহ.)....ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে একইভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ‘আব্দুল্লাহ (রহ.) বলেন, এটা যুহরী (রহ.)-এর উক্তি এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশেষ কার্যই গ্রহণযোগ্য।
২৯৫৪
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার সফরকালে বিদায় দেয়া।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এক অভিযানে পাঠালেন। কুরাইশদের দু‘জন লোকের নামোল্লেখ করে আমাদেরকে বললেন, তোমরা যদি অমুক ও অমুকের সাক্ষাৎ পাও তবে তাদেরকে আগুনে জ্বালিয়ে ফেলবে। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমরা রওয়ানা করার প্রাক্কালে বিদায় গ্রহণ করার জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন তিনি বললেন, ‘আমি তোমাদেরকে অমুক অমুককে আগুনে জ্বালিয়ে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু আগুনের শাস্তি দান করার অধিকার আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কারো নেই। তাই তোমরা যদি তাদেরকে ধরে ফেলতে সক্ষম হয়, তবে তাদের উভয়কে হত্যা করবে।
২৯৫৫
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার ৫৬/১০৮. পাপ কাজের নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ইমামের কথা শুনা ও আনুগত্য করা।
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘পাপ কাজের আদেশ না করা পর্যন্ত ইমামের কথা শোনা ও তার আদেশ মানা অপরিহার্য। তবে পাপ কাজের আদেশ করা হলে তা শোনা ও আনুগত্য করা যাবে না।
২৯৫৬
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধ করা ও তাঁর মাধ্যমে নিরাপত্তা লাভ করা।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমরা সর্বশেষে আগমনকারী (পৃথিবীতে) সর্বাগ্রে প্রবেশকারী (জান্নাতে)।
২৯৫৭
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধ করা ও তাঁর মাধ্যমে নিরাপত্তা লাভ করা।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
আর এ সনদেই (আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে) বর্ণিত হয়েছে যে, (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,) যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলারই আনুগত্য করল আর যে ব্যক্তি আমার নাফরমানী করল, সে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলারই নাফরমানী করল। আর যে ব্যক্তি আমীরের আনুগত্য করল, সে ব্যক্তি আমারই আনুগত্য করল আর যে ব্যক্তি আমীরের নাফরমানী করল সে ব্যক্তি আমারই নাফরমানী করল। ইমাম তো ঢাল স্বরূপ। তাঁর নেতৃত্বে যুদ্ধ এবং তাঁরই মাধ্যমে নিরাপত্তা অর্জন করা হয়। অতঃপর যদি সে আল্লাহর তাকওয়ার নির্দেশ দেয় এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে, তবে তার জন্য এর পুরস্কার রয়েছে আর যদি সে এর বিপরীত করে তবে এর মন্দ পরিণাম তার উপরই বর্তাবে।
২৯৫৮
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার যুদ্ধ থেকে পালিয়ে না যাওয়ার ব্যাপারে বায়‘আত করা। আর কেউ বলেছেন, মৃত্যুর উপর বায়‘আত করা। যেহেতু আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেছেনঃ অবশ্যই আল্লাহ মু‘মিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, যখন তারা বৃক্ষের নিচে আপনার আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করল। (ফাত্হ ১৮)
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন হুদাইবিয়া সন্ধির পরবর্তী বছর প্রত্যাবর্তন করলাম, তখন আমাদের মধ্য হতে দু’জন লোকও যে বৃক্ষের নীচে আমরা বায়‘আত করেছিলাম সেটি চিহ্নিত করার ব্যাপারে একমত হতে সক্ষম হয়নি। তা ছিল আল্লাহ্ তা‘আলার পক্ষ থেকে রহমত স্বরূপ।’ বর্ণনাকারী বলেন, ‘আমি নাফি (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, তাঁদের নিকট হতে কিসের বায়‘আত গ্রহণ করা হয়েছিল? তা কি মৃত্যুর উপর?’ তিনি বললেন, ‘না, বরং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের নিকট হতে দৃঢ় থাকার উপর বায়‘আত গ্রহণ করেছিলেন।’
২৯৫৯
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার যুদ্ধ থেকে পালিয়ে না যাওয়ার ব্যাপারে বায়‘আত করা। আর কেউ বলেছেন, মৃত্যুর উপর বায়‘আত করা। যেহেতু আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেছেনঃ অবশ্যই আল্লাহ মু‘মিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, যখন তারা বৃক্ষের নিচে আপনার আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করল। (ফাত্হ ১৮)
আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ)
আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হার্রা নামক যুদ্ধের সময়ে তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এসে বললো, ‘ইবনু হানযালা (রাঃ) মানুষের নিকট থেকে মৃত্যুর উপর বায়‘আত গ্রহণ করছেন। তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর আমি তো কারো নিকট এমন বায়‘আত করব না।
২৯৬০
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার যুদ্ধ থেকে পালিয়ে না যাওয়ার ব্যাপারে বায়‘আত করা। আর কেউ বলেছেন, মৃত্যুর উপর বায়‘আত করা। যেহেতু আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেছেনঃ অবশ্যই আল্লাহ মু‘মিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, যখন তারা বৃক্ষের নিচে আপনার আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করল। (ফাত্হ ১৮)
সালামাহ (রাঃ)
সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বায়‘আত করলাম। অতঃপর আমি একটি বৃক্ষের ছায়ায় গেলাম। মানুষের ভীড় কমে গেলে, (তাঁর নিকট উপস্থিত হলে) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘ইবনু আকওয়া‘! তুমি কি বায়‘আত করবে না?’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো বায়‘আত করেছি।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আরেক বার।’ তখন আমি দ্বিতীয় বার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বায়‘আত করলাম। (বর্ণনাকারী) বলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘হে আবূ মুসলিম! সেদিন তোমরা কোন্ জিনিসের উপর বায়‘আত করেছিলে?’ তিনি বললেন, ‘মৃত্যুর উপর।