৩৪৯৯
মোট হাদিস
৩৪৯৯
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
২৮৪/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৪৯৯
২৮৩১
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ
বারা‘ (রাঃ)
বারা‘ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْن আয়াতটি নাযিল হলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যায়দ (রাঃ)-কে ডেকে আনলেন। তিনি কোন জন্তুর একটি চওড়া হাড় নিয়ে আসেন এবং তাতে উক্ত আয়াতটি লিখে রাখেন। ইবনু উম্মু মাকতুম জিহাদে শরীক হওয়ার ব্যাপারে তাঁর অক্ষমতা প্রকাশ করলে لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُوْنَ مِنْ الْمُؤْمِنِيْنَ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ আয়াতটি নাযিল হল।
২৮৩২
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ
সাহল ইবনু সা‘দ সা‘ঈদী (রাঃ)
সাহল ইবনু সা‘দ সা‘ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি মারওয়ান ইবনু হাকামকে মসজিদে উপবিষ্ট অবস্থায় দেখলাম। অতঃপর আমি তাঁর দিকে এগিয়ে গেলাম এবং তাঁর পাশে গিয়ে বসলাম। তিনি আমাকে বর্ণনা করেন যে, যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) তাঁকে জানিয়েছেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উপর অবতীর্ণ আয়াত, ‘‘মুসলিমদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে এবং যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে তারা সমান নয়’’ (আন-নিসাঃ ৯৫) যখন তাকে দিয়ে লিখেছিলেন, ঠিক সে সময় অন্ধ ইবনু উম্মু মাকতুম (রাঃ) সেখানে উপস্থিত হয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি জিহাদে যেতে সক্ষম হতাম, তবে অবশ্যই অংশ গ্রহণ করতাম।’ সে সময় আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর ওয়াহী নাযিল করেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উরু আমার উরুর উপর রাখা ছিল এবং তা আমার নিকট এতই ভারী মনে হচ্ছিল যে, আমি আমার উরু ভেঙ্গে যাবার আশংকা করছিলাম। অতঃপর ওয়াহী অবতীর্ণ হবার অবস্থা দূর হল, এ সময় غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ আয়াতটি আল্লাহ নাযিল করেন।
২৮৩৩
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার যুদ্ধের সময় ধৈর্য অবলম্বন।
সালিম আবু নাযর (রহ.)
সালিম আবু নাযর (রহ.) হতে বর্ণিত। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) লিখে পাঠালেন, আর আমি তাতে পড়লাম যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যখন তোমরা তাদের (শত্রুদের) মুখোমুখী হবে তখন ধৈর্য অবলম্বন করবে।
২৮৩৪
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার জিহাদে উদ্বুদ্ধকরণ।
আনাস (রাঃ)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খন্দকের দিকে বের হলেন, হিম শীতল সকালে আনসার ও মুহাজিররা পরিখা খনন করছেন, আর তাদের এ কাজ করার জন্য তাদের কোন গোলাম ছিল না। যখন তিনি তাদের দেখতে পেলেন যে, তারা কষ্ট এবং ক্ষুধায় আক্রান্ত, তখন বললেন, হে আল্লাহ্! সত্যিকারে আয়েশ হচ্ছে আখেরাতের আয়েশ। তুমি আনসার ও মুহাজিরদের ক্ষমা করে দাও। এর উত্তরে তারা বলে উঠেনঃ আমরা তারাই যারা মুহাম্মাদের হাতে বায়‘আত করেছি জিহাদের, যদ্দিন আমরা বেঁচে আছি।
২৮৩৫
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার পরিখা খনন করা।
আনাস (রাঃ)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসার ও মুহাজিরগণ মদিনার পাশে পরিখা খনন করছিলেন এবং তারা পিঠে করে মাটি বহন করছিলেন। আর তারা এই কবিতা আবৃত্তি করছিলেনঃ আমরা ইসলামের উপর মুহাম্মদের হাতে বায়‘আত নিয়েছি, ততদিন পর্যন্ত যদ্দিন আমরা বেঁচে থাকি। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের উত্তরে বলেছিলেনঃ হে আল্লাহ্! আখিরাতের কল্যাণ ব্যতীত কোন কল্যাণ নেই। তাই আনসার ও মুহাজিরদের প্রতি বরকত নাযিল করুন।
২৮৩৬
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার পরিখা খনন করা।
বারা’ (রাঃ)
বারা’ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাটি উঠাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, যদি আপনি না হতেন তাহলে আমরা হিদায়াত লাভ করতাম না।
২৮৩৭
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার পরিখা খনন করা।
বারা’ (রাঃ)
বারা’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাবের দিন আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি যে, তিনি মাটি বহন করছেন। আর তাঁর পেটের শুভ্রতা মাটি ঢেকে ফেলেছে। সে সময় তিনি আবৃত্তি করছিলেন, (হে আল্লাহ্)ঃ আপনি না হলে আমরা হিদায়াত পেতাম না; সাদাকা দিতাম না এবং সালাত আদায় করতাম না। তাই আমাদের উপর শান্তি নাযিল করুন। যখন আমরা শত্রু সম্মুখীন হই তখন আমাদের পা সুদৃঢ় করুন। ওরা আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। তারা যখনই কোন ফিতনা সৃষ্টি করতে চায় তখনই আমরা তা থেকে বিরত থাকি।
২৮৩৮
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার ওযর যাকে জিহাদে গমন করতে বাধা দান করে।
আনাস (রাঃ)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা তাবূকের যুদ্ধ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে প্রত্যাবর্তন করেছি।
২৮৩৯
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার ওযর যাকে জিহাদে গমন করতে বাধা দান করে।
আনাস (রাঃ)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক যুদ্ধে ছিলেন, তখন তিনি বললেন, কিছু ব্যক্তি মদিনা্য় আমাদের পেছনে রয়েছে। আমরা কোন ঘাঁটি বা কোন উপত্যকায় চলিনি, তাদের সঙ্গে ব্যতীত। ওযরই তাদের বাধা দিয়েছে।
২৮৪০
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার আল্লাহর পথে থাকা অবস্থায় সিয়াম পালনের ফযীলত।
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ)
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় এক দিনও সিয়াম পালন করে, আল্লাহ্ তার মুখমণ্ডল কে দোযখের আগুন হতে সত্তর বছরের রাস্তা দূরে সরিয়ে নেন।