৩৪৯৯
মোট হাদিস
৩৪৯৯
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
২৬১/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৪৯৯
২৬০১
হিবা ও এর ফযীলত এক ব্যক্তির নিকট প্রাপ্য ঋণ অনকে দান করে দেয়া।
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধে তাঁর পিতা শহীদ হলেন। পাওনাদাররা তাদের পাওনা আদায়ের ব্যাপারে শক্ত মনোভাব অবলম্বন করল। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট হাযির হয়ে তাঁকে এ বিষয়ে বললাম। তখন তিনি তাদেরকে আমার বাগানের খেজুর নিয়ে আমার পিতাকে ঋণমুক্ত করতে বললেন। কিন্তু তারা অস্বীকার করল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার বাগান তাদের দিলেন না এবং তাদের ফল কাটতেও দিলেন না। বরং তিনি বললেন, আগামীকাল ভোরে আমি তোমাদের নিকট যাব। জাবির (রাঃ) বলেন, পরদিন সকালে তিনি আমাদের নিকট আগমন করলেন এবং খেজুর বাগানে ঘুরে ঘুরে ফলের বরকতের জন্য দু‘আ করলেন। অতঃপর আমি ফল কেটে এনে তাদের ঋণ পরিশোধ করলাম। অতঃপরও সেই ফলের কিছু অংশ রয়ে গেল। পরে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট হাযির হয়ে তাঁকে সে সম্পর্কে জানালাম। তখন তিনি উপবিষ্ট ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উমরকে বললেন, শোন হে উমর! তখন তিনিও সেখানে উপবিষ্ট ছিলেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমরা কি আগে থেকেই জানি না যে, আপনি আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসূল।
২৬০২
হিবা ও এর ফযীলত জামা‘আতের জন্য এক ব্যক্তির দান।
সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ)
সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কিছু পানীয় উপস্থিত করা হল। সেখান হতে কিছু তিনি নিজে পান করলেন। তাঁর ডান পার্শ্বে ছিল এক যুবক আর বাম পার্শ্বে ছিলেন বৃদ্ধগণ। তখন তিনি যুবককে বললেন, তুমি আমাকে অনুমতি দিলে এদেরকে আমি দিতে পারি। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার (বারকাত) হতে আমার প্রাপ্য অংশের ব্যাপারে আমি অন্য কাউকে অগ্রগণ্য করতে পারি না। তখন তিনি তার হাতে পাত্রটি সজোরে রেখে দিলেন।
২৬০৩
হিবা ও এর ফযীলত দখলভুক্ত বা দখলভুক্ত নয় এবং বণ্টিত বা বণ্টিত নয় এমন সম্পদ দান করা।
জাবির (রাঃ)
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট মসজিদে উপস্থিত হলাম, তিনি আমাকে মূল্য পরিশোধ করলেন এবং আরো বেশি দিলেন।
২৬০৪
হিবা ও এর ফযীলত দখলভুক্ত বা দখলভুক্ত নয় এবং বণ্টিত বা বণ্টিত নয় এমন সম্পদ দান করা।
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট একটা উট বিক্রয় করলাম। মদিনা্য় ফিরে এসে তিনি আমাকে বললেন, মসজিদে এস, দু’রাক‘আত সালাত আদায় কর। অতঃপর তিনি উটের দাম ওজন করে দিলেন। রাবী শু‘বা (রহ.) বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন, অতঃপর তিনি আমাকে ওজন করে উটের দাম দিলেন এবং বলেন, তিনি ওজনে প্রাপ্যের অধিক দিলেন। হার্রা যুদ্ধের সময় সিরিয়াবাসীর ছিনিয়ে নেয়ার আগে পর্যন্ত আমার নিকট ঐ মালের কিছু অবশিষ্ট ছিল।
২৬০৫
হিবা ও এর ফযীলত দখলভুক্ত বা দখলভুক্ত নয় এবং বণ্টিত বা বণ্টিত নয় এমন সম্পদ দান করা।
সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ)
সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কিছু পানীয় উপস্থিত করা হল। তখন তাঁর ডানপাশে ছিল এক যুবক আর বামপাশে ছিল কয়েকজন বৃদ্ধ। তিনি যুবককে বললেন, তুমি কি আমাকে এই পানীয় এদের দেয়ার অনুমতি দিবে? যুবক বলল, না, আল্লাহর কসম! আপনার বরকত হতে আমার প্রাপ্য অংশের ক্ষেত্রে আমি কাউকে অগ্রাধিকার দিব না। তখন তিনি পান পাত্র তার হাতে সজোরে রেখে দিলেন।
২৬০৬
হিবা ও এর ফযীলত দখলভুক্ত বা দখলভুক্ত নয় এবং বণ্টিত বা বণ্টিত নয় এমন সম্পদ দান করা।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এক ব্যক্তির কিছু ঋণ ছিল। (তাগাদা করতে এসে সে অশোভনীয় কিছু শুরু করলে) সাহাবীগণ তাকে কিছু করতে চাইলেন। তিনি তাদের বললেন, তাকে ছেড়ে দাও, পাওনাদারের কিছু বলার হক আছে। তিনি তাদের আরও বললেন, তাকে এক বছর বয়সী একটি উট খরিদ করে দাও। সাহাবীগণ বললেন, আমরা তো তার দেয়া এক বছর বয়সের উটের মতো পাচ্ছি না; বরং তার চেয়ে ভালো উট পাচ্ছি। তিনি বললেন, তবে তাই কিনে তাকে দিয়ে দাও। কেননা যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে, সে তোমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তিদের মধ্যে। কিংবা তিনি বলেছেন, সে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।
২৬০৭
হিবা ও এর ফযীলত একদল অন্য গোত্রকে বা এক ব্যক্তি কোন দলকে দান করলে তা বৈধ।
মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহ.)
মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহ.) ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা ইসলাম গ্রহণের পর প্রতিনিধি হিসাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এল এবং তাদের সম্পদ ও যুদ্ধবন্দী ফিরিয়ে দেয়ার আবেদন জানাল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে বললেন, তোমরা দেখছ আমার সঙ্গে আরো লোক আছে। আমার নিকট সত্য কথা হল অধিক প্রিয়। তোমরা যুদ্ধবন্দী অথবা সম্পদ এ দুয়ের একটি বেছে নাও। আমি তো তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। (রাবী বলেন) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তায়েফ হতে ফিরে প্রায় দশ রাত তাদের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। যখন তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু’টির যে কোন একটিই শুধু তাদের ফিরিয়ে দিবেন, তখন তারা বলল, তবে তো আমরা আমাদের বন্দীদেরই পছন্দ করব। অতঃপর তিনি মুসলিমদের সামনে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করে বললেন, আম্মাবাদ। তোমাদের এই ভাইয়েরা তাওবা করে আমাদের নিকট এসেছে, আর আমি তাদেরকে তাদের বন্দী ফিরিয়ে দেয়া সঠিক মনে করছি, কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা সন্তুষ্টচিত্তে এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া পছন্দ করে, তারা যেন তা করে। আর যারা নিজেদের অংশ পেতে পছন্দ করে এরূপভাবে যে, আল্লাহ আমাকে প্রথমে যে ফায় সম্পদ দান করবেন, তা হতে তাদের প্রাপ্য অংশ আদায় করে দিব, তারা যেন তা করে। সকলেই তখন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা প্রসন্নচিত্তে তা মেনে নিলাম। তিনি তাদের বললেন, তোমাদের মধ্যে কারা অনুমতি দিলে আর কারা দিলে না, তা-তো আমি বুঝতে পারলাম না। কাজেই তোমরা ফিরে যাও। তোমাদের নেতারা তোমাদের মতামত আমার নিকট পেশ করবে। অতঃপর লোকেরা ফিরে গেল এবং তাদের নেতারা তাদের সঙ্গে আলোচনা করল। পরে তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে জানাল যে, প্রসন্নচিত্তে অনুমতি দিয়েছে। হাওয়াযিনের বন্দী সম্পর্কে আমাদের নিকট এতটুকুই পৌঁছেছে। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, এই শেষ অংশটুকুই ইমাম যুহরী (রহ.)-এর বক্তব্য।
২৬০৮
হিবা ও এর ফযীলত একদল অন্য গোত্রকে বা এক ব্যক্তি কোন দলকে দান করলে তা বৈধ।
মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহ.)
মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহ.) ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা ইসলাম গ্রহণের পর প্রতিনিধি হিসাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এল এবং তাদের সম্পদ ও যুদ্ধবন্দী ফিরিয়ে দেয়ার আবেদন জানাল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে বললেন, তোমরা দেখছ আমার সঙ্গে আরো লোক আছে। আমার নিকট সত্য কথা হল অধিক প্রিয়। তোমরা যুদ্ধবন্দী অথবা সম্পদ এ দুয়ের একটি বেছে নাও। আমি তো তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। (রাবী বলেন) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তায়েফ হতে ফিরে প্রায় দশ রাত তাদের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। যখন তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু’টির যে কোন একটিই শুধু তাদের ফিরিয়ে দিবেন, তখন তারা বলল, তবে তো আমরা আমাদের বন্দীদেরই পছন্দ করব। অতঃপর তিনি মুসলিমদের সামনে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করে বললেন, আম্মাবাদ। তোমাদের এই ভাইয়েরা তাওবা করে আমাদের নিকট এসেছে, আর আমি তাদেরকে তাদের বন্দী ফিরিয়ে দেয়া সঠিক মনে করছি, কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা সন্তুষ্টচিত্তে এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া পছন্দ করে, তারা যেন তা করে। আর যারা নিজেদের অংশ পেতে পছন্দ করে এরূপভাবে যে, আল্লাহ আমাকে প্রথমে যে ফায় সম্পদ দান করবেন, তা হতে তাদের প্রাপ্য অংশ আদায় করে দিব, তারা যেন তা করে। সকলেই তখন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা প্রসন্নচিত্তে তা মেনে নিলাম। তিনি তাদের বললেন, তোমাদের মধ্যে কারা অনুমতি দিলে আর কারা দিলে না, তা-তো আমি বুঝতে পারলাম না। কাজেই তোমরা ফিরে যাও। তোমাদের নেতারা তোমাদের মতামত আমার নিকট পেশ করবে। অতঃপর লোকেরা ফিরে গেল এবং তাদের নেতারা তাদের সঙ্গে আলোচনা করল। পরে তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে জানাল যে, প্রসন্নচিত্তে অনুমতি দিয়েছে। হাওয়াযিনের বন্দী সম্পর্কে আমাদের নিকট এতটুকুই পৌঁছেছে। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, এই শেষ অংশটুকুই ইমাম যুহরী (রহ.)-এর বক্তব্য।
২৬০৯
হিবা ও এর ফযীলত সঙ্গীদের মাঝে কাউকে হাদিয়া করা হলে সেই তার হকদার।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দিষ্ট বয়সের একটি উট ধার নিয়েছিলেন। কিছুদিন পর উটের মালিক এসে তাগাদা দিল। সাহাবীগণও তাকে কিছু বললেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, পাওনাদারদের কিছু বলার হক আছে। অতঃপর তিনি তাকে তার উটের চেয়ে উত্তম উট পরিশোধ করলেন এবং বললেন, ভালভাবে ঋণ পরিশোধকারী ব্যক্তিই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।
২৬১০
হিবা ও এর ফযীলত সঙ্গীদের মাঝে কাউকে হাদিয়া করা হলে সেই তার হকদার।
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলেন এবং তখন ইবনু ‘উমার ‘উমার (রাঃ) একটি বেয়াড়া উটে সাওয়ার ছিলেন। উটটি বারবার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগে যাচ্ছিল। আর তার পিতা ‘উমার (রাঃ) তাকে বলছিলেন, হে ‘আবদুল্লাহ! নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগে চলা কারো জন্য উচিত নয়। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘উমার (রাঃ)-কে বললেন, এটা আমার নিকট বিক্রি কর। ‘উমার (রাঃ) বললেন, এটাতো আপনার। তখন তিনি সেটা ক্রয় করে বললেন, হে ‘আবদুল্লাহ! এটা তোমার। কাজেই এটা দিয়ে তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পার।