৩৫০০
মোট হাদিস
৩৫০০
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
২২৭/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৫০০
২২৬১
ইজারা সৎ ব্যক্তিকে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ প্রদান।
আবূ মূসা (রাঃ)
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলাম, আমার সঙ্গে আশ’আরী গোত্রের দু’জন লোক ছিল। তিনি বলেন, আমি বললাম, আমি জানতাম না যে, এরা কোন কর্মপ্রার্থী হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কর্মপ্রার্থী হয়, আমরা আমাদের কাজে তাকে কখনো নিয়োগ করি না অথবা বলেছেন কখনো করব না।
২২৬২
ইজারা কয়েক কিরাআতের বদলে ছাগল-ভেড়া চরানো।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা এমন কোন নবী প্রেরণ করেননি, যিনি বকরী না চরিয়েছেন। তখন তাঁর সাহাবীগণ বলেন, আপনিও? তিনি বলেন, হ্যাঁ; আমি কয়েক কীরাতের (মুদ্রা) বিনিময়ে মক্কা্বাসীদের ছাগল চরাতাম।
২২৬৩
ইজারা প্রয়োজনবোধে অথবা কোন মুসলিম পাওয়া না গেলে মুশরিকদের শ্রমিক নিয়োগ করা।
আয়িশাহ (রাযি.)
আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত (হিজরতের সময়) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও আবূ বকর (রাঃ) বনূ দীল ও বনু আব্দ ইবনু আদী গোত্রের একজন অত্যন্ত সচেতন ও অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শক শ্রমিক নিয়োগ করেন। এ লোকটি ‘আস ইবনু ওয়াইল গোত্রের সাথে মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ ছিল আর সে কুরাইশী কাফিরদের ধর্মাবলম্বী ছিল। তাঁরা দু’জন [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বাকর (রাঃ)] তার উপর আস্থা রেখে নিজ নিজ সাওয়ারী তাকে দিয়ে দিলেন এবং তিন রাত পর এগুলো সাওর পাহাড়ের গুহায় নিয়ে আসতে বলেন। সে তিন রাত পর সকালে তাদের সওয়ারী নিয়ে তাঁদের কাছে উপস্থিত হল। তারপর তাঁরা দু’জন রওয়ানা করলেন। তাঁদের সঙ্গে আমির ইবনু ফুহাইয়া ও দীল গোত্রের পথপ্রদর্শক সে ব্যক্তিটিও ছিল। সে তাঁদেরকে (সাগরের) উপকূলের পথ ধরে নিয়ে গেল।
২২৬৪
ইজারা যদি কোন ব্যক্তি এ শর্তে কোন শ্রমিক নিয়োগ করে যে, সে তিন দিন অথবা এক মাস অথবা এক বছর পর কাজ করে দেবে, তবে তা বৈধ। তখন নির্ধারিত সময় আসলে উভয়েই তাদের নির্দিষ্ট শর্তাবলীর উপর বহাল থাকবে।
আয়িশাহ (রাযি.)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিনী ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত (হিজরতের ঘটনায়) তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর (রাঃ) বনূ দীল গোত্রের এক অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে রাস্তা দেখিয়ে দেয়ার জন্য শ্রমিক নিয়োগ করেন। এ লোকটি কুরাইশী কাফিরদের ধর্মাবলম্বী ছিল। তাঁরা দু’জন [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর (রাঃ)] তাদের আপন আপন সাওয়ারী তার নিকট ন্যস্ত করলেন এবং এ মর্মে প্রতিশ্রুতি নিলেন যে, তিন রাত পর তৃতীয় দিন সকালে তাদের সাওয়ারী সওর পর্বতের গুহায় নিয়ে আসবে।
২২৬৫
ইজারা জিহাদের ময়দানে মজদুর নিয়োগ।
ইয়া’লা ইবনু উমাইয়্যাহ (রাঃ)
ইয়া’লা ইবনু উমাইয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে জাইশ্ল উসরাত অর্থাৎ তাবূকের যুদ্ধে লড়াই করেছিলাম। আমার ধারণায় এটাই ছিল আমার সব চেয়ে নির্ভরযোগ্য আমল। আমার একজন মজদুর ছিল। সে একজন লোকের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং তাদের একজন আরেক জনের আঙ্গুল দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে। (বের করার জন্য) সে আঙ্গুল টান দেয়। এতে তার (প্রতিপক্ষের) একটি সামনের দাঁত পড়ে যায়। তখন লোকটি (অভিযোগ নিয়ে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট গেল। কিন্তু তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) তার দাঁতের ক্ষতি পূরণের দাবী বাতিল করে দিলেন এবং বললেন সে কি তোমার মুখে তার আঙ্গুল ছেড়ে রাখবে, আর তুমি তা (দাঁত দিয়ে) চিবুতে থাকবে? বর্ণনাকারী [ইয়া’লা (রাঃ)] বলেন, আমার মনে পড়ে তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন, যেমন উট চিবায়।
২২৬৬
ইজারা জিহাদের ময়দানে মজদুর নিয়োগ।
ইবনু জুরাইজ (রহ.)
ইবনু জুরাইজ (রহ.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ মুলায়কা (রহ.) তার দাদার সূত্রে অনুরূপ একটি ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির হাত দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরল। এতে (লোকটি তার হাত বের করার জন্য সজোরে টান দিলে) (যে কামড় দিয়েছিল) তার সামনের দাঁত পড়ে যায়। আবূ বকর (রাঃ)-এর কোন ক্ষতিপূরণের দাবী বাতিল করে দেন।
২২৬৭
ইজারা পতিত প্রায় কোন দেয়াল খাড়া করে দেয়ার জন্য মজদুর নিয়োগ করা জায়িয।
উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ)
উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তারা উভয়ে [খাযির ও মূসা (’আ.)] চলতে লাগলেন। সেখানে তারা পতনোন্মুখ প্রাচীর দেখতে পেলেন। সাঈদ (রহ.) তার হাত দিয়ে ইশারা করে দেখালেন এভাবে এবং (খাযির) উভয় হাত তুললেন এতে দেয়াল ঠিক হয়ে গেল। হাদীসের অপর বর্ণনাকারী ইয়ালা (রহ.) বলেন, আমার ধারণা যে সাঈদ (রহ.) বলেছেন, তিনি (খাযির) দেয়ালটির উপর হাত বুলিয়ে দিলেন, ফলে তা সোজা হয়ে গেল। মূসা (’আ.) (খাযিরকে) বলেন, আপনি ইচ্ছা করলে এ কাজের জন্য পারিশ্রমিক নিতে পারতেন। সাঈদ (রহ.) বর্ণনা করেন যে, এমন পারিশ্রমিক নিতে পারতেন যা দিয়ে আপনার আহার চলত।
২২৬৮
ইজারা অর্ধেক দিনের জন্য মজদুর নিয়োগ করা।
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা এবং উভয় আহলে কিতাব (ইয়াহূদী ও খৃষ্টান)-এর উদাহরণ হল এমন এক ব্যক্তির মতো, যে কয়েকজন মজদুরকে কাজে নিয়োগ করে বলল, সকাল হতে দুপুর পর্যন্ত এক কিরাআত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আমার কাজ কে করবে? তখন ইয়াহূদী কাজ করে দিল। তারপর সে ব্যক্তি বলল, কে আছ যে দুপুর হতে আসর পর্যন্ত এক কিরাআতের বিনিময়ে আমার কাজ করে দেবে? তখন খৃষ্টান কাজ করে দিল। তারপর সে ব্যক্তি বলল, কে আছ যে আসর হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দুই কিরাআত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করবে? আর তোমরাই হলে (মুসলিম) তারা (যারা অল্প পরিশ্রমে অধিক পারিশ্রমিক লাভ করলে) তাতে ইয়াহূদী ও খৃষ্টানরা রাগান্বিত হল, তারা বলল, এটা কেমন কথা, আমরা কাজ করলাম বেশী, অথচ পারিশ্রমিক পেলাম কম। তখন সে ব্যক্তি (নিয়োগকর্তা) বলল, আমি তোমাদের প্রাপ্য কম দিয়েছি? তারা বলল, না। তখন সে বলল, সেটা তো আমার অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা দান করি।
২২৬৯
ইজারা আসরের নামাজ পর্যন্ত শ্রমিক নিয়োগ করা।
আবদুল্লাহ ইবনু উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের এবং ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের উদাহরণ এরূপ, যেমন এক ব্যক্তি কয়েকজন মজদুর নিয়োগ করল এবং বলল, দুপুর পর্যন্ত এক এক কীরাতের বিনিময়ে কে আমার কাজ করে দিবে? তখন ইয়াহূদীরা এক এক কীরাতের বিনিময়ে কাজ করল। তারপর খৃষ্টানরা এক এক কীরাতের বিনিময়ে (আসর পর্যন্ত) কাজ করল। তারপর তোমরাই যারা আসরের সালাতের সময় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দুই দুই কীরাতের বিনিময়ে কাজ করলে। এতে ইয়াহূদী ও খৃষ্টানরা রাগান্বিত হল। তারা বলল, আমরা কাজ করলাম বেশী অথচ পারিশ্রমিক পেলাম কম। সে (নিয়োগকর্তা) বলল, আমি কি তোমাদের প্রাপ্য কিছু কম দিয়েছি? তারা বলল, না। তখন সে বলল, সেটা তো আমার অনুগ্রহ, তা আমি যাকে ইচ্ছা তাকে দিয়ে থাকি।
২২৭০
ইজারা মজদুরকে পারিশ্রমিক না দেয়ার পাপ।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমি কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির বিরোধী থাকব। তাদের এক ব্যক্তি হল, যে আমার নামে প্রতিজ্ঞা করল, তারপর তা ভঙ্গ করল। আরেক ব্যক্তি হল, যে আযাদ মানুষ বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করে। অপর এক ব্যক্তি হল, যে কোন লোককে মজদুর নিয়োগ করল এবং তার হতে কাজ পুরোপুরি আদায় করল, অথচ তার পারিশ্রমিক দিল না।