৩৫০০
মোট হাদিস
৩৫০০
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
২২০/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৫০০
২১৯১
ক্রয়-বিক্রয় সোনা ও রূপার বদলে গাছের খেজুর ক্রয়-বিক্রয় করা।
সাহল ইবনু আবূ হাসমা (রাঃ)
সাহল ইবনু আবূ হাসমা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুকনো খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রি করতে বারণ করেছেন এবং আরিয়্যা-এর ক্ষেত্রে অনুমতি প্রদান করেছেন। তা হল তাজা ফল অনুমানে বিক্রি করা, যাতে (ক্রেতা) তাজা খেজুর খাওয়ার সুযোগ লাভ করতে পারে। রাবী সুফইয়ান (রহ.) আর একবার এভাবে বর্ণনা করেছেন, অবশ্য তিনি [আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] আরিয়্যা এর ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন যে, ফলের মালিক অনুমানে তাজা খেজুর বিক্রয় করে, যাতে তারা (ক্রেতাগণ) তাজা খেজুর খেতে পারে। রাবী বলেন, এ কথা পূর্বের কথা একই এবং সুফইয়ান (রহ.) বলেন, আমি তরুণ বয়সে (আমার উস্তাদ) ইয়াহইয়া [ইবনু সাইদ (রহ.)]-কে বললাম, মক্কাবাসীগণ তো বলে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরায়্যা-এর ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন। তিনি বললেন, মক্কাবাসীদের তা কিসে অবহিত করল? আমি বললাম, তারা জাবির (রাঃ) হতে বর্ণনা করে থাকেন। এতে তিনি নীরব হয়ে গেলেন। সুফইয়ান (রহ.) বলেন, আমার কথার মর্ম এই ছিল যে, জাবির (রাঃ) মদিনাবাসী। সুফইয়ান (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হল, এ হাদীসে এ কথাটুকু নাই যে, উপযোগিতা প্রকাশের পূর্বে ফল বিক্রি নিষিদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, না।
২১৯২
ক্রয়-বিক্রয় আরায়্যা এর ব্যাখ্যা।
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাইয়ার ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছেন যে, ওযনকৃত খেজুরের বিনিময়ে গাছের অনুমানকৃত খেজুর বিক্রি করা যেতে পারে। মূসা ইবনু ‘উকবা (রহ.) বলেন, আরাইয়া বলা হয়, বাগানে এসে কতগুলো নির্দিষ্ট গাছের খেজুর (শুকনা খেজুরের বদলে) ক্রয় করে নেয়া।
২১৯৩
ক্রয়-বিক্রয় ব্যবহার উপযোগী হওয়ার আগেই ফল বেচা-কেনার বিবরণ।
লাইস (রহ.)
লাইস (রহ.) ... যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে লোকেরা (গাছের) ফলের বেচা-কেনা করত। আবার যখন লোকদের ফল পাড়ার এবং তাদের মূল্য দেয়ার সময় হত, তখন ক্রেতা ফলে পোকা ধরেছে, নষ্ট হয়ে গিয়েছে, শুকিয়ে গিয়েছে এসব অনিষ্টকারী আপদের কথা উল্লেখ করে ঝগড়া করত। তখন এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকটে অনেক অভিযোগ পেশ হতে লাগল, তখন তিনি বললেন, তোমরা যদি এ ধরনের বেচা কেনা বাদ দিতে না চাও তবে ফলের উপযোগিতা প্রকাশ পাবার পর তার বেচা কেনা করবে। অনেক অভিযোগ উত্থাপিত হবার কারণে তিনি এ কথাটি পরামর্শ স্বরূপ বলেছেন। রাবী বলেন, খারিজা ইবনু যায়দ (রহ.) আমাকে বলেছেন যে, যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) সুরাইয়া তারকা উদিত হবার পর ফলের হলুদ ও লালচে রঙের পূর্ণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বাগানের ফল বিক্রি করতেন না। আবূ ‘আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, আলী ইবনু বাহর (রহ.) যায়দ (রাঃ) হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
২১৯৪
ক্রয়-বিক্রয় ব্যবহার উপযোগী হওয়ার আগেই ফল বেচা-কেনার বিবরণ।
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফলের উপযোগিতা প্রকাশ হওয়ার আগে তা বিক্রি করতে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে নিষেধ করেছেন।
২১৯৫
ক্রয়-বিক্রয় ব্যবহার উপযোগী হওয়ার আগেই ফল বেচা-কেনার বিবরণ।
আনাস ইবনু মালিক (রা.)
আনাস ইবনু মালিক (রহ.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর ফল পোখতা হওয়ার আগে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, অর্থাৎ লালচে হওয়ার আগে।
২১৯৬
ক্রয়-বিক্রয় ব্যবহার উপযোগী হওয়ার আগেই ফল বেচা-কেনার বিবরণ।
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফলের রং পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। রাবী বলেন, অর্থাৎ লালচে বর্ণের বা হলুদ বর্ণের না হওয়া পর্যন্ত এবং তা খাওয়ার যোগ্য না হওয়া পর্যন্ত।
২১৯৭
ক্রয়-বিক্রয় খেজুর ব্যবহার উপযোগী হবার আগে তা বিক্রি করা।
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফলের উপযোগিতা প্রকাশ হওয়ার আগে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন এবং খেজুরের রং ধরার আগে (বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন)। জিজ্ঞেস করা হল, রং ধরার অর্থ কী? তিনি বলেন, লাল বর্ণ বা হলুদ বর্ণ ধারণ করা। আবূ ‘আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, আমি মু‘আল্লা ইবনু মানসূর (রহ.) হতে হাদীস লিপিবদ্ধ করেছি। কিন্তু এ হাদীস তাঁর নিকট হতে লিখিনি।
২১৯৮
ক্রয়-বিক্রয় ব্যবহার উপযোগী হওয়ার আগে যদি কেউ ফল বিক্রয় করে এবং কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগে তা নষ্ট হয়ে যায় তাহলে বিক্রেতাকে সে ক্ষতির দায়িত্ব বহন করতে হবে।
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রং ধারণ করার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। জিজ্ঞেস করা হল, রং ধারণ করার অর্থ কী? তিনি বললেন, লাল বর্ণ ধারণ করা। পরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দেখ, যদি আল্লাহ তা‘আলা ফল ধরা বন্ধ করে দেন, তবে তোমাদের কেউ (বিক্রেতা) কিসের বদলে তার ভাইয়ের মাল (ফলের মূল্য) নিবে?
২১৯৯
ক্রয়-বিক্রয় ব্যবহার উপযোগী হওয়ার আগে যদি কেউ ফল বিক্রয় করে এবং কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগে তা নষ্ট হয়ে যায় তাহলে বিক্রেতাকে সে ক্ষতির দায়িত্ব বহন করতে হবে।
ইবনু শিহাব (রহ.)
ইবনু শিহাব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি যদি ফলের উপযুক্ততা প্রকাশের পূর্বে তা ক্রয় করে, পরে তাতে মড়ক দেখা দেয়, তবে যা নষ্ট হবে তা মালিকের উপর বর্তাবে। [যুহরী (রহ.)] বলেন, আমার নিকট সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উপযোগিতা প্রকাশ হওয়ার পূর্বে তোমরা ফল ক্রয় করবে না এবং শুকনো খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রি করবে না।
২২০০
ক্রয়-বিক্রয় নির্দিষ্ট মেয়াদে ধারে খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করা ।
আ‘মাশ (রহ.)
আ‘মাশ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবরাহীম (রহ.)-এর কাছে বন্ধক রেখে বাকীতে ক্রয় করার ব্যাপারে আলোচনা করলাম। তিনি বললেন, এতে কোন দোষ নেই। এরপর তিনি আসওয়াদ (রহ.) সূত্রে ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দিষ্ট মেয়াদে (মূল্য বাকী রেখে) জনৈক ইয়াহূদীর নিকট হতে খাদ্য ক্রয় করেন এবং তাঁর বর্ম বন্ধক রাখেন।