৩৪৯৯
মোট হাদিস
৩৪৯৯
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
২০/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৪৯৯
১৯১
উযূ এক আজলা পানি দিয়ে কুলি করা ও নাকে পানি দেয়া।
আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ (রাযি.)
আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। একদা তিনি পাত্র হতে দু’হাতে পানি ঢেলে দু’হাত ধৌত করলেন। অতঃপর এক খাবল পানি দিয়ে (মুখ) ধুলেন বা কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন। তিনবার এরূপ করলেন। তারপর দু’ হাত কনুই পর্যন্ত দু’-দু’বার ধুলেন এবং মাথার সামনের অংশ এবং পেছনের অংশ মাসেহ করলেন। আর টাখনু পর্যন্ত দু’ পা ধুলেন। অতঃপর বললেনঃ ‘‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উযূ এরূপ ছিল।’’
১৯২
উযূ একবার মাথা মাসেহ করা।
ইয়াহইয়া (রহ.)
ইয়াহইয়া (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ‘আমি একদা ‘আমর ইবনু আবূ হাসান (রাযি.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাযি.)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উযূ সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। অতঃপর তিনি পানির একটি পাত্র এনে তাঁদের উযূ করে দেখালেন। তিনি পাত্রটি কাত করে উভয় হাতের উপর পানি ঢেলে তিনবার তা ধুয়ে ফেলেন। তারপর পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকালেন এবং তিন খাবল পানি দিয়ে তিনবার করে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে তা ঝাড়লেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তিনবার মুখমন্ডল ধুলেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে উভয় হাত কনুই পর্যন্ত দু’-দু’বার ধুলেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তাঁর মাথা হাত দিয়ে সামনে এবং পেছনে মাসেহ করলেন। তারপর আবার পাত্রের মধ্যে তাঁর হাত ঢুকিয়ে দুই পা ধুলেন। উহায়ব (রহ.) সূত্রে মূসা (রহ.) বর্ণনা করেন, মাথা একবার মাসেহ করেন।
১৯৩
উযূ স্বীয় স্ত্রীর সঙ্গে উযূ করা এবং স্ত্রীর উযূর অবশিষ্ট পানি (ব্যবহার করা)।
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযি.)
আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল -এর সময় পুরুষ এবং মহিলা একত্রে (এক পাত্র হতে) উযূ করতেন।
১৯৪
উযূ অজ্ঞান লোকের উপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযূর পানি ছিঁটিয়ে দেয়া।
জাবির (রাযি.)
জাবির (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি অসুস্থ থাকা অবস্থায় একবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার খোঁজ-খবর নিতে এলেন। আমি তখন এতই অসুস্থ ছিলাম যে আমার জ্ঞান ছিল না। তারপর তিনি উযূ করলেন এবং তাঁর উযূর পানি আমার উপর ছিঁটিয়ে দিলেন। তখন আমার জ্ঞান ফিরে এল। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! (আমার) ‘মীরাস’ কে পাবে? আমার একমাত্র ওয়ারিস হল কালালাহ*। তখন ফারায়েযের আয়াত অবতীর্ণ হল।
১৯৫
উযূ গামলা, কাঠ ও পাথরের পাত্রে উযূ-গোসল করা।
আনাস (রাযি.)
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা সালাতের সময় উপস্থিত হলে যাঁদের বাড়ি নিকটে ছিল তাঁরা (উযূ করার জন্য) বাড়ি চলে গেলেন। আর কিছু লোক রয়ে গেলেন (তাঁদের কোন উযূর ব্যবস্থা ছিল না)। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য একটি পাথরের পাত্রে পানি আনা হল। পাত্রটি এত ছোট ছিল যে, তার মধ্যে তাঁর উভয় হাত মেলে দেয়া সম্ভব ছিল না। তা থেকেই কওমের সকল লোক উযূ করলেন। আমরা জিজ্ঞেস করলামঃ ‘আপনারা কতজন ছিলেন’? তিনি বললেনঃ ‘আশিজন বা তারও কিছু অধিক।’
১৯৬
উযূ গামলা, কাঠ ও পাথরের পাত্রে উযূ-গোসল করা।
আবূ মূসা (রাযি.)
আবূ মূসা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি পানি ভর্তি পাত্র আনালেন। তাতে তাঁর উভয় হাত ও মুখমন্ডল ধুলেন এবং কুলি করলেন।
১৯৭
উযূ গামলা, কাঠ ও পাথরের পাত্রে উযূ-গোসল করা।
আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)
আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাযি.) বলেনঃ একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বাড়ি এলেন। আমরা তাঁকে পিতলের একটি পাত্রে পানি দিলে তা দিয়ে তিনি উযূ করলেন। তাঁর মুখমন্ডল তিনবার ও উভয় হাত দু’-দু’বার করে ধুলেন এবং তাঁর হাত সামনে ও পেছনে এনে মাথা মাসেহ করলেন আর উভয় পা ধুলেন।
১৯৮
উযূ গামলা, কাঠ ও পাথরের পাত্রে উযূ-গোসল করা।
আয়িশাহ (রাযি.)
আয়িশাহ (রাযি.) বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অসুস্থতা বেড়ে গেলে তিনি আমার ঘরে শুশ্রূষার জন্য তাঁর স্ত্রীদের নিকট অনুমতি চাইলে তাঁরা অনুমতি দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমার ঘরে আসার জন্য) দু’ ব্যক্তির উপর ভর করে বের হলেন। আর তাঁর পা দু’খানি তখন মাটিতে চিহ্ন রেখে যাচ্ছিল। তিনি ‘আব্বাস (রাযি.) ও অন্য এক ব্যক্তির মাঝখানে ছিলেন। ‘উবাইদুল্লাহ (রহ.) বলেনঃ ‘আমি ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-কে এ কথা জানালাম। তিনি বললেনঃ সে অন্য ব্যক্তিটি কে তা কি তুমি জান? আমি বললাম, না। তিনি বললেনঃ তিনি হলেন ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযি.)। ‘আয়িশাহ (রাযি.) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে আসলে অসুস্থতা আরো বৃদ্ধি পেল। তিনি বললেনঃ ‘তোমরা আমার উপর মুখের বাঁধন খোলা হয়নি এমন সাতটি মশকের পানি ঢেলে দাও, তাহলে হয়ত আমি মানুষকে কিছু উপদেশ দিতে পারব।’ তাঁকে তাঁর স্ত্রী হাফসাহ (রাযি.)-এর একটি বড় পাত্রে বসিয়ে দেয়া হল। অতঃপর আমরা তাঁর উপর সেই সাত মশক পানি ঢালতে লাগলাম। এভাবে ঢালার পর এক সময় তিনি আমাদের প্রতি ইঙ্গিত করলেন, (এখন থাম) তোমরা তোমাদের কাজ করেছ। অতঃপর তিনি বের হয়ে জনসম্মুক্ষে গেলেন।
১৯৯
উযূ গামলা হতে উযূ করা।
ইয়াহ্ইয়া (রহ.)
ইয়াহ্ইয়া (রহ.) বলেনঃ আমার চাচা উযূর পানি অধিক খরচ করতেন। একদা তিনি ‘আব্দুল্লাহ্ ইবনু যায়দ (রাযি.)-কে বললেনঃ ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে উযূ করতেন আপনি কি তা দেখেছেন?’ তিনি এক গামলা পানি আনালেন। সেটি উভয় হাতে কাত করে (তা থেকে পানি ঢেলে) হাত দু’টি তিনবার ধুলেন, অতঃপর তার হাত গামলায় ঢুকালেন। অতঃপর এক খাবল (করে) পানি দিয়ে তিনবার কুলি করলেন এবং নাক ঝাড়লেন। তারপর পানিতে তাঁর হাত ঢুকালেন। উভয় হাতে এক খাবল (করে) পানি নিয়ে মুখমন্ডল তিনবার ধুলেন। অতঃপর উভয় হাত কনুই পর্যন্ত দু’বার করে ধুলেন। অতঃপর উভয় হাতে পানি নিয়ে মাথার সামনে এবং পেছনে মাসেহ করলেন এবং দু’ পা ধুলেন। তারপর বললেনঃ ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এভাবেই উযূ করতে দেখেছি।’
২০০
উযূ গামলা হতে উযূ করা।
আনাস (রাযি.)
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একপাত্র পানি চাইলে একটি বড় পাত্র তাঁর নিকট আনা হল, তাতে সামান্য পানি ছিল। তারপর তিনি তার মধ্যে তাঁর আঙ্গুল রাখলেন। আনাস (রাযি.) বলেনঃ আমি পানির দিকে তাকাতে লাগলাম। তাঁর আঙ্গুলের ভেতর দিয়ে পানি উপচে পড়তে লাগল। আনাস (রাযি.) বলেনঃ যারা উযূ করেছিল, আমি অনুমান করলাম তাদের সংখ্যা ছিল সত্তর হতে আশি জনের মত।