৩৫০০
মোট হাদিস
৩৫০০
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
১৬৭/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৫০০
১৬৬১
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) আরাফায় সওয়ারীর উপর অবস্থান করা।
উম্মু ফাযল বিনত হারিস (রাঃ)
উম্মু ফাযল বিনত হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, লোকজন তাঁর সামনে ‘আরাফার দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সওম সম্পর্কে মতভেদ করছিলেন। কেউ বলছিলেন তিনি সায়িম আবার কেউ বলছিলেন তিনি সায়িম নন। অতঃপর আমি তাঁর কাছে এক পিয়ালা দুধ পাঠিয়ে দিলাম, তিনি তখন উটের উপর উপবিষ্ট ছিলেন, তিনি তা পান করে নিলেন।
১৬৬২
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) আরাফায় দু’ সালাত একসঙ্গে আদায় করা।
সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.)
সালিম (রহ.) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, যে বছর হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ ইবনু যুবাইরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন, সে বছর তিনি ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আরাফার দিনে উকূফের সময় আমরা কিরূপে কাজ করব? সালিম (রহ.) বললেন, আপনি যদি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চান তাহলে ‘আরাফার দিনে দুপুরে সালাত আদায় করবেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, সালিম ঠিক বলেছে। সুন্নাত মুতাবিক সাহাবীগণ যুহর ও ‘আসর এক সাথেই আদায় করতেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি সালিমকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও কি এরূপ করেছেন? তিনি বললেন, এ ব্যাপারে তোমরা কি আল্লাহর রাসূল (স)-এর সুন্নাত ব্যতীত অন্য কারো অনুসরণ করবে?
১৬৬৩
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) আরাফার খুতবা সংক্ষিপ্ত করা।
সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.)
সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, (খলীফা) ‘আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান (মক্কার গভর্নর) হাজ্জাজকে লিখে পাঠালেন, তিনি যেন হাজ্জের ব্যাপারে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে অনুসরণ করেন। যখন ‘আরাফার দিন হল, তখন সূর্য ঢলে যাওয়ার পর ইবনু ‘উমার (রহ.) আসলেন এবং আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। তিনি তাঁর তাঁবুর কাছে এসে উচ্চস্বরে ডাকলেন ও কোথায়? হাজ্জাজ বেরিয়ে আসলেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, চল। হাজ্জাজ বললেন, এখনই? তিনি বললেন, হাঁ। হাজ্জাজ বললেন, আমাকে একটু অবকাশ দিন, আমি গায়ে একটু পানি ঢেলে নিই। তখন ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাঁর সওয়ারী হতে নেমে পড়লেন। অবশেষে হাজ্জাজ বেরিয়ে এলেন। এরপর তিনি আমার ও আমার পিতার মাঝে চলতে লাগলেন। আমি বললাম, আজ আপনি যদি সঠিকভাবে সুন্নাত মুতাবিক কাজ করতে চান তাহলে খুত্বা সংক্ষিপ্ত করবেন এবং উকূফে দ্রুত করবেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, সে (সালিম) ঠিকই বলেছে।
১৬৬৪
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) আরাফায় অবস্থান করা।
জুবাইর ইবনু মুত‘য়িম (রাঃ)
জুবাইর ইবনু মুত‘য়িম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার একটি উট হারিয়ে ‘আরাফার দিনে তা তালাশ করতে লাগলাম। তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ‘আরাফায় উকূফ করতে দেখলাম এবং বললাম, আল্লাহর কসম! তিনি তো কুরায়শ বংশীয়।[1] এখানে তিনি কী করছেন?
১৬৬৫
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) আরাফায় অবস্থান করা।
উরওয়াহ (রহ.)
উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, জাহিলী যুগে হুমস ব্যতীত অন্য লোকেরা উলঙ্গ অবস্থায় (বাইতুল্লাহর) তাওয়াফ করত। আর হুমস্ হলো কুরায়শ এবং তাদের ঔরসজাত সন্তান-সন্ততি। হুমসরা লোকেদের সেবা করে সওয়াবের আশায় পুরুষ পুরুষকে কাপড় দিত এবং সে তা পরে তাওয়াফ করত। আর স্ত্রীলোক স্ত্রীলোককে কাপড় দিত এবং এ কাপড়ে সে তাওয়াফ করত। হুমসরা যাকে কাপড় না দিত সে উলঙ্গ অবস্থায় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করত। সব লোক ‘আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করত আর হুমসরা প্রত্যাবর্তন করত মুযদালিফা হতে। রাবী হিশাম (রহ.) বলেন, আমার পিতা আমার নিকট ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, এই আয়াতটি হুমস সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ (ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ) (এরপর যেখান হতে অন্য লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান হতে প্রত্যাবর্তন করবে) রাবী বলেন, তারা মুযদালিফা হতে প্রত্যাবর্তন করত, এতে তাদের ‘আরাফাহ পর্যন্ত যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হল।
১৬৬৬
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) আরাফা হতে প্রত্যাবর্তনে চলার গতি।
উরওয়াহ (রহ.)
উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসামাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, তখন আমি সেখানে উপবিষ্ট ছিলাম, বিদায় হাজ্জের সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ’আরাফা হতে ফিরতেন তখন তাঁর চলার গতি কেমন ছিল? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুতগতিতে চলতেন এবং যখন পথ মুক্ত পেতেন তখন তার চাইতেও দ্রুতগতিতে চলতেন। রাবী হিশাম (রহ.) বলেন,عَنَقَ হতেও দ্রুতগতির ভ্রমণকে نَصَّ বলা হয়। আবূ ’আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, فَجْوَةٌ অর্থ مُتَّسَعٌ খোলা পথ, এর বহুবচন হল فَجَوَاتٌ ও فِجَاءٌ। رَكْوَةٌ ও رِكَاءٌ শব্দদ্বয়ও অনুরূপ। (কুরআনে বর্ণিত) (مَنَاصٌ) (ص : ৩০) এর অর্থ হল, ’’পরিত্রাণের কোন উপায়-অবকাশ নেই।’’
১৬৬৭
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) আরাফা ও মুযদালিফার মধ্যবর্তী স্থানে অবতরণ করা।
উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)
উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ‘আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করছিলেন তখন তিনি একটি গিরিপথের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন মিটিয়ে উযূ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সালাত আদায় করবেন? তিনি বললেনঃ সালাত তোমার আরো সামনে।
১৬৬৮
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) আরাফা ও মুযদালিফার মধ্যবর্তী স্থানে অবতরণ করা।
নাফি‘ (রহ.)
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) মুযদালিফায় মাগরিব ও ‘ইশার সালাত এক সাথে আদায় করতেন। এছাড়া তিনি সেই গিরিপথ দিয়ে অতিক্রম করতেন যে দিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিয়েছিলেন। আর সেখানে প্রবেশ করে তিনি ইসতিনজা করতেন এবং উযূ করতেন কিন্তু সালাত আদায় করতেন না। অবশেষে তিনি মুযদালিফায় পৌঁছে সালাত আদায় করতেন।
১৬৬৯
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) আরাফা ও মুযদালিফার মধ্যবর্তী স্থানে অবতরণ করা।
উসামাহ ইবনু যায়েদ (রাঃ)
উসামাহ ইবনু যায়েদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আরাফা হতে সওয়ারীতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পেছনে আরোহণ করলাম। মুযদালিফার নিকটবর্তী বামপার্শ্বের গিরিপথে পৌঁছলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটটি বসালেন। এরপর পেশাব করে আসলেন। আমি তাঁকে উযূর পানি ঢেলে দিলাম। আর তিনি হালকাভাবে উযূ করে নিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সালাত? তিনি বললেনঃ সালাত তোমার আরো সামনে। এ কথা বলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীতে আরোহণ করে মুযদালিফা আসলেন এবং সালাত আদায় করলেন। মুযদালিফার ভোরে ফযল [ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)] আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে আরোহণ করলেন।
১৬৭০
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) আরাফা ও মুযদালিফার মধ্যবর্তী স্থানে অবতরণ করা।
কুরাইব (রহ.)
কুরাইব (রহ.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) ফযল (রাঃ) হতে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায় পৌঁছা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থাকেন।