৩৫০০
মোট হাদিস
৩৫০০
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
১৬১/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৫০০
১৬০১
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কা‘বা ঘরের অভ্যন্তরে চতুর্দিকে তাকবীর ধ্বনি দেয়া।
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (মক্কা্) এলেন, তখন কা‘বা ঘরে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানান। কেননা কা‘বা ঘরের ভিতরে মূর্তি ছিল। তিনি নির্দেশ দিলেন এবং মূর্তিগুলো বের করে ফেলা হল। (এক পর্যায়ে) ইব্রাহীম ও ইসমা‘ঈল (‘আ.)-এর প্রতিকৃতি বের করে আনা হয় তাদের উভয়ের হাতে জুয়া খেলার তীর ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ! (মুশরিকদের) ধ্বংস করুন। আল্লাহর কসম! অবশ্যই তারা জানে যে, [ইব্রাহীম ও ইসমাঈ‘ল (‘আ.)] তীর দিয়ে অংশ নির্ধারণের ভাগ্য পরীক্ষা কখনো করেননি। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা ঘরে প্রবেশ করেন এবং ঘরের চারদিকে তাকবীর বলেন। কিন্তু ঘরের ভিতরে সালাত আদায় করেননি।
১৬০২
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) রামল কিভাবে শুরু হয়েছিল।
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে নিয়ে মক্কা্ আগমন করলে মুশরিকরা মন্তব্য করল, এমন একদল লোক আসছে যাদেরকে ইয়াসরিব-এর (মাদ্বীনার) জ্বর দুর্বল করে দিয়েছে (এ কথা শুনে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে ‘রামল’ করতে (উভয় কাঁধ হেলে দুলে জোর কদমে চলতে) এবং উভয় রুকনের মধ্যবর্তী স্থানটুকু স্বাভাবিক গতিতে চলতে নির্দেশ দিলেন, সাহাবীদের প্রতি দয়াবশত সব ক’টি চক্করে রামল করতে আদেশ করেননি।
১৬০৩
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) মক্কাহ্য় আগমনের পরই তাওয়াফের প্রারম্ভে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন ও স্পর্শ করা এবং তিন চক্করে রামল করা।
আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ)
আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কা্য় উপনীত হয়ে তাওয়াফের শুরুতে হাজরে আসওয়াদ ইসতিলাম (চুম্বন, স্পর্শ- করতে এবং সাত চক্করের মধ্যে প্রথম তিন চক্করে রামল করতে দেখেছি।
১৬০৪
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) হজ্জ ও ‘উমরাতে রামল করা।
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ এবং ‘উমরাহ’র তাওয়াফে (প্রথম) তিন চক্করে রামল করেছেন, অবশিষ্ট চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে চলেছেন। লাইস (রহ.) হাদীস বর্ণনায় সুরাইজ ইবনু নু‘মান (রহ.)-এর অনুসরণ করে বলেন, কাসীর ইবনু ফারকাদ (রহ.)...ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।
১৬০৫
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) হজ্জ ও ‘উমরাতে রামল করা।
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হাজরে আসওয়াদকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে! আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চিতরূপে জানি তুমি একটি পাথর, তুমি কারও কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না। এরপর তিনি চুম্বন করলেন। পরে বললেন, আমাদের রামল করার উদ্দেশ্য কী ছিল? আমরা তো রামল করে মুশরিকদেরকে আমাদের শক্তি প্রদর্শন করেছিলাম। আল্লাহ এখন তাদের ধ্বংস করে দিয়েছেন। এরপর বললেন, যেহেতু এই (রামল) কাজটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন, তাই তা পরিত্যাগ করা পছন্দ করি না।
১৬০৬
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) হজ্জ ও ‘উমরাতে রামল করা।
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে (তাওয়াফ করার সময়) এ দু’টি রুকন ইসতিলাম (চুমু) করতে দেখেছি, তখন হতে ভীড় থাকুক বা নাই থাকুক কোন অবস্থাতেই এ দু’-এর ইসতিলাম (চুমু) করা বাদ দেইনি। [রাবী ‘উবাইদুল্লাহ (রহ.) বলেন] আমি নাফি‘ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ইবনু ‘উমার (রাঃ) কি ঐ ‘দু’ রুকনের মধ্যবর্তী স্থানে স্বাভাবিক গতিতে চলতেন? তিনি বললেন, সহজে ইসতিলাম করার উদ্দেশে তিনি (এতদুভয়ের মাঝে) স্বাভাবিকভাবে চলতেন।
১৬০৭
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) লাঠি বা ছড়ির মাধ্যমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা।
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উটের পিঠে আরোহণ করে তাওয়াফ করার সময় ছড়ির মাধ্যমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেন। দারাওয়ার্দী (রহ.) হাদীস বর্ণনায় ইউনুস (রহ.)-এর অনুসরণ করে ইবনু আবিয যুহরী (রহ.) সূত্রে তার চাচা (যুহরী) (রহ.) হতে রিওয়ায়াত করেছেন।
১৬০৮
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) যে কেবল দুই ইয়ামানী রুকনকে চুম্বন করে।
আবুশ-শা‘সা (রহ.)
আবুশ-শা‘সা (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, কে আছে বায়তুল্লাহর কোন অংশ (কোন রুকনের ইস্তিলাম) ছেড়ে দেয়; মু‘আবিয়াহ (রাঃ) (চার) রুকনের ইস্তিলাম করতেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তাঁকে বললেন, আমরা এ দু’রুকন-এর চুম্বন করি না। তখন মু‘আবিয়াহ (রাঃ) তাঁকে বললেন, বায়তুল্লাহর কোন অংশই বাদ দেয়া যেতে পারে না। ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) সব কয়টি রুকন ইস্তিলাম করতেন।
১৬০৯
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) যে কেবল দুই ইয়ামানী রুকনকে চুম্বন করে।
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কেবল ইয়ামানী দু’ রুকনকে ইস্তিলাম করতে দেখেছি।
১৬১০
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা।
আসলাম (রহ.)
আসলাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করতে দেখেছি। আর তিনি বললেন, যদি আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখতাম তাহলে আমিও তোমায় চুম্বন করতাম না।