৩৫০০
মোট হাদিস
৩৫০০
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
১৫৮/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৫০০
১৫৭১
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে হজ্জে তামাত্তু‘।
ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)
ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে হাজ্জে তামাত্তু‘ করেছি, কুরআনেও তার বিধান নাযিল হয়েছে অথচ এক ব্যক্তি তার ইচ্ছামত অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
১৫৭২
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) মহান আল্লাহর বাণীঃ তা (হজ্জে তামাত্তু‘) তাদের জন্য, যাদের পরিবার-পরিজন মাসজিদুল হারামের (সীমানার) মধ্যে বসবাস করে না। (আল-বাকারাঃ ১৯৬)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, হাজ্জে তামাত্তু‘ সম্পর্কে তাঁর নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বললেন, বিদায় হাজ্জের বছর আনসার ও মুহাজির সাহাবীগণ, নবী-সহধর্মিণীগণ ইহরাম বাঁধলেন, আর আমরাও ইহরাম বাঁধলাম। আমরা মক্কা্য় পৌঁছলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা হাজ্জ-এর ইহরামকে ‘উমরায় পরিণত কর। তবে যারা কুরবানীর পশুর গলায় মালা ঝুলিয়েছে, তাদের কথা ব্যতিক্রম (তারা ইহরাম ভঙ্গ করতে পারবে না)। আমরা বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সা‘য়ী করলাম। এরপর স্ত্রী-সহবাস করলাম এবং কাপড়-চোপড় পরিধান করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি কুরবানীর জন্য উপস্থিত করার উদ্দেশে পশুর গলায় মালা ঝুলিয়েছে, পশু কুরবানীর স্থানে না পৌঁছা পর্যন্ত সে হালাল হতে পারে না। এরপর যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখ বিকালে আমাদেরকে হাজ্জ-এর ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দেন। যখন আমরা হাজ্জ-এর সকল কার্য শেষ করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সা‘য়ী করে অবসর হলাম, তখন আমাদের হাজ্জ পূর্ণ হল এবং আমাদের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব হলো। যেমন মহান আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ ‘‘যার পক্ষে সম্ভব সে একটি কুরবানী করবে, আর যার পক্ষে সম্ভব নয় সে হাজ্জ চলাকালে তিনটি সওম পালন করবে এবং ফিরে এসে সাত দিন সওম পালন করবে অর্থাৎ নিজ দেশে ফিরে’’- (আল-বাকারাঃ ১৯৬)। একটি বকরীই দম হিসেবে কুরবানীর জন্য যথেষ্ট। একই বছরে সাহাবীগণ হাজ্জ ও ‘উমরাহ একসাথে আদায় করলেন। আল্লাহ তাঁর কুরআনে এ বিধান নাযিল করেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ তরীকা জারী করেছেন আর মক্কা্বাসী ব্যতীত অন্যদের জন্য তা বৈধ করেছেন। আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ ‘‘(হাজ্জে তামাত্তু‘) তাদের জন্য, যাদের পরিবার-পরিজন মসজিদে হারামের (হারামের সীমার) মধ্যে বাস করে না’’- (আল-বাকারাঃ ১৯৬)। আল্লাহ তাঁর কুরআনে হাজ্জের যে মাসগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন তা হলো ঃ শাওয়াল, যিলক্বাদ ও যিলহাজ্জ। যারা এ মাসগুলোতে তামাত্তু‘ হাজ্জ করবে তাদের অবশ্য দম দিতে হবে অথবা সওম পালন করতে হবে। الرَّفَثُ অর্থ স্ত্রী সহবাস, الْفُسُوقُ অর্থ গুনাহ, الْجِدَالُ অর্থ বিবাদ।
১৫৭৩
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) হারামের নিকটবর্তী স্থানে পৌছলে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দিতেন। অতঃপর যী-তুয়া নামক স্থানে রাত যাপন করতেন। এরপর সেখানে ফজরের সালাত আদায় করতেন ও গোসল করতেন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।
নাফি‘ (রহ.)
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) হারামের নিকটবর্তী স্থানে পৌছলে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দিতেন। অতঃপর যী-তুয়া নামক স্থানে রাত যাপন করতেন। এরপর সেখানে ফজরের সালাত আদায় করতেন ও গোসল করতেন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।
১৫৭৪
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) দিবাভাগে ও রাত্রিকালে মক্কায় প্রবেশ করা।
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোর পর্যন্ত যী-তুয়ায় রাত যাপন করেন, অতঃপর মক্কায় প্রবেশ করেন। (রাবী নাফি‘ বলেন) ইবনু ‘উমার (রাঃ)-ও এরূপ করতেন।
১৫৭৫
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কোন্ দিক হতে মক্কাহ্য় প্রবেশ করবে।
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সানিয়্যাতুল ‘উলয়া (হারামের উত্তর-পূর্বদিকে কাদা নামক স্থান দিয়ে) মক্কা্য় প্রবেশ করতেন এবং সানিয়্যা সুফলা (হারামের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে কুদা নামক স্থান) দিয়ে বের হতেন।
১৫৭৬
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কোন্ দিক দিয়ে মক্কাহ্ হতে বের হবে।
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাত্হায় অবস্থিত সানিয়্যা ‘উলয়ার কাদা নামক স্থান দিয়ে মক্কা্য় প্রবেশ করেন এবং সানিয়্যা সুফ্লার দিক দিয়ে বের হন।
১৫৭৭
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কোন্ দিক দিয়ে মক্কাহ্ হতে বের হবে।
আয়িশাহ্ (রাযি.)
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা্য় আসেন তখন এর উচ্চ স্থান দিয়ে প্রবেশ করেন এবং নীচু স্থান দিয়ে ফিরার পথে বের হন।
১৫৭৮
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কোন্ দিক দিয়ে মক্কাহ্ হতে বের হবে।
আয়িশাহ্ (রাযি.)
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্ বিজয়ের বছর কাদা-র পথে (মক্কা্য়) প্রবেশ করেন এবং বের হন কুদা-র পথে যা মক্কার উঁচু স্থানে অবস্থিত।
১৫৭৯
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কোন্ দিক দিয়ে মক্কাহ্ হতে বের হবে।
আয়িশাহ্ (রাযি.)
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্ বিজয়ের বছর কাদা নামক স্থান দিয়ে মক্কার উঁচু ভূমির দিক হতে মক্কা্য় প্রবেশ করেন। রাবী হিশাম (রহ.) বলেন, (আমার পিতা) ‘উরওয়া (রহ.) কাদা ও কুদা উভয় স্থান দিয়ে (মক্কা্য়) প্রবেশ করতেন। তবে অধিকাংশ সময় কুদা দিয়ে প্রবেশ করতেন, কেননা তাঁর বাড়ি এ পথে অধিক নিকটবর্তী ছিল।
১৫৮০
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কোন্ দিক দিয়ে মক্কাহ্ হতে বের হবে।
উরওয়া (রহ.)
উরওয়া (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্ বিজয়ের বছর মক্কার উঁচু ভূমি কাদা দিয়ে (মক্কা্য়) প্রবেশ করেন। [রাবী হিশাম (রহ.) বলেন] ‘উরওয়া (রহ.) অধিকাংশ সময় কুদা’র পথে প্রবেশ করতেন, কেননা তাঁর বাড়ি এ পথের অধিক নিকটবর্তী ছিল।