তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

ফিল্টার
মোট: ৩৪৯৯
পৃষ্ঠা ৯৯ / ৩৫০
দুই’ঈদ ঈদমাঠে ঋতুমতী নারীদের আলাদা অবস্থান। উম্মু আতিয়্যাহ (রাযি.)
৯৮১ হাদিস নং
উম্মু আতিয়্যাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (ঈদের দিন) আমাদেরকে বের হবার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তাই আমরা ঋতুমতী, যুবতী এবং তাঁবুতে অবস্থানকারিণী নারীদেরকে নিয়ে বের হতাম। ইবনু ‘আওন (রহ.)-এর এক বর্ণনায় রয়েছে, অথবা তাঁবুতে অবস্থানকারিণী যুবতী নারীদেরকে নিয়ে বের হতাম। অতঃপর ঋতুমতী মহিলাগণ মুসলিমদের জামা‘আত এবং তাদের দু‘আয় অংশগ্রহণ করতেন। তবে ‘ঈদমাঠে পৃথকভাবে অবস্থান করতেন।
দুই’ঈদ কুরবানীর দিন ‘ঈদমাঠে নাহর ও যবহ্। ইবনু ‘উমার (রাযি.)
৯৮২ হাদিস নং
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদমাঠে নাহর করতেন কিংবা যবেহ করতেন।
দুই’ঈদ ঈদের খুতবাহর সময় ইমাম ও লোকদের কথা বলা এবং খুতবাহর সময় ইমামের নিকট কোন কিছু জিজ্ঞেস করা হলে। বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাযি.)
৯৮৩ হাদিস নং
বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরবানীর দিন সালাতের পর রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে খুৎবা দিলেন। খুৎবাহ্য় তিনি বললেন, যে আমাদের মতো সালাত আদায় করবে এবং আমাদের কুরবানীর মত কুরবানী করবে, তার কুরবানী যথার্থ বলে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে কুরবানী করবে তার সে কুরবানী গোশ্ত খাওয়া ছাড়া আর কিছু হবে না। তখন আবূ বুরদাহ্ ইবনু নিয়ার (রাযি.) তখন দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! আমি তো সালাতে বের হবার পূর্বেই কুরবানী করে ফেলেছি। আমি ভেবেছি যে, আজকের দিনটি তো পানাহারের দিন। তাই আমি তাড়াতাড়ি করে ফেলেছি। আমি নিজে খেয়েছি এবং আমার পরিবারবর্গ ও প্রতিবেশীদেরকেও আহার করিয়েছি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওটা গোশ্ত খাবার বকরী ছাড়া আর কিছু হয়নি। আবূ বুরদাহ (রাযি.) বলেন, তবে আমার নিকট এমন একটি মেষ শাবক আছে যা দু’টো (গোশ্ত খাওয়ার) বকরীর চেয়ে ভাল। এটা কি আমার পক্ষে কুরবানীর জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তবে তোমার পরে অন্য কারো জন্য যথেষ্ট হবে না।
দুই’ঈদ ঈদের খুতবাহর সময় ইমাম ও লোকদের কথা বলা এবং খুতবাহর সময় ইমামের নিকট কোন কিছু জিজ্ঞেস করা হলে। আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
৯৮৪ হাদিস নং
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন সালাত আদায় করেন, অতঃপর খুৎবাহ দিলেন। অতঃপর নির্দেশ দিলেন, যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে কুরবানী করেছে সে যেন পুনরায় কুরবানী করে। তখন আনসারদের মধ্য হতে জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার প্রতিবেশীরা ছিল উপবাসী অথবা বলেছেন দরিদ্র। তাই আমি সালাতের পূর্বেই যবেহ করে ফেলেছি। তবে আমার নিকট মেষশাবক আছে যা দু’টি হৃষ্টপুষ্ট বকরির চাইতেও আমার নিকট অধিক পছন্দসই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সেটা কুরবানী করার অনুমতি দেন।
দুই’ঈদ ঈদের খুতবাহর সময় ইমাম ও লোকদের কথা বলা এবং খুতবাহর সময় ইমামের নিকট কোন কিছু জিজ্ঞেস করা হলে। জুনদাব ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.)
৯৮৫ হাদিস নং
নদাব ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন সালাত আদায় করেন, অতঃপর খুৎবাহ দেন। অতঃপর যবেহ করেন এবং তিনি বলেনঃ সালাতের পূর্বে যে ব্যক্তি যবেহ করবে তাকে তার স্থলে আর একটি যবেহ করতে হবে এবং যে যবেহ করেনি, আল্লাহর নামে তার যবেহ করা উচিত।
দুই’ঈদ ঈদের দিন প্রত্যাবর্তন করার সময় যে ব্যক্তি ভিন্ন পথে আসে। জাবির (রাযি.)
৯৮৬ হাদিস নং
জাবির (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদের দিন (বাড়ী ফেরার পথে) ভিন্ন পথে আসতেন। ইউনুস ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে হাদীস বর্ণনায় আবূ তুমাইলা ইয়াহ্ইয়া (রহ.) এর অনুসরণ করেছেন। তবে জাবির (রাযি.) হতে হাদীসটি অধিকতর বিশুদ্ধ।
দুই’ঈদ কারো ‘ঈদের নামায ছুটে গেলে সে দু’ রা‘কাআত সালাত আদায় করবে। আয়িশাহ্ (রাযি.)
৯৮৭ হাদিস নং
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আবূ বকর (রাযি.) তাঁর নিকট এলেন। এ সময় মিনার দিবসগুলোর এক দিবসে তাঁর নিকট দু’টি মেয়ে দফ বাজাচ্ছিল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদর আবৃত অবস্থায় ছিলেন। তখন আবূ বকর (রাযি.) মেয়ে দু’টিকে ধমক দিলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখমন্ডল হতে কাপড় সরিয়ে নিয়ে বললেন, হে আবূ বকর! ওদের বাধা দিও না। কেননা, এসব ‘ঈদের দিন। আর সে দিনগুলো ছিল মিনার দিন।
দুই’ঈদ কারো ‘ঈদের নামায ছুটে গেলে সে দু’ রা‘কাআত সালাত আদায় করবে। আয়িশাহ্ (রাযি.)
৯৮৮ হাদিস নং
আয়িশাহ্ (রাযি.) আরো বলেছেন, হাবশীরা যখন মসজিদে (এর প্রাঙ্গণে) খেলাধূলা করছিল, তখন আমি তাদের দেখছিলাম এবং আমি দেখেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আড়াল করে রেখেছেন। ‘উমার (রাযি.) হাবশীদের ধমক দিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওদের ধমক দিও না। হে বনূ আরফিদা! তোমরা যা করছিলে তা কর।
দুই’ঈদ ঈদের সালাতের আগে ও পরে সালাত আদায় করা। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
৯৮৯ হাদিস নং
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাযি.)-কে সঙ্গে নিয়ে ‘ঈদুল ফিত্রের দিন বের হয়ে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। তিনি এর পূর্বে ও পরে কোন সালাত আদায় করেননি।
বিতর বিতরের বর্ণনা। ইবনু ‘উমার (রাযি.)
৯৯০ হাদিস নং
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ রাতের সালাত দু’ দু’ (রাক‘আত) করে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি ফজর হবার আশঙ্কা করে, সে যেন এক রাক‘আত সালাত আদায় করে নেয়। আর সে যে সালাত আদায় করল, তা তার জন্য বিতর হয়ে যাবে।