তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: দুই’ঈদ | উপ-অধ্যায়: পায়ে হেঁটে বা সওয়ারীতে আরোহণ করে ‘ঈদের জামা‘আতে যাওয়া এবং আযান ও ইক্বামাত ব্যতীত খুতবাহর পূর্বে সালাত আদায় করা। | বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৯৬১): জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে এ-ও বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে প্রথমে সালাত আদায় করলেন এবং পরে লোকদের উদ্দেশে খুৎবাহ দিলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবাহ শেষ করলেন, তিনি (মিম্বর হতে) নেমে মহিলাগণের (কাতারের) নিকট আসলেন এবং তাঁদের নাসীহাত করলেন। তখন তিনি বিলাল (রাযি.)-এর হাতে ভর করেছিলেন এবং বিলাল (রাযি.) তাঁর কাপড় ছড়িয়ে ধরলে, নারীরা এতে সাদাকার বস্তু ফেলতে লাগলেন। আমি ‘আতা (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি এখনো যরুরী মনে করেন যে, ইমাম খুৎবাহ শেষ করে নারীদের নিকট এসে তাদের নাসীহাত করবেন? তিনি বললেন, নিশ্চয় তা তাদের জন্য অবশ্যই জরুরী। তাদের কী হয়েছে যে, তাঁরা তা করবে না?
অধ্যায়: দুই’ঈদ | উপ-অধ্যায়: ঈদের সালাতের পর খুতবাহ। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
হাদিস নং (৯৬২): ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর, ‘উমার এবং ‘উসমান (রাযি.)-এর সঙ্গে সালাতে হাযির ছিলাম। সকলেই খুৎবাহর আগে সালাত আদায় করতেন।
অধ্যায়: দুই’ঈদ | উপ-অধ্যায়: ঈদের সালাতের পর খুতবাহ। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাযি.)
হাদিস নং (৯৬৩): ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর এবং ‘উমার (রাযি.) উভয় ‘ঈদের সালাত খুৎবার আগে আদায় করতেন।
অধ্যায়: দুই’ঈদ | উপ-অধ্যায়: ঈদের সালাতের পর খুতবাহ। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
হাদিস নং (৯৬৪): ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ফিত্রে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। এর পূর্বে ও পরে কোন সালাত আদায় করেননি। অতঃপর বিলাল (রাযি.)-কে সঙ্গে নিয়ে নারীদের নিকট এলেন এবং সাদাকা প্রদানের জন্য তাদের নির্দেশ দিলেন। তখন তাঁরা দিতে লাগলেন। নারীদের কেউ দিলেন আংটি, আবার কেউ দিলেন গলার হার।
অধ্যায়: দুই’ঈদ | উপ-অধ্যায়: ঈদের সালাতের পর খুতবাহ। | বর্ণনাকারী: বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাযি.)
হাদিস নং (৯৬৫): বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আজকের এ দিনে আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে সালাত আদায় করা। অতঃপর আমরা ফিরে আসব এবং কুরবানী করব। কাজেই যে ব্যক্তি তা করল, সে আমাদের নিয়ম পালন করল। যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে কুরবানী করল, তা শুধু গোশ্ত বলেই গণ্য হবে, যা সে পরিবারবর্গের জন্য পূর্বেই করে ফেলেছে। এতে কুরবানীর কিছুই নেই। তখন আবূ বুরদাহ ইবনু নিয়ার (রাযি.) নামক এক আনসারী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো যবেহ করে ফেলেছি। এখন আমার নিকট এমন একটি মেষ শাবক আছে যা এক বছর বয়সের মেষের চেয়ে উৎকৃষ্ট। তিনি বললেন, সেটির স্থলে এটাকে যবেহ করে দাও। তবে তোমার পর অন্য কারো জন্য তা যথেষ্ট হবে না।
অধ্যায়: দুই’ঈদ | উপ-অধ্যায়: ঈদের জামা‘আতে এবং হারাম শরীফে অস্ত্রবহন করা নিষিদ্ধ। | বর্ণনাকারী: সা‘ঈদ ইবনু জুবায়র
হাদিস নং (৯৬৬): সা‘ঈদ ইবনু জুবায়র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর সংগে ছিলাম যখন বর্শার অগ্রভাগ তাঁর পায়ের তলদেশে বিদ্ধ হয়েছিল। ফলে তাঁর পা রেকাবের সঙ্গে আটকে গিয়েছিল। আমি তখন নেমে সেটি টেনে বের করে ফেললাম। এটা ঘটেছিল মিনায়। এ সংবাদ হাজ্জাজের নিকট পৌঁছলে তিনি তাঁকে দেখতে আসেন। হাজ্জাজ বললো, যদি আমি জানতে পারতাম কে আপনাকে আঘাত করেছে, (তবে তাকে শাস্তি দিতাম)। তখন ইবনু ‘উমার (রাযি.) বললেন, তুমিই আমাকে আঘাত করেছ। সে বলল, তা কিভাবে? ইবনু ‘উমার (রাযি.) বললেন, তুমিই সেদিন (ঈদের দিন) অস্ত্র ধারণ করেছ, যে দিন অস্ত্র বহন করা হতো না। তুমিই অস্ত্রকে হারামের মধ্যে প্রবেশ করিয়েছ অথচ হারামের মধ্যে কখনো অস্ত্র প্রবেশ করা হয় না।
অধ্যায়: দুই’ঈদ | উপ-অধ্যায়: ঈদের জামা‘আতে এবং হারাম শরীফে অস্ত্রবহন করা নিষিদ্ধ। | বর্ণনাকারী: সা‘ঈদ ইব্‌নু আস (রাযি.)
হাদিস নং (৯৬৭): সা‘ঈদ ইব্‌নু আস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইব্‌নু ‘উমার (রাযি.)-এর নিকট হাজ্জাজ এলো। আমি তখন তাঁর নিকট ছিলাম। হাজ্জাজ জিজ্ঞেস করলো, তিনি কেমন আছেন? ইব্‌নু ‘উমার (রাযি.) বললেন, ভাল। হাজ্জাজ জিজ্ঞেস করলো, আপনাকে কে আঘাত করেছে? তিনি বললেন, আমাকে সে ব্যক্তি আঘাত করেছে যে, সে দিন অস্ত্র বহনের আদেশ দিয়েছে যে দিন তা বহন করা বৈধ নয়। অর্থাৎ হাজ্জাজ।
অধ্যায়: দুই’ঈদ | উপ-অধ্যায়: ঈদের সালাতের জন্য সকাল সকাল যাত্রা করা। | বর্ণনাকারী: বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাযি.)
হাদিস নং (৯৬৮): বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন আমাদের উদ্দেশে খুৎবা দেন। তিনি বলেন, আজকের দিনে আমাদের প্রথম কাজ হল সালাত আদায় করা। অতঃপর ফিরে এসে কুরবানী করা। যে ব্যক্তি এরূপ করবে সে আমাদের রীতি পালন করল। যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বেই যবেহ করবে, তা শুধু গোশ্তের জন্যই হবে, যা সে পরিবারের জন্য তাড়াতাড়ি করে ফেলেছে। কুরবানী সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। তখন আমার মামা আবূ বুরদাহ ইবনু নিয়ার (রাযি.) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো সালাতের পূর্বেই যবেহ করে ফেলেছি। তবে এখন আমার নিকট এমন একটি মেষশাবক আছে যা ‘মুসিন্না’* মেষের চাইতেও উত্তম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার স্থলে এটিই (কুরবানী) করে নাও। অথবা তিনি বললেনঃ এটিই যবেহ কর। তবে তুমি ব্যতীত আর কারো জন্যই মেষ শাবক যথেষ্ট হবে না।
অধ্যায়: দুই’ঈদ | উপ-অধ্যায়: তাশরীকের দিনগুলোতে ‘আমলের গুরুত্ব। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
হাদিস নং (৯৬৯): ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের ‘আমলের চেয়ে অন্য কোন দিনের ‘আমলই উত্তম নয়। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, জিহাদও কি (উত্তম) নয়? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জিহাদও নয়। তবে সে ব্যক্তির কথা ছাড়া যে নিজের জান ও মালের ঝুঁকি নিয়েও জিহাদে যায় এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না।
অধ্যায়: দুই’ঈদ | উপ-অধ্যায়: মিনা’র দিনগুলোতে এবং সকালে আরাফাহ্য় যাওয়ার সময় তাকবীর বলা। | বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বকর সাক্বাফী (রহ.)
হাদিস নং (৯৭০): মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বকর সাক্বাফী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সকাল বেলা মিনা হতে যখন ‘আরাফাতের দিকে যাচ্ছিলাম, তখন আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)-এর নিকট তালবিয়াহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে কিরূপ করতেন? তিনি বললেন, তালবিয়া পাঠকারী তালবিয়াহ পড়ত, তাকে নিষেধ করা হতো না। তাকবীর পাঠকারী তাকবীর পাঠ করত, তাকেও নিষেধ করা হতো না।