অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: ইমাম খুতবাহ দেয়ার সময় যিনি মসজিদে আগমন করবেন তার সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করা। |
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৯৩১):
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক জুমু‘আহর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবাহ দেয়ার সময় এক ব্যক্তি প্রবেশ করলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, সালাত আদায় করেছ কি? সে বলল, না; তিনি বললেনঃ উঠ, দু’ রাক‘আত সালাত আদায় কর।
|
অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: খুতবাহ্য় দু’ হাত উত্তোলন করা। |
বর্ণনাকারী: আনাস (রাযি.)
হাদিস নং (৯৩২):
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক জুমু‘আহর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবাহ দিচ্ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! (পানির অভাবে) ঘোড়া মরে যাচ্ছে, ছাগল বকরীও মরে যাচ্ছে। কাজেই আপনি দু’আ করুন, যেন আল্লাহ্ আমাদেরকে বৃষ্টি দান করেন। তখন তিনি দু’ হাত প্রসারিত করলেন এবং দু‘আ করলেন।
|
অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: জুমু‘আহর দিন খুত্বায় বৃষ্টির জন্য দু‘আ পাঠ করা। |
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
হাদিস নং (৯৩৩):
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে একবার দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সে সময় কোন এক জুমু‘আহর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবাহ দিচ্ছিলেন। তখন এক বেদুইন উঠে দাঁড়াল এবং আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল! (বৃষ্টির অভাবে) সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পরিবার পরিজনও অনাহারে রয়েছে। তাই আপনি আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য দু‘আ করুন। তিনি দু’ হাত তুললেন। সে সময় আমরা আকাশে এক খন্ড মেঘও দেখিনি। যাঁর হাত আমার প্রাণ, তাঁর শপথ (করে বলছি)! (দু‘আ শেষে) তিনি দু’ হাত (এখনও) নামান নি, এমন সময় পাহাড়ের ন্যায় মেঘের বিরাট বিরাট খন্ড উঠে আসল। অতঃপর তিনি মিম্বার হতে নীচে নামেননি, এমন সময় দেখতে পেলাম তাঁর দাড়ির উপর ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়ছে। সে দিন আমাদের এখানে বৃষ্টি হল। এর পরে ক্রমাগত দু’দিন এবং পরবর্তী জুমু‘আহ পর্যন্ত প্রত্যেক দিন। (পরবর্তী জুমু‘আহর দিন) সে বেদুইন অথবা অন্য কেউ উঠে দাঁড়াল এবং আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল! (বৃষ্টির কারণে) এখন আমাদের বাড়ি ঘর ধ্বসে পড়ছে, সম্পদ ডুবে যাচ্ছে। তাই আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট দু‘আ করুন। তখন তিনি দু’ হাত তুললেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহ্ আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় (বৃষ্টি দাও), আমাদের উপর নয়। (দু‘আর সময়) তিনি মেঘের এক একটি খন্ডের দিকে ইশারা করছিলেন, আর সেখানকার মেঘ কেটে যাচ্ছিল। এর ফলে চতুর্দিকে মেঘ পরিবেষ্টিত অবস্থায় ঢালের ন্যায় মদিনার আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেলে এবং কানাত উপত্যকার পানি একমাস ধরে প্রবাহিত হতে লাগল, তখন (মদিনার) চারপাশের যে কোন অঞ্চল হতে যে কেউ এসেছে, সে এ প্রবল বৃষ্টির কথা আলোচনা করেছে।
|
অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: জুমু‘আহর দিন ইমাম খুত্বাহ দেয়ার সময় অন্যকে চুপ করানো। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৯৩৪):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুমু‘আহর দিন যখন তোমার পাশের মুসল্লীকে চুপ থাক বলবে, অথচ ইমাম খুৎবাহ দিচ্ছেন, তা হলে তুমি একটি অনর্থক কথা বললে।
|
অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: জুমু‘আহর দিনের সে মুহূর্তটি। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৯৩৫):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহর দিন সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং বলেন, এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে কোন মুসলিম বান্দা যদি এ সময় সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নিকট কিছু প্রার্থনা করে, তবে তিনি তাকে অবশ্যই তা দিয়ে থাকেন এবং তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত।
|
অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: জুমু‘আহর সালাতে কিছু মুসল্লী যদি ইমামের নিকট হতে চলে যায় তাহলে ইমাম ও অবশিষ্ট মুসল্লীগণের সালাত বৈধ হবে। |
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৯৩৬):
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (জুমু‘আহর) সালাত আদায় করছিলাম। এমন সময় খাদ্য দ্রব্য বহণকারী একটি উটের কাফিলা হাযির হল এবং তারা (মুসল্লীগণ) সে দিকে এত অধিক মনোযোগী হলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে মাত্র বারোজন মুসল্লী অবশিষ্ট ছিলেন। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘এবং যখন তারা ব্যবসা বা খেল তামাশা দেখতে পেল তখন সে দিকে দ্রুত চলে গেল এবং আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে গেল’’- (সূরাহ্ জুমু‘আহ ৬২/১১)।
|
অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: জুমু‘আহর (ফরয সালাতের) পূর্বে ও পরে সালাত আদায় করা। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.)
হাদিস নং (৯৩৭):
আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের পূর্বে দু’ রাক‘আত ও পরে দু’ রাক‘আত, মাগরিবের পর নিজের ঘরে দু’ রাক‘আত এবং ‘ইশার পর দু‘ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। আর জুমু‘আহর দিন নিজের ঘরে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন না। (ঘরে গিয়ে) দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।
|
অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে তখন তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করবে।’’ (সূরাহ্ জুমু‘আহ ৬২/১০) |
বর্ণনাকারী: সাহল (রাযি.)
হাদিস নং (৯৩৮):
সাহল (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে বসবাসকারিণী জনৈকা মহিলা একটি ছোট নহরের পাশে ক্ষেতে বীটের চাষ করতেন। জুমু‘আহর দিনে সে বীটের মূল তুলে এনে রান্নার জন্য ডেগে চড়াতেন এবং এর উপর এক মুঠো যবের আটা দিয়ে রান্না করতেন। তখন এ বীট মূলই এর গোশ্ত (গোশতের বিকল্প) হয়ে যেত। আমরা জুমু‘আহর সালাত হতে ফিরে এসে তাঁকে সালাম দিতাম। তিনি তখন খাদ্য আমাদের সামনে রাখতেন এবং আমরা তা খেতাম। আমরা সে খাদ্যের আশায় জুমু‘আর দিন উদগ্রীব থাকতাম।
|
অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে তখন তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করবে।’’ (সূরাহ্ জুমু‘আহ ৬২/১০) |
বর্ণনাকারী: সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.)
হাদিস নং (৯৩৯):
সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে এ হাদীস বর্ণিত, তিনি আরো বলেছেন, জুমু‘আহ (সালাতের) পরই আমরা কায়লূলাহ (দুপুরের শয়ন ও হাল্কা নিদ্রা) এবং দুপুরের আহার্য গ্রহণ করতাম।
|
অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: জুমু‘আহর পরে কায়লুলাহ (দুপুরে শয়ন ও হাল্কা নিদ্রা)। |
বর্ণনাকারী: হুমাইদ (রাঃ)
হাদিস নং (৯৪০):
হুমাইদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাযি.) বলেছেনঃ আমরা সকাল সকাল জুমু‘আহ্য় যেতাম অতঃপর (সালাত শেষে) কায়লূলাহ করতাম।
|