অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: জুমু‘আহর দিন কোন ব্যক্তি তার ভাইকে উঠিয়ে দিয়ে তার জায়গায় বসবে না। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাযি.)
হাদিস নং (৯১১):
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, যেন কেউ তার ভাইকে স্বীয় বসার স্থান হতে উঠিয়ে দিয়ে নিজে সে জায়গায় না বসে। ইবনু জুরাইজ (রহ.) বলেন, আমি নাফি‘ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, এ কি শুধু জুমু‘আহর ব্যাপারে? তিনি বললেন, জুমু‘আহ ও অন্যান্য (সালাতের) ব্যাপারেও।
|
অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: জুমু‘আহর দিনের আযান। |
বর্ণনাকারী: সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাযি.)
হাদিস নং (৯১২):
সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাযি.) এবং উমর (রাযি.)-এর সময় জুমু‘আহর দিন ইমাম যখন মিম্বরের উপর বসতেন, তখন প্রথম আযান দেয়া হত। পরে যখন ‘উসমান (রাযি.) খলীফাহ হলেন এবং লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি ‘যাওরাহ’ হতে তৃতীয়* আযান বৃদ্ধি করেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, ‘যাওরাহ’ হল মাদ্বীনার অদূরে বাজারের একটি স্থান।
|
অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: জুমু‘আহর দিন একজন মুয়ায্যিনের আযান দেয়া। |
বর্ণনাকারী: সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাযি.)
হাদিস নং (৯১৩):
সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। মদিনার অধিবাসীদের সংখ্যা যখন বৃদ্ধি পেল, তখন জুমু‘আহর দিন তৃতীয় আযান যিনি বৃদ্ধি করলেন, তিনি হলেন, উসমান ইবনু ‘আফ্ফান (রাযি.)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় (জুমু‘আহর জন্য) একজন ব্যতীত মুয়ায্যিন ছিল না এবং জুমু‘আহর দিন আযান দেয়া হত যখন ইমাম বসতেন অর্থাৎ মিম্বরের উপর খুৎবাহর পূর্বে।
|
অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: ইমাম মিম্বারের উপর বসে জবাব দিবেন, যখন আযানের আওয়ায শ্রবণ করবেন। |
বর্ণনাকারী: মু‘আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফ্ইয়ান (রাযি.)
হাদিস নং (৯১৪):
মু‘আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফ্ইয়ান (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি মিম্বারে বসা অবস্থায় মুয়ায্যিন আযান দিলেন। মুয়ায্যিন বললেন, ‘‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’’ মু‘আবিয়াহ (রাযি.) বললেন, ‘‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।’’ মুয়ায্যিন বললেন, ‘‘আশ্হাদু আল্ লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’’ তিনি বললেন এবং আমিও (বলছি ‘‘আশ্হাদু আল্ লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ)। মুয়ায্যিন বললেন, ‘‘আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’’ তখন মু‘আবিয়াহ বললেন এবং আমিও বললাম। যখন (মুয়ায্যিন) আযান শেষ করলেন, তখন মু‘আবিয়াহ (রাযি.) বললেন, হে লোক সকল! তোমরা আমার হতে যে বাক্যগুলো শুনেছ, তা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মুয়ায্যিনের আযানের সময় এ মজলিসে বাক্যগুলো বলতে আমি শুনেছি।
|
অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: আযানের সময় মিম্বারের উপর বসা। |
বর্ণনাকারী: সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাযি.)
হাদিস নং (৯১৫):
সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদে মুসল্লীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে, ‘উসমান (রাযি.) জুমু‘আহর দিন দ্বিতীয় আযানের নির্দেশ দেন। অথচ (ইতোপূর্বে) জুমু‘আহর দিন ইমাম যখন (মিম্বারের উপর) বসতেন, তখন আযান দেয়া হতো।
|
অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: খুত্বার সময় আযান। |
বর্ণনাকারী: সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাযি.)
হাদিস নং (৯১৬):
সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর এবং ‘উমার (রাযি.)-এর যুগে জুমু‘আহর দিন ইমাম যখন মিম্বারের উপর বসতেন, তখন প্রথম আযান দেয়া হত। অতঃপর যখন ‘উসমান (রাযি.)-এর খিলাফাতের সময় এল এবং লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন জুমু‘আহর দিন তৃতীয়* আযানের নির্দেশ দেন। ‘যাওরা’ নামক স্থান হতে এ আযান দেয়া হয়, পরে এ আযানের সিলসিলা চলতে থাকে।
|
অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: মিম্বারের উপর খুত্বাহ দেয়া। |
বর্ণনাকারী: আবূ হাযিম ইবনু দ্বীনার
হাদিস নং (৯১৭):
আবূ হাযিম ইবনু দ্বীনার হতে বর্ণিত যে, (একদিন) কিছু লোক সাহল ইবনু সা’দ সা’ঈদীর নিকট আগমন করে এবং মিম্বরটি কোন্ কাঠের তৈরি ছিল, এ নিয়ে তাদের মনে প্রশ্ন জেগে ছিল। তারা এ সম্পর্কে তাঁর নিকট জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি সম্যকরূপে অবগত আছি যে, তা কিসের ছিল। প্রথম যেদিন তা স্থাপন করা হয় এবং প্রথম যে দিন এর উপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসেন তা আমি দেখেছি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের অমুক মহিলার (বর্ণনাকারী বলেন, সাহল (রাযি.) তার নামও উল্লেখ করেছিলেন) নিকট লোক পাঠিয়ে বলেছিলেন, তোমার কাঠমিস্ত্রি গোলামকে আমার জন্য কিছু কাঠ দিয়ে এমন জিনিস তৈরি করার নির্দেশ দাও, যার উপর বসে আমি লোকদের সাথে কথা বলতে পারি। অতঃপর সে মহিলা তাকে আদেশ করেন এবং সে (মদিনা হতে নয় মাইল দূরবর্তী) গাবা’র ঝাউ কাঠ দ্বারা তা তৈরি করে নিয়ে আসে। মহিলাটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট তা পাঠিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আদেশে এখানেই তা স্থাপন করা হয়। অতঃপর আমি দেখেছি, এর উপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছেন। এর উপর উঠে তাকবীর দিয়েছেন এবং এখানে (দাঁড়িয়ে) রুকূ’ করেছেন। অতঃপর পিছনের দিকে নেমে এসে মিম্বারের গোড়ায় সিজদা্ করেছেন এবং (এ সিজদা্) পুনরায় করেছেন, অতঃপর সালাত শেষ করে সমবেত লোকদের দিকে ফিরে বলেছেনঃ হে লোক সকল! আমি এটা এ জন্য করেছি যে, তোমরা যেন আমার অনুসরণ করতে এবং আমার সালাত শিখে নিতে পার।
|
অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: মিম্বারের উপর খুত্বাহ দেয়া। |
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৯১৮):
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মসজিদে নাববীতে) এমন একটি (খেজুর গাছের) খুঁটি ছিল যার সাথে হেলান দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়াতেন। অতঃপর যখন তাঁর জন্য মিম্বর স্থাপন করা হল, আমরা তখন খুঁটি হতে দশ মাসের গর্ভবতী উট্নীর মত ক্রন্দন করার শব্দ শুনতে পেলাম। এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বার হতে নেমে এসে খুঁটির উপর হাত রাখলেন।
|
অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: মিম্বারের উপর খুত্বাহ দেয়া। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.)
হাদিস নং (৯১৯):
আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মিম্বারের উপর হতে খুৎবাহ দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমু‘আহর সালাতে আসে সে যেন গোসল করে নেয়।
|
অধ্যায়: জুমু‘আহ |
উপ-অধ্যায়: দাঁড়িয়ে খুতবাহ প্রদান করা। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.)
হাদিস নং (৯২০):
আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুৎবাহ দিতেন। অতঃপর বসতেন এবং পুনরায় দাঁড়াতেন। যেমন তোমরা এখন করে থাক।
|