তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: সালামের পর যিকর। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
হাদিস নং (৮৪২): ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাকবীর শুনে আমি বুঝতে পারতাম সালাত শেষ হয়েছে। ‘আলী (রাযি.) বলেন, সুফ্ইয়ান (রহ.) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আবূ মা‘বাদ (রহ.) ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-এর আযাদকৃত দাসসমূহের মধ্যে অধিক সত্যবাদী দাস ছিলেন। ‘আলী (রহ.) বলেন, তার নাম ছিল নাফিয।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: সালামের পর যিকর। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৮৪৩): আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দরিদ্রলোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, সম্পদশালী ও ধনী ব্যক্তিরা তাদের সম্পদের দ্বারা উচ্চমর্যাদা ও স্থায়ী আবাস লাভ করছেন, তাঁরা আমাদের মত সালাত আদায় করছেন, আমাদের মত সিয়াম পালন করছেন এবং অর্থের দ্বারা হাজ্জ, ’উমরাহ, জিহাদ ও সদাক্বাহ করার মর্যাদাও লাভ করছেন। এ শুনে তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু কাজের কথা বলব, যা তোমরা করলে, যারা নেক কাজে তোমাদের চেয়ে অগ্রগামী হয়ে গেছে, তাদের পর্যায়ে পৌঁছতে পারবে। তবে যারা পুনরায় এ ধরনের কাজ করবে তাদের কথা স্বতন্ত্র। তোমরা প্রত্যেক সালাতের পর তেত্রিশ বার করে তাসবীহ্ (সুবহানাল্লাহ্), তাহমীদ (আলহামদু ল্লিল্লাহ্) এবং তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করবে। (এ নিয়ে) আমাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হলো। কেউ বলল, আমরা তেত্রিশ বার তাসবীহ্ পড়ব। তেত্রিশ বার তাহমীদ আর চৌত্রিশ বার তাকবীর পড়ব। অতঃপর আমি তাঁর নিকট ফিরে গেলাম। তিনি বললেন, سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَاللهُ أَكْبَرُ বলবে, যাতে সবগুলোই তেত্রিশবার করে হয়ে যায়।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: সালামের পর যিকর। | বর্ণনাকারী: মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাযি.)
হাদিস নং (৮৪৪): মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাযি.)-এর কাতিব ওয়ার্রাদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাযি.) আমাকে দিয়ে মু’আবিয়াহ (রাযি.)-কে একখানা পত্র লিখালেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর বলতেনঃ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهْوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ، اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ ’’এক আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই, সার্বভৌমত্ব একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র তাঁরই জন্য, তিনি সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল। হে আল্লাহ্! আপনি যা প্রদান করতে চান তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা প্রদান করার কেউ নেই। আপনার নিকট (সৎকাজ ভিন্ন) কোন সম্পদশালীর সম্পদ উপকারে আসে না।’’ শু’বাহ (রহ.) আবদুল মালিক (রহ.) হতে এ রকমই বলেছেন, আপনার নিকট (সৎকাজ ছাড়া) এবং হাসান (রহ.) বলেন, جد অর্থ সম্পদ এবং শু’বাহ (রহ.)....ওয়ার্রাদ (রহ.) হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: সালাম ফিরানোর পর ইমাম মুক্তাদিগণের দিকে ঘুরে বসবেন। | বর্ণনাকারী: সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাযি.)
হাদিস নং (৮৪৫): সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করতেন, তখন আমাদের দিকে মুখ ফিরাতেন।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: সালাম ফিরানোর পর ইমাম মুক্তাদিগণের দিকে ঘুরে বসবেন। | বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাযি.)
হাদিস নং (৮৪৬): যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে বৃষ্টি হবার পর হুদায়বিয়াতে আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে ফিরে বললেনঃ তোমরা কি জান, তোমাদের পরাক্রমশালী ও মহিমাময় প্রতিপালক কি বলেছেন? তাঁরা বললেনঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই বেশি জানেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (রব) বলেন, আমার বান্দাদের মধ্য কেউ আমার প্রতি মু’মিন হয়ে গেল এবং কেউ কাফির। যে বলেছে, আল্লাহর করুণা ও রহমতে আমরা বৃষ্টি লাভ করেছি, সে হল আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে বলেছে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টিপাত হয়েছে, সে আমার প্রতি অবিশ্বাসী হয়েছে এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী হয়েছে।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: সালাম ফিরানোর পর ইমাম মুক্তাদিগণের দিকে ঘুরে বসবেন। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
হাদিস নং (৮৪৭): আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্ধরাত পর্যন্ত সালাত বিলম্ব করলেন। এরপর তিনি আমাদের সামনে বের হয়ে এলেন। সালাত শেষে তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, লোকেরা সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের অপেক্ষায় থাকবে ততক্ষণ তোমরা যেন সালাতে রত থাকবে।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: সালামের পরে ইমামের মুসাল্লায় বসে থাকা। | বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহ.)
হাদিস নং (৮৪৮): নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাযি.) যে স্থানে দাঁড়িয়ে ফরজ সালাত আদায় করতেন সেখানে দাঁড়িয়ে অন্য সালাত আদায় করতেন। এরূপ ক্বাসিম (রহ.) ‘আমল করেছেন। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে মারফূ‘ হাদীস বর্ণনা করা হয়ে থাকে যে, ইমাম তাঁর জায়গায় দাঁড়িয়ে নফল সালাত আদায় করবেন। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] এ হাদীসটি মারফূ‘ হিসেবে রিওয়ায়াত করা ঠিক নয়।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: সালামের পরে ইমামের মুসাল্লায় বসে থাকা। | বর্ণনাকারী: উম্মুল মু’মিনীন উম্মু সালামাহ (রাযি.)
হাদিস নং (৮৪৯): উম্মুল মু’মিনীন উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরানোর পর নিজ জায়গায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেন। ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বসে থাকার কারণ আল্লাহ্ই অধিক জ্ঞাত। তবে আমার মনে হয় সালাতের পর মহিলাগণ যাতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পান।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: সালামের পরে ইমামের মুসাল্লায় বসে থাকা। | বর্ণনাকারী: হিন্দ বিনত হারিস (রাঃ)
হাদিস নং (৮৫০): হিন্দ বিন্‌ত হারিস ফিরাসিয়াহ যিনি উম্মু সালামাহ (রাযি.)-এর বান্ধবী তাঁর সূত্রে নবী পত্নী উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরাতেন, অতঃপর মহিলারা ফিরে গিয়ে তাঁদের ঘরে প্রবেশ করতেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফিরবার পূর্বেই। ইব্‌নু ওহাব (রহ.) ইউনুস (রহ.) সূত্রে শিহাব (রহ.) হতে বলেন যে, আমাকে হিন্দ ফিরাসিয়াহ (রাযি.) বর্ণনা করেছেন এবং ’উসমান ইব্‌নু ’উমার (রহ.) বলেন, আমাকে ইউনুস (রহ.) যুহরী (রহ.) হতে বলেন যে, আমাকে হিন্দ ফিরাসিয়াহ (রাযি.) বর্ণনা করেছেন, আর যুবাইদী (রহ.) বলেন, আমাকে যুহরী (রহ.) বর্ণনা করেছেন যে, হিন্দ বিনত হারিস কুরাশিয়াহ (রাযি.) তাকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি মা’বাদ ইব্‌নু মিকদাদ (রহ.)-এর স্ত্রী। আর মা’বাদ বনূ যুহরার সাথে সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ ছিলেন এবং তিনি (হিন্দ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণীগণের নিকট যাতায়াত করতেন। শু’আয়ব (রহ.) যুহরী (রহ.) হতে বলেন যে, আমাকে হিন্দ কুরাশিয়াহ (রহ.) বর্ণনা করেছেন। আর ইব্‌নু আবূ আতীক (রহ.) যুহরী (রহ.) সূত্রে হিন্দ ফিরাসিয়াহ হতে বর্ণনা করেছেন। লায়স (রহ.) ইয়াহ্‌ইয়া ইব্‌নু সায়ীদ (রহ.) সূত্রে ইব্‌নু শিহাব (রহ.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, কুরাইশের এক মহিলা তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: মুসল্লীদের নিয়ে সালাত আদায়ের পর কোন জরুরী কথা মনে পড়লে তাদের ডিঙ্গিয়ে যাওয়া। | বর্ণনাকারী: উকবাহ (রাযি.)
হাদিস নং (৮৫১): উকবাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদিনা্য় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে আসরের সালাত আদায় করলাম। সালাম ফিরানোর পর তিনি তাড়াতাড়ি দাঁড়িয়ে যান এবং মুসল্লীগণকে ডিঙ্গিয়ে তাঁর সহধর্মিণীগণের কোন একজনের কক্ষে গেলেন। তাঁর এই দ্রুততায় মুসল্লীগণ ঘাবড়িয়ে গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের নিকট ফিরে এলেন এবং দেখলেন যে, তাঁর দ্রুততার কারণে তাঁরা বিস্মিত হয়ে গেছেন। তাই তিনি বললেনঃ আমাদের নিকট রাখা কিছু স্বর্ণের কথা মনে পড়ে যায়। তা আমার জন্য বাধা হোক, তা আমি পছন্দ করি না। তাই আমি সেটার বণ্ঠনের নির্দেশ দিলাম।