তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: সালামের আগে দু‘আ। | বর্ণনাকারী: উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রহ.)
হাদিস নং (৮৩২): উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রহ.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) তাঁকে বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে এ বলে দু‘আ করতেনঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَفِتْنَةِ الْمَمَاتِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ ‘‘কবরের আযাব হতে, মাসীহে দাজ্জালের ফিতনা হতে এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা হতে ইয়া আল্লাহ্! আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ্! গুনাহ্ ও ঋণগ্রস্ততা হতে আপনার নিকট আশ্রয় চাই।’’ তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, আপনি কতই না ঋণগ্রস্ততা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। তিনি (আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) বললেনঃ যখন কোন ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখন কথা বলার সময় মিথ্যা বলে এবং ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: সালামের আগে দু‘আ। | বর্ণনাকারী: উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহ.)
হাদিস নং (৮৩৩): উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালাতে দাজ্জালের ফিতনা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: সালামের আগে দু‘আ। | বর্ণনাকারী: আবূ বকর সিদ্দীক (রাযি.)
হাদিস নং (৮৩৪): আবূ বকর সিদ্দীক (রাযি.) হতে বর্ণিত। একদা তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আরয করলেন, আমাকে সালাতে পাঠ করার জন্য একটি দু‘আ শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, এ দু‘আটি বলবে- قُلْ اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّك أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ ‘‘হে আল্লাহ্! আমি নিজের উপর অধিক জুলুম করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। আপনার পক্ষ হতে আমাকে তা ক্ষমা করে দিন এবং আমার উপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: তাশাহ্হুদের পর যে দু‘আটি বেছে নেয়া হয়, অথচ তা আবশ্যক নয়। | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.)
হাদিস নং (৮৩৫): আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের অবস্থা এ ছিল যে, যখন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাতে থাকতাম, তখন আমরা বলতাম, বান্দার পক্ষ হতে আল্লাহর প্রতি সালাম। সালাম অমুকের প্রতি, সালাম অমুকের প্রতি। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর প্রতি সালাম, তোমরা এরূপ বল না। কারণ আল্লাহ্ নিজেই সালাম। বরং তোমরা বল- التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ، وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ ’’সমস্ত মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর নেক বান্দাগণের প্রতি।’’ তোমরা যখন তা বলবে তখন আসমান বা আসমান ও যমীনের মধ্যে আল্লাহর প্রত্যেক বান্দার নিকট তা পৌঁছে যাবে। (এরপর বলবে) ’’আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত আর কোন মাবূদ নাই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।’’ অতঃপর যে দু’আ তার পছন্দ হয় তা সে বেছে নিবে এবং পড়বে।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: সালাত সমাপ্ত হওয়া অবধি যিনি কপাল ও নাকের ধূলাবালি মোছেননি। | বর্ণনাকারী: আবূ সালামাহ (রহ.)
হাদিস নং (৮৩৬): আবূ সালামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সায়ীদ খুদরী (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা্ করতে দেখেছি। এমন কি তাঁর কপালে কাদামাটির চিহ্ন লেগে থাকতে দেখেছি।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: সালাম ফিরান। | বর্ণনাকারী: উম্মু সালামাহ (রাযি.)
হাদিস নং (৮৩৭): উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাম ফিরাতেন, তখন সালাম শেষ হলেই মহিলাগণ দাঁড়িয়ে পড়তেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ানোর পূর্বে কিছুক্ষণ বসে অপেক্ষা করতেন। ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, আল্লাহ্ই ভাল জানেন, আমার মনে হয়, তাঁর এ অপেক্ষা এ কারণে যাতে মুসাল্লীগণ হতে যে সব পুরুষ ফিরে যান তাদের পূর্বেই মহিলারা নিজ অবস্থানে পৌঁছে যেতে পারেন।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: ইমামের সালাম ফিরানোর সময় মুক্তাদিগণও সালাম ফিরাবে। | বর্ণনাকারী: ইতবান ইবনু মালিক (রাযি.)
হাদিস নং (৮৩৮): ইতবান ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করেছি। তিনি যখন সালাম ফিরান তখন আমরাও সালাম ফিরাই।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: যারা ইমামের সালামের জবাব দেয়া দরকার মনে করেন না এবং সালাতের সালামকেই যথেষ্ট মনে করেন। | বর্ণনাকারী: মাহমূদ ইবনু রাবী‘ (রাযি.)
হাদিস নং (৮৩৯): মাহমূদ ইবনু রাবী‘ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কথা তাঁর স্পষ্ট মনে আছে, যে তাঁদের বাড়িতে রাখা একটি বালতির (পানি নিয়ে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুল্লি করেছেন।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: যারা ইমামের সালামের জবাব দেয়া দরকার মনে করেন না এবং সালাতের সালামকেই যথেষ্ট মনে করেন। | বর্ণনাকারী: মাহমূদ ইবনু রাবী‘ (রাযি.)
হাদিস নং (৮৪০): তিনি বলেছেন, আমি ‘ইতবান ইবনু মালিক আনসারী (রাযি.) যিনি বনূ সালিম গোত্রের একজন, তাঁকে বলতে শুনেছি, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট গিয়ে বললাম, আমার দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে গেছে এবং আমার বাড়ি হতে আমার কাওমের মাসজিদ পর্যন্ত পানি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার একান্ত ইচ্ছা আপনি আমার বাড়িতে এসে এক জায়গায় সালাত আদায় করবেন যেটা আমি সালাত আদায় করার জন্য নির্দিষ্ট করে নিব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইন্শা আল্লাহ্, আমি তা করব। পরদিন রোদের তেজ বৃদ্ধি পেলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর (রাযি.) আমার বাড়িতে এলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশের অনুমতি চাইলে আমি তাঁকে দিলাম। তিনি না বসেই বললেনঃ তোমার ঘরের কোন্ স্থানে তুমি আমার সালাত আদায় পছন্দ কর? তিনি পছন্দ মত একটি স্থান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাত আদায়ের জন্য ইঙ্গিত করে দেখালেন। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন আমরাও তাঁর পিছনে কাতারে দাঁড়ালাম। অবশেষে তিনি সালাম ফিরালেন, আমরাও তাঁর সালামের সময় সালাম ফিরালাম।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: সালামের পর যিকর। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
হাদিস নং (৮৪১): ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় মুসল্লীগণ ফরজ সালাত শেষ হলে উচ্চস্বরে যিকর করতেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেন, আমি এরূপ শুনে বুঝতাম, মুসল্লীগণ সালাত শেষ করেছেন।