তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: নাক দ্বারা সিজদা্ করা। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
হাদিস নং (৮১২): ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ইরশাদ করেছেনঃ আমি সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা্ করার জন্য নির্দেশিত হয়েছি। কপাল দ্বারা এবং তিনি হাত দিয়ে নাকের প্রতি ইশারা করে এর অন্তর্ভুক্ত করেন, আর দু’ হাত, দু’ হাঁটু এবং দু’ পায়ের আঙ্গুলসমূহ দ্বারা। আর আমরা যেন চুল ও কাপড় গুটিয়ে না নেই।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: নাক দ্বারা কাদামাটির উপর সিজদা্ করা। | বর্ণনাকারী: আবূ সালামাহ (রাযি.)
হাদিস নং (৮১৩): আবূ সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমাদের সঙ্গে খেজুর বাগানে চলুন, (হাদীস সংক্রান্ত) আলাপ আলোচনা করব। তিনি বেরিয়ে আসলেন। আবূ সালামাহ (রাযি.) বলেন, আমি তাকে বললাম, ‘লাইলাতুল কাদর’ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যা শুনেছেন, তা আমার নিকট বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের প্রথম দশ দিন ‘ইতিকাফ করলেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে ই’তিকাফ করলাম। জিবরীল (‘আ.) এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। অতঃপর তিনি মধ্যবর্তী দশদিন ই‘তিকাফ করলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে ই‘তিকাফ করলাম। পুনরায় জিবরীল (‘আ.) এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। অতঃপর রমাযানের বিশ তারিখ সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুত্বা দিতে দাঁড়িয়ে বললেন, যারা আল্লাহর নবীর সঙ্গে ই‘তিকাফ করেছেন, তারা যেন ফিরে আসেন (আবার ই‘তিকাফ করেন) কেননা, আমাকে স্বপ্নে লাইলাতুল কাদ্র’ অবগত করানো হয়েছে। তবে আমাকে তা (নির্ধারিত তারিখটি) ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে তা শেষ দশ দিনের কোন এক বেজোড় তারিখে। স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি কাদা ও পানির উপর সিজদা্ করছি। তখন মসজিদের ছাদ খেজুরের ডাল দ্বারা নির্মিত ছিল। আমরা আকাশে কোন কিছুই (মেঘ) দেখিনি, একখন্ড হালকা মেঘ আসল এবং আমাদের উপর (বৃষ্টি) বর্ষিত হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এমন কি আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কপাল ও নাকের অগ্রভাগে পানি ও কাদার চিহ্ন দেখতে পেলাম। এভাবেই তাঁর স্বপ্ন সত্যে রূপ লাভ করল।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: কাপড়ে গিরা লাগানো ও তা বেঁধে নেয়া এবং সতর প্রকাশ হয়ে পড়ার ভয়ে কাপড় জড়িয়ে নেয়া। | বর্ণনাকারী: সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.)
হাদিস নং (৮১৪): সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করতেন। কিন্তু ইযার বা লুঙ্গী ছোট হবার কারণে তা গলার সাথে বেঁধে নিতেন। আর নারীদেরকে বলে দেয়া হয়েছিল, তোমরা সিজদা্ হতে মাথা উঠাবে না যে পর্যন্ত পুরুষগণ ঠিকমত না বসবে।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: সালাতের মধ্যে মাথার চুল একত্র করবে না। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
হাদিস নং (৮১৫): ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি অঙ্গের সাহায্যে সিজদা্ করতে এবং সালাতের মধ্যে চুল একত্র না করতে এবং কাপড় টেনে না ধরতে নির্দেশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: সালাতের মধ্যে কাপড় টেনে না ধরা। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
হাদিস নং (৮১৬): ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি সাত অঙ্গে সিজদা্ করতে, সালাতের মধ্যে চুল একত্র না করতে এবং কাপড় টেনে না ধরতে নির্দেশিত হয়েছি।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: সিজদা্য় তাস্বীহ্ ও দু‘আ পাঠ। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৮১৭): ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রুকূ‘ ও সিজদা্য় অধিক পরিমাণে سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ‘‘হে আল্লাহ্! হে আমাদের রব! আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করুন’’ পাঠ করতেন। এতে তিনি পবিত্র কুরআনের নির্দেশ পালন করতেন।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: দু’ সিজদার মধ্যে অপেক্ষা করা। | বর্ণনাকারী: আবূ ক্বিলাবাহ (রহ.)
হাদিস নং (৮১৮): আবূ ক্বিলাবাহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাযি.) তাঁর সাথীদের বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত সম্পর্কে আমি কি তোমাদের অবহিত করব না? (রাবী) আবূ কিলাবাহ (রহ.) বলেন, এ ছিল সালাতের সময় ছাড়া অন্য সময়। অতঃপর তিনি (সালাতে) দাঁড়ালেন, অতঃপর রুকূ‘ করলেন, এবং তাকবীর বলে মাথা উঠালেন আর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর সিজদা্য় গেলেন এবং সিজদা্ হতে মাথা উঠিয়ে কিছুক্ষণ বসে পুনরায় সিজদা্ করলেন। অতঃপর মাথা উঠিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন। এভাবে তিনি আমাদের এ শায়খ ‘আমর ইবনু সালিমাহর সালাতের মত সালাত আদায় করলেন। আইয়ুব (রহ.) বলেন, ‘আমর ইবনু সালিমাহ (রহ.) এমন কিছু করতেন যা অন্যদের করতে দেখিনি। তা হল তিনি তৃতীয় অথবা চতুর্থ রাক‘আতে বসতেন।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: দু’ সিজদার মধ্যে অপেক্ষা করা। | বর্ণনাকারী: মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাযি.)
হাদিস নং (৮১৯): মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাযি.) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে কিছুদিন অবস্থান করলাম। তিনি আমাদের বললেন, তোমরা তোমাদের পরিবার পরিজনদের মধ্যে ফিরে যাবার পর অমুক সালাত অমুক সময়, অমুক সালাত অমুক সময় আদায় করবে। সময় হলে তোমাদের কেউ আযান দেবে এবং তোমাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ইমামাত করবে।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: দু’ সিজদার মধ্যে অপেক্ষা করা। | বর্ণনাকারী: বারাআ (রাযি.)
হাদিস নং (৮২০): রাআ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সিজদা্, রুকূ‘ এবং দু’ সিজদার মধ্যে বসা প্রায় সমান (সময়ের) হতো।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: দু’ সিজদার মধ্যে অপেক্ষা করা। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
হাদিস নং (৮২১): আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যেভাবে আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি, কমবেশি না করে আমি তোমাদের সেভাবেই সালাত আদায় করে দেখাব। সাবিত (রহ.) বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) এমন কিছু করতেন যা তোমাদের করতে দেখিনা। তিনি রুকূ‘ হতে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে এত বিলম্ব করতেন যে, কেউ বলত, তিনি (সিজ্দাহর কথা) ভুলে গেছেন।