তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: ফজরের সালাতে কিরাআত। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৭৭২): আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক সালাতেই কিরাআত পড়া হয়। তবে যে সব সালাত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শুনিয়ে পড়েছেন, আমরাও তোমাদের শুনিয়ে পড়ব। আর যে সব সালাতে আমাদের না শুনিয়ে পড়েছেন, আমরাও তোমাদের না শুনিয়ে পড়ব। যদি তোমরা সূরাহ্ আল-ফাতিহার উপরে আরো অধিক না পড়, সালাত আদায় হয়ে যাবে। আর যদি অধিক পড় তা উত্তম।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: ফজরের সালাতে সশব্দে কিরাআত। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
হাদিস নং (৭৭৩): ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে উকায বাজারের উদ্দেশে রওয়ানা করেন। আর দুষ্ট জিন্নদের উর্ধ্বলোকের সংবাদ সংগ্রহের পথে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয় এবং তাদের দিকে অগ্নিপিন্ড নিক্ষিপ্ত হয়। কাজেই শয়তানরা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে আসে। তারা জিজ্ঞেস করলো, তোমাদের কী হয়েছে? তারা বলল, আমাদের এবং আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে বাধা দেখা দিয়েছে এবং আমাদের দিকে অগ্নিপিন্ড ছুঁড়ে মারা হয়েছে। তখন তারা বলল, নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ একটা কিছু ঘটেছে বলেই তোমাদের এবং আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই, পৃথিবীর পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত ঘুরে দেখ, কী কারণে তোমাদের ও আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে? তাই তাদের যে দলটি তিহামার দিকে গিয়েছিল, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দিকে অগ্রসর হল। তিনি তখন ‘উকায বাজারের পথে নাখ্লা নামক স্থানে সাহাবীগণকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। তারা যখন কুরআন শুনতে পেল, তখন সেদিকে মনোনিবেশ করলো। অতঃপর তারা বলে উঠলো, আল্লাহর শপথ! এটিই তোমাদের ও আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে বাধা সৃষ্টি করেছে। এমন সময় যখন তারা গোত্রেরর নিকট ফিরে আসল এবং বলল হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা এক আশ্চর্যজনক কুরআন শুনেছি, যা সঠিক পথ নির্দেশ করে, আমরা এতে ঈমান এনেছি এবং কখনো আমরা আমাদের প্রতিপালকের সঙ্গে কাউকে শরীক স্থির করব না। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ সূরাহ্ নাযিল করেন। মূলতঃ তাঁর নিকট জিনদের কথাবার্তাই ওয়াহীরূপে অবতীর্ণ করা হয়েছে।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: ফজরের সালাতে সশব্দে কিরাআত। | বর্ণনাকারী: ইবনু ’আব্বাস (রাযি.)
হাদিস নং (৭৭৪): ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে কিরাআত পাঠের জন্য আদেশ পেয়েছেন, সেখানে পড়েছেন। আর যেখানে চুপ থাকতে আদেশ পেয়েছেন সেখানে চুপ থেকেছেন। (আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ) ’’তোমার প্রতিপালক ভুল করেন না’’- (সূরাহ্ মারইয়াম ১৯/৬৪)। ’’নিশ্চয় তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’’
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: ক রাক‘আতে দু’ সূরাহ্ মিলিয়ে পড়া, সূরাহর শেষাংশ পড়া, এক সূরাহর পূর্বে আরেক সুরা পড়া এবং সূরাহর প্রথমাংশ পড়া। | বর্ণনাকারী: আবূ ওয়াইল (রহ.)
হাদিস নং (৭৭৫): আবূ ওয়াইল (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.)-এর নিকট এসে বলল, গতরাতে আমি মুফাস্‌সাল সূরাহগুলো এক রাক’আতেই তিলাওয়াত করেছি। তিনি বললেন, তাহলে নিশ্চয়ই কবিতার ন্যায় দ্রুত পড়েছ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরস্পর সমতূল্য যে সব সূরাহ্ মিলিয়ে পড়তেন, সেগুলো সম্পর্কে আমি জানি। এ বলে তিনি মুফাসসাল সূরাহসমূহের বিশটি সূরাহ্ উল্লেখ পূর্বক বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাক’আতে এর দু’টি করে সূরাহ্ পড়তেন।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: শেষ দু’ রাক‘আতে সূরাহ্ ফাতিহাহ্ পড়া। | বর্ণনাকারী: আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৭৭৬): আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের প্রথম দু’রাক‘আতে সূরাহ্ আল-ফাতিহা ও দু’টি সূরাহ্ পড়তেন এবং শেষ দু’রাক‘আতে সূরাহ্ আল-ফাতিহা পাঠ করতেন এবং তিনি কোন কোন আয়াত আমাদের শোনাতেন, আর তিনি প্রথম রাক‘আতে যত দীর্ঘ করতেন, দ্বিতীয় রাক‘আতে তত দীর্ঘ করতেন না। ‘আসরে এবং ফজরেও এ রকম করতেন।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: যুহরে ও ‘আসরে নিঃশব্দে কিরাআত পড়া। | বর্ণনাকারী: আবূ মা‘মার (রহ.)
হাদিস নং (৭৭৭): আবূ মা‘মার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যুহর ও আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, কী করে বুঝলেন? তিনি বললেন, তাঁর দাড়ি নড়াচড়া দেখে।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: ইমাম আয়াত শুনিয়ে পাঠ করলে। | বর্ণনাকারী: আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৭৭৮): আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও আসরের সালাতের প্রথম দু’ রাক‘আতে সূরাহ্ ফাতিহার সাথে আরেকটি সুরা পড়তেন। কখনো কোন কোন আয়াত আমাদের শুনিয়ে পড়তেন এবং তিনি প্রথম রাক‘আতে কিরাআত দীর্ঘ করতেন।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: প্রথম রাক‘আতে কিরাআত দীর্ঘ করা। | বর্ণনাকারী: আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৭৭৯): আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাতের প্রথম রাক‘আতে কিরাআত দীর্ঘ করতেন ও দ্বিতীয় রাক‘আতে সংক্ষিপ্ত করতেন এবং এ রকম করতেন ফজরের সালাতেও।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: ইমামের সশব্দে ‘আমীন’ বলা। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৭৮০): আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম যখন ‘আমীন’ বলেন, তখন তোমরাও ‘আমীন’ বলো। কেননা, যার ‘আমীন’ (বলা) ও মালাইকাহর ‘আমীন’ (বলা) এক হয়, তার পূর্বের সব গুনাহ মা‘ফ করে দেয়া হয়। ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ‘আমীন’ বলতেন।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: ‘আমীন’ বলার ফযীলত। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৭৮১): আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ (সালাতে) ‘আমীন’ বলে, আর আসমানে মালাইকাহ্ ‘আমীন’ বলেন এবং উভয়ের ‘আমীন’ একই সময় হলে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়।