তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

ফিল্টার
মোট: ৩৪৯৯
পৃষ্ঠা ৬৩ / ৩৫০
আযান ফজরের ওয়াক্ত হবার পূর্বে আযান দেয়া। আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.)
৬২১ হাদিস নং
আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ বিলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে সাহরী খাওয়া হতে বিরত না রাখে। কেননা, সে রাত থাকতে আযান দেয়- যেন তোমাদের মধ্যে যারা তাহাজ্জুদের সালাতে রত তারা ফিরে যায় আর যারা ঘুমন্ত তাদেরকে জাগিয়ে দেয়। অতঃপর তিনি বললেনঃ ফজর বা সুবহে সদিক বলা যায় না- তিনি একবার আঙ্গুল উপরের দিকে উঠিয়ে নীচের দিকে নামিয়ে ইঙ্গিত করে বললেন, যতক্ষণ না এরূপ হয়ে যায়। বর্ণনাকারী যুহাইর (রহ.) তাঁর শাহাদাত আঙ্গুলদ্বয় একটি অপরটির উপর রাখার পর তাঁর ডানে ও বামে প্রসারিত করে দেখালেন।
আযান ফজরের ওয়াক্ত হবার পূর্বে আযান দেয়া। আয়িশাহ্ (রাযি.)
৬২২ হাদিস নং
আয়িশাহ্ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাযি.) রাত থাকতে আযান দিয়ে থাকেন। কাজেই, ইবনু উম্মু মাকতূম (রাযি.) যতক্ষণ আযান না দেয়, ততক্ষণ তোমরা (সাহারী) পানাহার করতে পার।
আযান ফজরের ওয়াক্ত হবার পূর্বে আযান দেয়া। আয়িশাহ্ (রাযি.)
৬২৩ হাদিস নং
আয়িশাহ্ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাযি.) রাত থাকতে আযান দিয়ে থাকেন। কাজেই, ইবনু উম্মু মাকতূম (রাযি.) যতক্ষণ আযান না দেয়, ততক্ষণ তোমরা (সাহারী) পানাহার করতে পার।
আযান আযান ও ইক্বামাতের মধ্যে পার্থক্য কতটুকু। আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল মুযানী (রাযি.)
৬২৪ হাদিস নং
আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল মুযানী (রাযি.) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ প্রত্যেক আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের মধ্যে সালাত রয়েছে। একথা তিনি তিনবার বললেন, (তারপর বলেন) যে চায় তার জন্য।
আযান আযান ও ইক্বামাতের মধ্যে পার্থক্য কতটুকু। আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
৬২৫ হাদিস নং
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয্যিন যখন আযান দিতো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবীগণের মধ্যে কয়েকজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বের হওয়া পর্যন্ত (মসজিদের) খুঁটির নিকট গিয়ে দাঁড়াতেন এবং এ অবস্থায় মাগরিবের পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। অথচ মাগরিবের আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের মধ্যে কিছু (সময়) থাকত না। ‘উসমান ইবনু জাবালাহ ও আবূ দাঊদ (রহ.) শু‘বাহ (রহ.) হতে বর্ণনা করেন যে, এ দু’য়ের মধ্যবর্তী ব্যবধান খুবই সামান্য হত।
আযান ইক্বামাতের জন্য অপেক্ষা করা। আয়িশাহ্ (রাযি.)
৬২৬ হাদিস নং
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মুআয্যিন ফজরের সালাতের প্রথম আযান শেষ করতেন তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে যেতেন এবং সুবহে সাদিকের পর ফজরের সালাতের পূর্বে দু’রাক‘আত সালাত সংক্ষেপে আদায় করতেন, অতঃপর ডান কাতে শুয়ে পড়তেন এবং ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের জন্য মুআয্যিন তাঁর নিকট না আসা পর্যন্ত শুয়ে থাকতেন।
আযান কেউ ইচ্ছে করলে আযান ও ইক্বামাতের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত আদায় করতে পারেন আবদুল্লাহ্ ইবনু মুগাফফাল (রাযি.)
৬২৭ হাদিস নং
আবদুল্লাহ্ ইবনু মুগাফফাল (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত আদায় করা যায়। তৃতীয়বার এ কথা বলার পর তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে।
আযান সফরে এক মুয়ায্যিন যেন আযান দেয়। মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাযি.)
৬২৮ হাদিস নং
মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার গোত্রের কয়েকজন লোকের সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এলাম এবং আমরা তাঁর নিকট বিশ রাত অবস্থান করলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত দয়ালু ও বন্ধু বৎসল ছিলেন। তিনি যখন আমাদের মধ্যে নিজ পরিজনের নিকট ফিরে যাওয়ার আগ্রহ লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা পরিজনের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে বসবাস কর, আর তাদের দ্বীন শিক্ষা দিবে এবং সালাত আদায় করবে। যখন সালাত উপস্থিত হয়, তখন তোমাদের কেউ আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বয়সে বড় সে ইমামত করবে।
আযান মুসাফিরদের জামা‘আতের জন্য আযান ও ইক্বামাত দেয়া। আবূ যার (রাযি.)
৬২৯ হাদিস নং
আবূ যার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। মুয়ায্যিন আযান দিতে চাইলে তিনি বললেনঃ ঠান্ডা হতে দাও। কিছুক্ষণ পর মুয়ায্যিন পুনরায় আযান দিতে চাইলে তিনি বললেন, ঠান্ডা হতে দাও। অতঃপর সে আবার আযান দিতে চাইলে তিনি আবার বললেন, ঠান্ডা হতে দাও। এভাবে বিলম্ব করতে করতে টিলাগুলোর ছায়া তার সমান হয়ে গেলো। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উত্তাপের প্রখরতা জাহান্নামের নিঃশ্বাসের অংশ বিশেষ।
আযান মুসাফিরদের জামা‘আতের জন্য আযান ও ইক্বামাত দেয়া। মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস (রাযি.)
৬৩০ হাদিস নং
মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু’জন লোক সফরে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তোমরা উভয়ে যখন সফরে বেরুবে (সালাতের সময় হলে) তখন আযান দিবে, অতঃপর ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিবে এবং তোমাদের উভয়ের মধ্যে যে বয়সে বড় সে ইমামত করবে।