তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

ফিল্টার
মোট: ৩৪৯৯
পৃষ্ঠা ৫৭ / ৩৫০
সালাতের সময়সমূহ মাগরিবের ওয়াক্ত। সালামাহ (রাযি.)
৫৬১ হাদিস নং
সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্য পর্দার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে মাগরিবের সালাত আদায় করতাম।
সালাতের সময়সমূহ মাগরিবের ওয়াক্ত। ইবনু আব্বাস (রাযি.)
৫৬২ হাদিস নং
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মাগরিব ও ‘ইশার) সাত রাক‘আত ও (যুহর ও ‘আসরের) আট রাক‘আত একত্রে আদায় করেছেন।
সালাতের সময়সমূহ মাগরিবকে ইশা বলা যিনি অপছন্দ করেন। আবদুল্লাহ্ মুযানী (রাযি.)
৫৬৩ হাদিস নং
আবদুল্লাহ্ মুযানী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বেদুঈনরা মাগরিবের সালাতের নামের ব্যাপারে তোমাদের উপর যেন প্রভাব বিস্তার না করে। রাবী (‘আবদুল্লাহ্ মুযানী (রাযি.) বলেন, বেদুঈনরা মাগরিবকে ‘ইশা বলে থাকে।
সালাতের সময়সমূহ ইশা ও আতামাহ-এর বর্ণনা এবং যিনি এতে কোনো আপত্তি করেন না। আবদুল্লাহ্ (রাযি.)
৫৬৪ হাদিস নং
আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে ’ইশার সালাত আদায় করেন, যে সালাতকে লোকেরা ’আতামা’ বলে থাকে। অতঃপর তিনি ফিরে আমাদের দিকে মুখ করে বললেন, আজকের এ রাত সম্পর্কে তোমরা জান কি? এ রাত হতে নিয়ে একশ’ বছরের শেষ মাথায় আজ যারা ভূপৃষ্ঠে আছে তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।
সালাতের সময়সমূহ ইশার সালাতের সময় লোকজন একত্রিত হয়ে গেলে বা দেরিতে এলে। মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু হাসান ইবনু আলী (রহ.)
৫৬৫ হাদিস নং
মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর ইবনু হাসান ইবনু ‘আলী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, মধ্যাহ্ন গড়ালেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত আদায় করতেন এবং সূর্য সতেজ থাকতে ‘‘আসর আদায় করতেন। আর সূর্য পর্দার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাবার সাথে সাথে মাগরিব আদায় করতেন। ‘ইশার সালাতে লোকদের আধিক্য হলেই দ্রুত আদায় করে নিতেন আর সংখ্যায় কম হলে দেরীতে আদায় করতেন। ফজরের সালাত অন্ধকার থাকতেই আদায় করতেন।
সালাতের সময়সমূহ ইশার সালাতের মর্যাদা। আয়িশাহ (রাযি.)
৫৬৬ হাদিস নং
আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার সালাত আদায় করতে বিলম্ব করলেন। এ হলো ব্যাপকভাবে ইসলাম প্রসারের পূর্বের কথা। (সালাতের জন্য) তিনি বেরিয়ে আসেননি, এমন কি ‘উমার (রাযি.) বললেন, মহিলা ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। অতঃপর তিনি বেরিয়ে এলেন এবং মসজিদের লোকদের লক্ষ্য করে বললেনঃ ‘‘তোমরা ব্যতীত যমীনের অধিবাসীদের কেউ ‘ইশার সালাতের জন্য অপেক্ষায় নেই।’’
সালাতের সময়সমূহ ইশার সালাতের মর্যাদা। আবূ মূসা (রাযি.)
৫৬৭ হাদিস নং
আবূ মূসা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও আমার সাথীরা-যারা (আবিসিনিয়া হতে) জাহাজ মারফত আমার সঙ্গে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন- বাকী‘য়ে বুতহানের একটা মুক্ত এলাকায় বসবাসরত ছিলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থাকতেন মদিনা্য়। বুতহানের অধিবাসীরা পালাক্রমে একদল করে প্রতি রাতে ‘ইশার সালাতের সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে আসতেন। পালাক্রমে ‘ইশার সালাতের সময় আমি ও আমার কতিপয় সঙ্গী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে হাযির হলাম। তখন তিনি কোনো কাজে খুব ব্যস্ত ছিলেন, ফলে সালাত আদায়ে বিলম্ব করলেন। এমন কি রাত অর্ধেক হয়ে গেলো। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে এলেন এবং সবাইকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদেরকে বললেনঃ প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে বসে যাও। তোমাদের সুসংবাদ দিচ্ছি যে, আল্লাহর পক্ষ হতে তোমাদের জন্য এটি এক নিয়ামত যে, তোমরা ছাড়া মানুষের মধ্যে কেউ এ মুহূর্তে সালাত আদায় করছে না। কিংবা তিনি বলেছিলেনঃ তোমরা ছাড়া কোন উম্মাত এ সময় সালাত আদায় করেনি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন্ বাক্যটি বলেছিলেন বর্ণনাকারী তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। আবূ মূসা (রাযি.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এ কথা শুনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত মনে বাড়ি ফিরলাম।
সালাতের সময়সমূহ ইশার সালাতের পূর্বে ঘুমানো অপছন্দনীয়। আবূ বারযাহ (রাযি.)
৫৬৮ হাদিস নং
আবূ বারযাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার পূর্বে নিদ্রা যাওয়া এবং পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন।
সালাতের সময়সমূহ ঘুম প্রবল হলে ইশার পূর্বে ঘুমানো। আয়িশাহ্ (রাযি.)
৫৬৯ হাদিস নং
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার সালাত আদায় করতে দেরী করলেন। ‘উমার (রাযি.) তাঁকে বললেন, আস্-সালাত। নারী ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। অতঃপর তিনি বেরিয়ে আসলেন এবং বললেনঃ তোমরা ছাড়া পৃথিবীর আর কেউ এ সালাতের জন্য অপেক্ষা করছে না। (রাবী বলেন) তখন মদিনা ছাড়া অন্য কোথাও সালাত আদায় করা হতো না। (তিনি আরও বলেন যে) পশ্চিম আকাশের ‘শাফাক’ (পশ্চিম আকাশের লাল কিরণ) অন্তর্হিত হবার পর হতে রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে তাঁরা ‘ইশা সালাত আদায় করতেন।
সালাতের সময়সমূহ ঘুম প্রবল হলে ইশার পূর্বে ঘুমানো। আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাযি.)
৫৭০ হাদিস নং
আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, এক রাতে কর্মব্যস্ততার কারণে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার সালাত আদায়ে দেরী করলেন, এমন কি আমরা মসজিদে ঘুমিয়ে পড়লাম। অতঃপর জেগে উঠে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। অতঃপর আবার জেগে উঠলাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বেরিয়ে এলেন, অতঃপর বললেনঃ তোমরা ছাড়া পৃথিবীর আর কেউ এ সালাতের অপেক্ষা করছে না। ঘুম প্রবল হবার কারণে ‘ইশার সালাত বিনষ্ট হবার আশংকা না থাকলে ইবনু ‘উমার (রাযি.) তা আগে ভাগে বা বিলম্ব করে আদায় করতে দ্বিধা করতেন না। কখনও কখনও তিনি ‘ইশার পূর্বে নিদ্রাও যেতেন।