তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

ফিল্টার
মোট: ৩৪৯৯
পৃষ্ঠা ৩২২ / ৩৫০
সৃষ্টির সূচনা ফেরেশতাদের বর্ণনা আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৩২১১ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘জুমু‘আর দিন মসজিদের প্রতিটি দরজায় ফেরেশতা এসে দাঁড়িয়ে যায় এবং যে ব্যক্তি প্রথম মসজিদে প্রবেশ করে, তার নাম লিখে নেয়। অতঃপর ক্রমান্বয়ে পরবর্তীদের নামও লিখে নেয়। ইমাম যখন বসে পড়েন তখন তারা এসব লেখা পুস্তিকা বন্ধ করে দেন এবং তাঁরা মসজিদে এসে যিক্র শুনতে থাকেন।’
সৃষ্টির সূচনা ফেরেশতাদের বর্ণনা সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহ.)
৩২১২ হাদিস নং
সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘উমার (রাঃ) মসজিদে নববীতে আগমন করেন, তখন হাস্সান ইবনু সাবিত (রাঃ) কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। তখন তিনি বললেন, এখানে আপনার চেয়ে উত্তম ব্যক্তির উপস্থিতিতেও আমি কবিতা আবৃত্তি করতাম। অতঃপর তিনি আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর দিকে তাকালেন এবং বললেন, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি; আপনি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, ‘‘তুমি আমার পক্ষ হতে জবাব দাও। হে আল্লাহ! আপনি তাকে রুহুল কুদুস [জিব্রাঈল (আঃ)] দ্বারা সাহায্য করুন।’’ তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ।
সৃষ্টির সূচনা ফেরেশতাদের বর্ণনা বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
৩২১৩ হাদিস নং
বারা‘ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাস্সান (রাঃ)-কে বলেছেন, তুমি তাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা কর অথবা তাদের কুৎসার জবাব দাও। তোমার সঙ্গে জিব্রাঈল (আঃ) আছেন।
সৃষ্টির সূচনা ফেরেশতাদের বর্ণনা আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৩২১৪ হাদিস নং
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন বানূ গানমের গলিতে উপরে উঠা ধূলা স্বয়ং দেখতে পাচ্ছি। মূসা এতটুকু বাড়িয়ে বলেছেন, জিব্রীল বাহন নিয়ে পদচারণা করেন।
সৃষ্টির সূচনা ফেরেশতাদের বর্ণনা আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৩২১৫ হাদিস নং
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। হারিস ইবনু হিশাম (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার নিকট ওয়াহী কিভাবে আসে? তিনি বললেন, ‘সব ধরনের ওয়াহী নিয়ে ফেরেশতা আসেন। কখনো কখনো ঘণ্টার আওয়াজের মত শব্দ করে। যখন আমার নিকট ওয়াহী আসা শেষ হয়ে যায়, তখন তিনি যা বলেছেন আমি তা মুখস্থ করে ফেলি। আর এভাবে শব্দ করে ওয়াহী আসাটা আমার নিকট কঠিন মনে হয়। আর কখনও কখনও ফেরেশতা আমার নিকট মানুষের আকারে আসেন এবং আমার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নেই।’
সৃষ্টির সূচনা ফেরেশতাদের বর্ণনা আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৩২১৬ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে কোন কিছু জোড়ায় জোড়ায় দান করবে, তাকে জান্নাতের পর্যবেক্ষকগণ আহবান করতে থাকবে, হে অমুক ব্যক্তি! এ দিকে আস! তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন, এমন ব্যক্তি তো সেই যার কোন ধ্বংস নেই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি আশা করি, তুমি তাদের মধ্যে একজন হবে।
সৃষ্টির সূচনা ফেরেশতাদের বর্ণনা আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৩২১৭ হাদিস নং
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, হে আয়িশা! এই যে জিব্রীল (আঃ) তোমাকে সালাম দিচ্ছেন। তখন তিনি বললেন, তাঁর প্রতি সালাম, আল্লাহর রহমত এবং তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। আপনি এমন কিছু দেখেন যা আমি দেখতে পাই না। এর দ্বারা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বুঝিয়েছেন।
সৃষ্টির সূচনা ফেরেশতাদের বর্ণনা আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৩২১৮ হাদিস নং
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিব্রাঈল (আঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমার কাছে যতবার আসেন তার চেয়ে অধিক আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন না কেন? রাবী বলেন, তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ ‘‘(জিবরাঈল বলল:) আমি আপনার রবের আদেশ ব্যতিরেকে আসতে পারি না। তাঁরই আয়ত্বে রয়েছে যা কিছু আমাদের সামনে আছে, যা আমাদের পশ্চাতে আছে এবং যা কিছু এর মধ্যস্থলে আছে’’- (মারইয়াম ৬৪)।
সৃষ্টির সূচনা ফেরেশতাদের বর্ণনা আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৩২১৯ হাদিস নং
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘জিব্রীল (আঃ) আমাকে এক আঞ্চলিক ভাষায় কুরআন পাঠ করে শুনিয়েছেন। কিন্তু আমি সব সময় তাঁর নিকট বেশি ভাষায় পাঠ শুনতে চাইতাম। শেষতক তা সাতটি আঞ্চলিক ভাষায় সমাপ্ত হয়।
সৃষ্টির সূচনা ফেরেশতাদের বর্ণনা আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৩২২০ হাদিস নং
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেদের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল ছিলেন আর রমাযান মাসে যখন জিব্রীল (আঃ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি আরো অধিক দানশীল হয়ে যেতেন। জিব্রীল (রাঃ) রমাযানের প্রতি রাতে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কুরআন পাঠ করে শুনাতেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যখন জিব্রাঈল (আঃ) দেখা করতেন, তখন তিনি মানুষের কল্যাণের জন্য পাঠানো বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল হতেন। ‘আবদুল্লাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। মা‘মার (রহ.) এ সনদে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন আর আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) এবং ফাতেমাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকট হতে فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ -এর স্থলে أَنَّ جِبْرِيْلَ كَانَ يُعَارِضُهُ الْقُرْآنَ বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ জিবরীল তাঁর উপর কুরআন পেশ করতেন।