তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

ফিল্টার
মোট: ৩৪৯৯
পৃষ্ঠা ২৯৩ / ৩৫০
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার যুদ্ধে রেশমী পরিচ্ছদ পরিধান করা। আনাস (রাঃ)
২৯২১ হাদিস নং
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রাহমান ইবনু আওফ ও যুবায়র ইবনুল আওয়ামকে রেশমী পোষাক পরার অনুমতি দেন।
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার যুদ্ধে রেশমী পরিচ্ছদ পরিধান করা। আনাস (রাঃ)
২৯২২ হাদিস নং
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, শরীরে চুলকানী থাকার কারণে তাদের দু’জনকে (আবদুর রাহমান ও যুবায়রকে) রেশমী পোষাক পরার অনুমতি দিয়েছিলেন বা দেয়া হয়েছিল।
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার ছুরি সম্পর্কে যা উল্লেখ করা হয়েছে। আমর ইবনু উমায়্যাহ যামরী (রাঃ)
২৯২৩ হাদিস নং
আমর ইবনু উমায়্যাহ যামরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (বকরির) হাত থেকে কেটে কেটে খেতে দেখেছি। অতঃপর তাঁকে সালাতের জন্য ডাকা হলে তিনি সালাত আদায় করলেন; কিন্তু তিনি উযু করলেন না। আবুল ইয়ামান (রহ.) শুয়াইব সূত্রে যুহরী (রহ.) থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছুরি রেখে দিলেন।
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার রোমীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে। উমাইর ইবনু আসওয়াদ আনসী
২৯২৪ হাদিস নং
উমাইর ইবনু আসওয়াদ আনসী হতে বর্ণিত যে, তিনি ‘উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ)-এর নিকট আসলেন। তখন ‘উবাদাহ (রাঃ) হিম্স উপকূলে তাঁর একটি ঘরে অবস্থান করছিলেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন উম্মু হারাম। ‘উমাইর (রহ.) বলেন, উম্মু হারাম (রাঃ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেন, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, আমার উম্মাতের মধ্যে প্রথম যে দলটি নৌ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করবে তারা যেন জান্নাত অবধারিত করে ফেলল। উম্মু হারাম (রাঃ) বলেন, আমি কি তাদের মধ্যে হবো? তিনি বললেন, তুমি তাদের মধ্যে হবে। উম্মু হারাম (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার উম্মাতের প্রথম যে দলটি কায়সার-এর রাজধানী আক্রমণ করবে, তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত। অতঃপর আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি কি তাদের মধ্যে হবো?’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘না।
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
২৯২৫ হাদিস নং
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। এমনকি তাদের কেউ যদি পাথরের আড়ালে লুকিয়ে থাকে তাহলে পাথরও বলবে, ‘হে আল্লাহর বান্দা, আমার পেছনে ইয়াহূদী আছে, তাকে হত্যা কর।’
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
২৯২৬ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত না তোমরা ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। এমনকি কোন ইয়াহূদী পাথরের আড়ালে লুকিয়ে থাকলে, পাথর বলবে, ‘হে মুসলিম, আমার পেছনে ইয়াহূদী আছে, তাকে হত্যা কর।’
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার তুর্কদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ)
২৯২৭ হাদিস নং
আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের আলামতসমূহের একটি এই যে, তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যারা পশমের জুতা পরিধান করবে। কিয়ামতের আর একটি আলামত এই যে, তোমরা এমন এক জাতির বিপক্ষে যুদ্ধ করবে, যাদের মুখমণ্ডল হবে চওড়া, তাদের মুখমণ্ডল যেন পিটানো চামড়ার ঢাল।
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার তুর্কদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
২৯২৮ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন তোমরা এমন তুর্ক জাতির বিপক্ষে যুদ্ধ না করবে, যাদের চোখ ছোট, চেহারা লাল, নাক চ্যাপ্টা এবং মুখমণ্ডল পেটানো চামড়ার ঢালের মত। আর ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন না তোমরা এমন এক জাতির বিপক্ষে যুদ্ধ করবে, যাদের জুতা হবে পশমের।
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার যারা পশমের জুতা পরিধান করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
২৯২৯ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির বিপক্ষে যুদ্ধ করবে যাদের জুতা হবে পশমের। আর কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির বিপক্ষে যুদ্ধ করবে, যাদের মুখমণ্ডল হবে পিটানো চামড়ার ঢালের মত। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, আ‘রাজ সূত্রে আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে আবূযযিনাদ এই রেওয়ায়তে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন; তাদের চোখ হবে ছোট, নাক হবে চ্যাপ্টা, তাদের চেহারা যেন পিটানো চামড়ার ঢাল।
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার পরাজয়ের সময় সঙ্গীদের সারিবদ্ধ করা, নিজের সওয়ারী থেকে নামা ও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা। বারা’ (রাঃ)
২৯৩০ হাদিস নং
বারা’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আবূ উমারা! হুনায়নের দিন আপনারা কি পলায়ন করেছিলেন? তিনি বললেন, না, আল্লাহর কসম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পলায়ন করেননি। বরং তাঁর কিছু সংখ্যক নওজোয়ান সাহাবী হাতিয়ার ছাড়াই অগ্রসর হয়ে গিয়েছিলেন। তারা বানূ হাওয়াযিন ও বানূ নাসর গোত্রের সুদক্ষ তীরন্দাজদের সম্মুখীন হন। তাদের কোন তীরই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। তারা এদের প্রতি এমনভাবে তীর বর্ষণ করল যে, তাদের কোন তীরই ব্যর্থ হয়নি। সেখান থেকে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে উপস্থিত হলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর সাদা খচ্চরটির পিঠে ছিলেন এবং তাঁর চাচাতো ভাই আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হারিস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব তাঁর লাগাম ধরে ছিলেন। তখন তিনি নামেন এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি নবী, এ কথা মিথ্যা নয়। আমি ‘আবদুল মুত্তালিবের পুত্র। অতঃপর তিনি সাহাবীদের সারিবদ্ধ করেন।