তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

ফিল্টার
মোট: ৩৪৯৯
পৃষ্ঠা ২৮৩ / ৩৫০
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার যুদ্ধে সাহসিকতা ও ভীরুতা। জুবাইর ইবনু মুত্‘ইম (রাঃ)
২৮২১ হাদিস নং
জুবাইর ইবনু মুত্‘ইম (রাঃ) হতে বর্ণিত। হুনাইন থেকে ফেরার পথে তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে চলছিলেন। তাঁর সঙ্গে আরো অনেক সাহাবী ছিলেন। এমন সময় কিছু গ্রাম্য ব্যক্তি এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরল এবং তাদের কিছু দেয়ার জন্য পীড়াপীড়ি শুরু করল। এমনকি তারা তাঁকে একটি গাছের নিকট নিয়ে গেল এবং তাঁর চাদর আটকে গেল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, আমার চাদরটি ফিরিয়ে দাও। আমার নিকট যদি এই সব কাঁটাদার গাছের পরিমাণ বক্রী থাকত, তাহলে এর সবই তোমাদের ভাগ করে দিতাম। আর তোমরা আমাকে কৃপণ, মিথ্যুক ও কাপুরুষ দেখতে পেতে না।
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার ভীরুতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা। আমর ইবনু মায়মূন আউদী (রহ.)
২৮২২ হাদিস নং
আমর ইবনু মায়মূন আউদী (রহ.) হতে বর্ণিত। শিক্ষক যেমন ছাত্রদের লেখা শিক্ষা দেন, সা‘দ (রাঃ) তেমনি তাঁর সন্তানদের এ বাক্যগুলো শিক্ষা দিতেন এবং বলতেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাতের পর এগুলো থেকে পানাহ চাইতেন, ‘হে আল্লাহ্! আমি ভীরুতা, অতি বার্ধক্য, দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের শাস্তি থেকে আপনার নিকট পানাহ চাই।’ রাবী বলেন, আমি মুস‘আব (রাঃ)-এর নিকট হাদীসটি বর্ণনা করলে তিনি এটির সত্যতা স্বীকার করেন।
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার ভীরুতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
২৮২৩ হাদিস নং
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই দু‘আ করতেন, ‘হে আল্লাহ্! আমি অক্ষমতা, ভীরুতা ও বার্ধক্য থেকে আপনার নিকট পানাহ চাচ্ছি এবং জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে এবং কবরের আযাব থেকে আপনার নিকট পানাহ চাচ্ছি।
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার যুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা। সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ)
২৮২৪ হাদিস নং
সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ত্বলহা ইবনু ‘উবায়দুল্লাহ, সা‘দ, মিকদাদ ইবনু আসওয়াদ এবং ‘আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ)-এর সাহচর্য লাভ করেছি। আমি তাদের কাউকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনিনি। তবে ত্বলহা (রাঃ)-কে উহুদ যুদ্ধের ঘটনাবলী বর্ণনা করতে শুনেছি।
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার জিহাদে গমন ওয়াজিব এবং জিহাদ ও তার নিয়্যাতের আবশ্যকতা। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)
২৮২৫ হাদিস নং
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয়ের দিন বলেছিলেন, এই বিজয়ের পর আর হিজরতের প্রয়োজন নেই। এখন কেবল জিহাদ ও নিয়্যাত। যখনই তোমাদের বের হবার আহবান জানানো হবে, তখনই তোমরা বেরিয়ে পড়বে।
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার কোন কাফির যদি কোন মুসলিমকে হত্যা করে, অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করতঃ দীনের উপর অবিচল থেকে আল্লাহর পথে নিহত হয়। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
২৮২৬ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, দু’ব্যক্তিও ক্ষেত্রে আল্লাহ্ হাসেন। যারা একে অপরকে হত্যা করে উভয়েই জান্নাতবাসী হবে। একজন তো এ কারণে জান্নাতবাসী হবে যে, সে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে শহীদ হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ্ তা‘আলা হত্যাকারীর তওবা কবুল করেছেন। ফলে সেও আল্লাহর রাস্তায় শহীদ বলে গণ্য হয়েছে।
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার কোন কাফির যদি কোন মুসলিমকে হত্যা করে, অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করতঃ দীনের উপর অবিচল থেকে আল্লাহর পথে নিহত হয়। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
২৮২৭ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বার বিজয়ের পর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেখানে অবস্থানকালেই আমি তাঁর নিকট গিয়ে বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমাকেও অংশ দিন।’ তখন সা‘ঈদ ইবনু ‘আসের কোন এক পুত্র বলে উঠল, ‘হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! তাকে অংশ দিবেন না।’ আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বললেন, সে তো ইবনু কাউকালের হত্যাকারী। তা শুনে সা‘ঈদ ইবনু ‘আসের পুত্র বললেন, ‘যান’ পাহাড়ের নিম্নদেশ থেকে আমাদের নিকট আগত বিড়াল মাশি জন্তুটি, তার কথায় আশ্চর্যবোধ করছি, সে আমাকে এমন একজন মুসলিমকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করেছে যাকে আল্লাহ্ তা‘আলা আমার হাতে সম্মানিত করেছেন এবং যার দ্বারা আমাকে লাঞ্ছিত করেননি। ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, পরে তাকে অংশ দিয়েছেন কি দেননি, তা আমার জানা নেই। সুফইয়ান (রহ.) বলেন, আমাকে সা‘ঈদী (রহ.) তার দাদার মাধ্যমে আবূ হুরাইরাহ্ (রহ.) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, সা‘ঈদী হলেন, ‘আমর ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু সা‘ঈদ ইবনু ‘আমর ইবনু সা‘ঈদ ইবনু ‘আস।
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার যে ব্যক্তি জিহাদকে সিয়ামের উপর অগ্রগণ্য করে। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
২৮২৮ হাদিস নং
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় আবূ ত্বলহা (রাঃ) জিহাদের কারণে সিয়াম পালন করতেন না। কিন্তু আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর ‘ঈদুল ফিতর ও ‘ঈদুল আয্হা ব্যতীত তাকে কখনো সিয়াম বাদ দিতে দেখিনি।
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার নিহত হওয়া ব্যতীতও সাত ধরনের শাহাদাত আছে। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
২৮২৯ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, পাঁচ প্রকার মৃত শহীদঃ মহামারীতে মৃত, পেটের পীড়ায় মৃত, পানিতে ডুবে মৃত, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত এবং যে আল্লাহর পথে শহীদ হলো।
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার নিহত হওয়া ব্যতীতও সাত ধরনের শাহাদাত আছে। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
২৮৩০ হাদিস নং
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মহামারীতে মৃত্যু হওয়া প্রতিটি মুসলিমের জন্য শাহাদাত।