অধ্যায়: সাক্ষ্যদান |
উপ-অধ্যায়: কেউ কোন দাবী করলে কিংবা মিথ্যারোপ করলে তাকেই প্রমাণ দিতে হবে এবং প্রমাণ সন্ধানে বেরোতে হবে। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৬৭১):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। হিলাল ইবনু উমাইয়া নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে শারীক ইবনু সাহমা এর সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হবার অভিযোগ করলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হয় তুমি প্রমাণ পেশ করবে, নয় তোমার পিঠে দন্ড আপতিত হবে। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ কি আপন স্ত্রীর উপর অপর কোন পুরুষকে দেখে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ছুটে যাবে? কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একই কথা বলতে থাকলেন, হয় প্রমাণ পেশ করবে, নয় তোমার পিঠে বেত্রাঘাতের দন্ড আপতিত হবে। তারপর তিনি লি‘আন ...... সংক্রান্ত হাদীস বর্ণনা করলেন।
|
অধ্যায়: সাক্ষ্যদান |
উপ-অধ্যায়: ‘আসরের পর শপথ করা। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২৬৭২):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তিন শ্রেণীর লোকের সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা কথা বলবেন না এবং (করুণার দৃষ্টিতে) তাদের প্রতি তাকাবেন না এবং তাদের পাপ মোচন করবেন না আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। প্রথম শ্রেণীর সে, যার নিকট অতিরিক্ত পানি রয়েছে রাস্তার পাশে, আর সে পানি হতে মুসাফিরকে বঞ্চিত রাখে। আর এক ব্যক্তি সে, যে কারো আনুগত্যের বায়আত করে এবং একমাত্র দুনিয়ার গরযেই সে তা করে। ফলে চাহিদা মাফিক তাকে দিলে সে অনুগত থাকে, আর না দিলে অনুগত থাকে না। আর এক শ্রেণীর সে, যে ‘আসরের পর কারো সঙ্গে পণ্য নিয়ে দাম দর করে এবং আল্লাহর নামে মিথ্যা হলফ করে বলে যে, সে ক্রয় করতে এত মূল্য দিয়েছে আর তা শুনে ক্রেতা তা কিনে নেয়।
|
অধ্যায়: সাক্ষ্যদান |
উপ-অধ্যায়: যে জায়গায় বিবাদীকে শপথ করানো ওয়াজিব, তাকে সেখানেই শপথ করানো হবে। একস্থান হতে অন্যস্থানে নেয়া হবে না। |
বর্ণনাকারী: ইবনু মাস‘উদ (রাঃ)
হাদিস নং (২৬৭৩):
ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশে (মিথ্যা) কসম করবে (কিয়ামতের দিন) সে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে এমন অবস্থায় যে, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন।
|
অধ্যায়: সাক্ষ্যদান |
উপ-অধ্যায়: আগে শপথ করা নিয়ে একদল লোকের প্রতিযোগিতা করা। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২৬৭৪):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদল লোককে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলফ করতে বললেন। তখন (কে আগে হলফ করবে এ নিয়ে) হুড়াহুড়ি শুরু করে দিল। তখন তিনি কে (আগে) হলফ করবে, তা নির্ধারণের জন্য তাদের নামে লটারী করার নির্দেশ দিলেন।
|
অধ্যায়: সাক্ষ্যদান |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে পরকালে তাদের কোন অংশ নাই। ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাদের সহিত কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না; তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে । (সূরা আলু ‘ইমরানঃ ৭৭) |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)
হাদিস নং (২৬৭৫):
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি তার মালপত্র বাজারে আনল এবং হলফ করে বলল যে, এগুলোর (খরিদ মূল্য) সে এত দিয়েছে, অথচ সে তত দেয়নি। তখন আয়াত নাযিল হলঃ যারা নগণ্য মূল্যের বিনিময়ে আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা এবং নিজের শপথ বিক্রি করে ......। ইবনু আবূ ‘আওফা (রাঃ) বলেন, (দাম বৃদ্ধির মতলবে) যে ধোঁকা দেয়, সে মূলতঃ সুদখোর ও খিয়ানতকারী।
|
অধ্যায়: সাক্ষ্যদান |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে পরকালে তাদের কোন অংশ নাই। ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাদের সহিত কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না; তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে । (সূরা আলু ‘ইমরানঃ ৭৭) |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ)
হাদিস নং (২৬৭৬):
আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি কারো অথবা তার ভাইয়ের অর্থ আত্মসাতের মতলবে মিথ্যা হলফ করবে, সে (কিয়ামতে) মহান আল্লাহর দেখা পাবে এমন অবস্থায় যে, তিনি তার উপর অত্যন্ত রাগান্বিত থাকবেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা উক্ত হাদীসের সমর্থনে কুরআনে এই আয়াত নাযিল করলেনঃ যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথ তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে, আখিরাতে তাদের কোন অংশ নেই। আর আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাদের প্রতি (করুণা ভরে) তাকাবেন না এবং তাদেরকে বিশুদ্ধও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব- (সূরা আলু ‘ইমরানঃ ৭৭)। পরে আশ‘আস (রাঃ) আমার সঙ্গে দেখা করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) আজ তোমাদের কী হাদীস শুনিয়েছেন? আমি বললাম, এই এই (হাদীস)। তিনি বললেন, আমার ব্যাপারেই আয়াতটি নাযিল হয়েছে।
|
অধ্যায়: সাক্ষ্যদান |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে পরকালে তাদের কোন অংশ নাই। ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাদের সহিত কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না; তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে । (সূরা আলু ‘ইমরানঃ ৭৭) |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ)
হাদিস নং (২৬৭৭):
আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি কারো অথবা তার ভাইয়ের অর্থ আত্মসাতের মতলবে মিথ্যা হলফ করবে, সে (কিয়ামতে) মহান আল্লাহর দেখা পাবে এমন অবস্থায় যে, তিনি তার উপর অত্যন্ত রাগান্বিত থাকবেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা উক্ত হাদীসের সমর্থনে কুরআনে এই আয়াত নাযিল করলেনঃ যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথ তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে, আখিরাতে তাদের কোন অংশ নেই। আর আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাদের প্রতি (করুণা ভরে) তাকাবেন না এবং তাদেরকে বিশুদ্ধও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব- (সূরা আলু ‘ইমরানঃ ৭৭)। পরে আশ‘আস (রাঃ) আমার সঙ্গে দেখা করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) আজ তোমাদের কী হাদীস শুনিয়েছেন? আমি বললাম, এই এই (হাদীস)। তিনি বললেন, আমার ব্যাপারেই আয়াতটি নাযিল হয়েছে।
|
অধ্যায়: সাক্ষ্যদান |
উপ-অধ্যায়: কেমনভাবে শপথ করানো হবে? |
বর্ণনাকারী: ত্বলহা ইবনু উবায়দুল্লাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৬৭৮):
ত্বলহা ইবনু উবায়দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একলোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে তাঁকে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লাগল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। সে বলল, আমার উপর আরও কিছু ওয়াজিব আছে? তিনি বললেন, না, নেই। তবে নফল হিসাবে পড়তে পার। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আর রমাযান মাসের সিয়াম। সে জিজ্ঞেস করল, আমার উপর এ ছাড়া আরও কিছু ওয়াজিব আছে? তিনি বললেন, না, নেই। তবে নফল হিসাবে পালন করতে পার। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে যাকাতের কথা বললেন; সে জানতে চাইল, আমার উপর এছাড়া আরও কিছু ওয়াজিব আছে? তিনি বললেন, না, নেই। তবে নফল হিসাবে করতে পার। অতঃপর সে ব্যক্তিটি এই বলে প্রস্থান করল, আল্লাহর কসম! এতে আমি কোন কম-বেশী করব না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সত্য বলে থাকলে সে সফল হয়ে গেল।
|
অধ্যায়: সাক্ষ্যদান |
উপ-অধ্যায়: কেমনভাবে শপথ করানো হবে? |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৬৭৯):
আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কারও হলফ করতে হলে সে যেন আল্লাহর নামেই হলফ করে, নতুবা চুপ করে থাকে।
|
অধ্যায়: সাক্ষ্যদান |
উপ-অধ্যায়: শপথ করার পর বাদী সাক্ষী হাযির করলে। |
বর্ণনাকারী: উম্মু সালামাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৬৮০):
উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমরা আমার নিকট মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে আস। আর তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়ত প্রতিপক্ষের তুলনায় প্রমাণ সাক্ষী পেশ করার ব্যাপারে অধিক বাকপটু। তবে জেনে রেখ, বাকপটুতার কারণে যার পক্ষে আমি তার ভাইয়ের প্রাপ্য হক ফায়সালা করে দেই, তার জন্য আসলে আমি জাহান্নামের অংশ নির্ধারণ করে দেই। কাজেই, সে যেন তা গ্রহণ না করে।
|