তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: দান বা সদাকাহ করা হলে তা ফিরিয়ে নেয়া কারো জন্য হালাল নয়। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৬২১): ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, দান করার পর যে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ লোকের মত, যে বমি করে তা আবার খায়।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: দান বা সদাকাহ করা হলে তা ফিরিয়ে নেয়া কারো জন্য হালাল নয়। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৬২২): ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, খারাপ উপমা দেয়া আমাদের জন্য শোভনীয় নয় তবু যে দান করে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ কুকুরের মতো, যে বমি করে তা আবার খায়।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: দান বা সদাকাহ করা হলে তা ফিরিয়ে নেয়া কারো জন্য হালাল নয়। | বর্ণনাকারী: উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)
হাদিস নং (২৬২৩): উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোককে আমি আমার একটি ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় আরোহণের জন্য দান করলাম। ঘোড়াটি যার নিকট ছিল, সে তার চরম অযত্ন করল। তাই সেটা আমি তার নিকট হতে কিনে নিতে চাইলাম। আমার ধারণা ছিল যে, সে তা কম দামে বিক্রি করবে। এ সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এক দিরহামের বিনিময়েও যদি সে তোমাকে তা দিতে রাজী হয় তবু তুমি তা ক্রয় কর না। কেননা, সাদাকা করার পর যে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ কুকুরের মত, যে বমি করে আবার তা খায়।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: পরিচ্ছেদ নাই। | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু উবায়দুল্লাহ ইবনু আবূ মুলায়কা (রহ.)
হাদিস নং (২৬২৪): আবদুল্লাহ ইবনু উবায়দুল্লাহ ইবনু আবূ মুলায়কা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু জুদ‘আনের আযাদকৃত গোলাম সুহাইবের সন্তান দু’টি ঘর ও একটি কামরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুহায়ব (রাঃ)-কে দান করেছিলেন বলে দাবী জানান। (মদিনার গভর্নর) মারওয়ান (রহ.) তখন বললেন, এ ব্যাপারে তোমাদের পক্ষে কে সাক্ষী দিবে? তারা বলল, ইবনু ‘উমার (রাঃ)। মারওয়ান (রহ.) তখন ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে ডেকে পাঠালেন। তিনি এ মর্মে সাক্ষ্য দিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুহায়ব (রাঃ)-কে দু’টি ঘর ও একটি কামরা দান করেছিলেন। তাদের স্বপক্ষে ইবনু ‘উমারের সাক্ষ্য অনুযায়ী মারওয়ান ফায়সালা করলেন।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: ‘উমরা ও রুকবা১ رُقْبى علُمْرى সম্পর্কে যা বলা হয়েছে। | বর্ণনাকারী: জাবির (রাঃ)
হাদিস নং (২৬২৫): জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘উমরাহ (বস্তু) সম্পর্কে ফায়সালা দিয়েছেন যে, যাকে দান করা হয়েছে, সে-ই সেটার মালিক হবে।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: ‘উমরা ও রুকবা১ رُقْبى علُمْرى সম্পর্কে যা বলা হয়েছে। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২৬২৬): আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘উমরাহ বৈধ। ‘আতা (রহ.) বলেন, জাবির (রাঃ) আমাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে একই রকম হাদীস শুনিয়েছেন।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: মানুষের কাছ থেকে যে ব্যক্তি ঘোড়া, চতুষ্পদ জন্তু বা অন্য কোন কিছু ধার নেয়। | বর্ণনাকারী: ক্বাতাদাহ (রহ.)
হাদিস নং (২৬২৭): ক্বাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, মদিনা্য় একবার শত্রুর আক্রমণের ভয় ছড়িয়ে পড়ল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন আবূ ত্বলহা (রাঃ)-এর নিকট হতে একটি ঘোড়া ধার নিলেন এবং তাতে সাওয়ার হলেন। ঘোড়াটির নাম ছিল মানদূব। অতঃপর তিনি ঘোড়াটিতে টহল দিয়ে ফিরে এসে বললেন, কিছুই তো দেখতে পেলাম না, তবে এই ঘোড়াটিকে আমি সমুদ্রের তরঙ্গের মতো পেয়েছি।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: বাসর সজ্জার উদ্দেশে নব দম্পতির কিছু ধার নেয়া। | বর্ণনাকারী: আয়মান (রহ.)
হাদিস নং (২৬২৮): আয়মান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট আমি হাযির হলাম। তাঁর গায়ে তখন পাঁচ দিরহাম মূল্যের মোটা কাপড়ের কামিজ ছিল। তিনি আমাকে বললেন, আমার এ বাঁদীটার দিকে তাকাও, ঘরের ভিতরে এটা পরতে সে অপছন্দ করে। অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যামানায় মদিনার মেয়েদের মধ্যে আমারই শুধু একটি কামিজ ছিল। মদিনায় কোন মেয়েকে বিয়ের সাজে সাজাতে গেলেই আমার নিকট কাউকে পাঠিয়ে ঐ কামিজটি চেয়ে নিত।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: দুগ্ধ পান করানোর জন্য সাময়িকভাবে উট-বকরি প্রদানের ফযীলত। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২৬২৯): আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মানীহা হিসাবে অধিক দুগ্ধবতী উটনী ও অধিক দুগ্ধবতী বকরী কতই না উত্তম, যা সকাল বিকাল পাত্র ভর্তি দুধ দেয়। (ইমাম বুখারী বলেন) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ ও ইসমাঈল (রহ.) হাদীসটি মালিক (রহ.) হতে বর্ণনা করেছেন, এতে তিনি বলেন, সাদাকা হিসাবে কতই না উত্তম (দুগ্ধবতী উটনী, যা মানীহা হিসাবে দেয়া হয়)।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: দুগ্ধ পান করানোর জন্য সাময়িকভাবে উট-বকরি প্রদানের ফযীলত। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (২৬৩০): আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা হতে মদিনা্য় হিজরতের সময় মুহাজিরদের হাকে কোন কিছু ছিল না। অন্যদিকে আনসারগণ ছিলেন জমি ও ভূসম্পত্তির অধিকারী। তাই আনসারগণ এই শর্তে মুহাজিরদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিলেন যে, প্রতি বছর তারা (আনসারগণ)-এর উৎপন্ন ফল ও ফসলের একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ তাদের (মুহাজিরগণের) দিবেন আর তারা এ কাজে শ্রম দিবে ও দায়-দায়িত্ব নিবে। আনাসের মা উম্মু সুলাইম (রাঃ) ছিলেন ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ ত্বলহার মা। আনাসের মা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে (ফল ভোগ করার জন্য) কয়েকটি খেজুর গাছ দিয়েছিলেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেগুলো তাঁর আযাদকৃত বাঁদী ‘উসমান ইবনু যায়দের মা উম্মু আয়মানকে দান করে দিয়েছিলেন। ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, আনাস (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খায়বারে ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে লড়াই শেষে মদিনা্য় ফিরে এলে মুহাজিরগণ আনসারদেরকে তাদের দানের সম্পত্তি ফিরিয়ে দিলেন; যেগুলো ফল ও ফসল ভোগ করার জন্য তারা মুহাজিরদের দান করেছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ও তাঁর (আনাসের) মাকে তার খেজুর গাছগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মু আয়মানকে ঐ গাছগুলোর পরিবর্তে নিজ বাগানের কিছু অংশ দান করলেন। আহমাদ ইবনু শাবীব (রহ.) বলেন, আমার পিতা আমাদেরকে ইউনুসের সূত্রে এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এবং حَائِطِهِ এর স্থলে خَالِصِهِ বলেছেন, যার অর্থ নিজ ভূমি থেকে।