তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: উষ্ট্রারোহীকে সেই উষ্ট্রটি দান করা হলে তা বৈধ। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (২৬১১): ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম আর আমি (আমার পিতার) একটি বেয়াড়া উটের উপর সাওয়ার ছিলাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উমরকে বললেন, এটা আমার নিকট বেঁচে দাও। তিনি তা বেঁচে দিলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, হে ‘আবদুল্লাহ, এটা তোমার।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: পরিধেয় হিসেবে অপছন্দনীয় কিছু হাদিয়া দেয়া। | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (২৬১২): আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) মসজিদের দ্বার প্রান্তে একজোড়া রেশমী বস্ত্র দেখে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা যদি আপনি ক্রয় করে নেন এবং তা জুমু‘আর দিনে ও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পরিধান করতেন। তখন তিনি বললেন, এ তো সে-ই পরিধান করে, আখিরাতে যার কোন অংশ নেই। পরে কিছু রেশমী জোড়া আসলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে থেকে ‘উমার (রাঃ)-কে এক জোড়া দান করলেন। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, আপনি এটা আমাকে পরিধান করতে দিলেন অথচ (আগে) রেশমী কাপড় সম্পর্কে আপনি যা বলার বলেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি তো এটা তোমাকে পরিধানের জন্য দেইনি। তখন ‘উমার (রাঃ) তা মক্কার তার এক মুশরিক ভাইকে দিয়ে দিলেন।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: পরিধেয় হিসেবে অপছন্দনীয় কিছু হাদিয়া দেয়া। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (২৬১৩): ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদা ফাতিমাহর ঘরে গেলেন। কিন্তু ভিতরে প্রবেশ করলেন না। ‘আলী (রাঃ) ঘরে এলে ফাতিমাহ (রাঃ) তাকে ঘটনা জানালেন। তিনি আবার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বিষয়টি নিবেদন করলেন। তখন তিনি বললেন, আমি তার দরজায় নকশা করা পর্দা ঝুলতে দেখেছি। দুনিয়ার চাকচিক্যের সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক? ‘আলী (রাঃ) ফাতিমাহর নিকট এসে ঘটনা খুলে বললেন। ফাতিমাহ (রাঃ) বললেন, তিনি আমাকে এ সম্পর্কে যা ইচ্ছা নির্দেশ দিন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, অমুক পরিবারের অমুকের নিকট এটা পাঠিয়ে দাও; তাদের প্রয়োজন আছে।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: পরিধেয় হিসেবে অপছন্দনীয় কিছু হাদিয়া দেয়া। | বর্ণনাকারী: আলী (রাঃ)
হাদিস নং (২৬১৪): আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে একজোড়া রেশমী কাপড় দিলেন। আমি তা পরিধান করলাম। তাঁর মুখমণ্ডল ে গোস্বার ভাব দেখতে পেয়ে আমি আমার মহিলাদের মাঝে তা ভাগ করে দিয়ে দিলাম।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: মুশরিকদের দেয়া হাদিয়া গ্রহণ করা। | বর্ণনাকারী: আনাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৬১৫): আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে একটি রেশমী জুববা হাদিয়া দেয়া হল। অথচ তিনি রেশমী কাপড় ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন। এতে সাহাবীগণ খুশী হলেন। তখন তিনি বললেন, সেই সত্তার কসম! যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, জান্নাতে সা‘দ ইবনু মু‘আযের রুমালগুলো এর চেয়ে উৎকৃষ্ট।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: মুশরিকদের দেয়া হাদিয়া গ্রহণ করা। | বর্ণনাকারী: আনাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৬১৬): আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, দুমার উকাইদির নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে হাদিয়া দিয়েছিলেন।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: মুশরিকদের দেয়া হাদিয়া গ্রহণ করা। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (২৬১৭): আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খিদমতে বিষ মিশানো বকরী নিয়ে এল। সেখান হতে কিছু অংশ তিনি খেলেন, অতঃপর মহিলাকে হাযির করা হল। তখন বলা হল, আপনি কি একে হত্যা করবেন না? তিনি বললেন, না। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তালুতে আমি বরাবরই বিষক্রিয়ার আলামত দেখতে পেতাম।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: মুশরিকদের দেয়া হাদিয়া গ্রহণ করা। | বর্ণনাকারী: আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)
হাদিস নং (২৬১৮): আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে আমরা একশ’ ত্রিশজন ব্যক্তি ছিলাম। সে সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কারো সঙ্গে কি খাবার আছে? দেখা গেল, এক ব্যক্তির সঙ্গে এক সা‘ কিংবা তার কমবেশী পরিমাণ খাদ্য আছে। সে আটা গোলানো হল। অতঃপর দীর্ঘ দেহী এলোমেলো চুলওয়ালা এক মুশরিক এক পাল বকরী হাঁকিয়ে নিয়ে এল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন- বিক্রি করবে, না উপহার দিবে? সে বললঃ না, বরং বিক্রি করব। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার নিকট হতে একটা বকরী কিনে নিলেন। সেটাকে যবেহ করা হল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বকরীর কলিজা ভুনা করার আদেশ দিলেন। আল্লাহর কসম! একশ’ ত্রিশজনের প্রত্যেককে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই কলিজার কিছু কিছু করে দিলেন। উপস্থিতদের হাতে দিলেন; আর অনুপস্থিত ছিল তার জন্য তুলে রাখলেন। অতঃপর দু’টি পাত্রে তিনি মাংস ভাগ করে রাখলেন। সবাই পরিতৃপ্ত হয়ে খেল। আর উভয় পাত্রে কিছু উদ্বৃত্ত রয়ে গেল। সেগুলো আমরা উটের পিঠে উঠিয়ে নিলাম। অথবা রাবী যা বললেন।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: মুশরিকদেরকে হাদিয়া প্রদান করা। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (২৬১৯): ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) এক ব্যক্তিকে রেশমী বস্ত্র বিক্রি করতে দেখে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন, এ জোড়াটি খরিদ করে নিন। জুমুআর দিনে এবং যখন আপনার নিকট কোন প্রতিনিধি দল আসে, তখন তা পরিধান করবেন। তিনি বললেন, এসব তো তারাই পরিধান করে, যাদের আখিরাতে কোন হিস্সা নেই। পরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কয়েক জোড়া রেশমী কাপড় এল। সেগুলো হতে একটি জোড়া তিনি ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন। তখন ‘উমার (রাঃ) বলেন, এটা আমি কিভাবে পরিধান করব। অথচ এ সম্পর্কে আপনি যা বলার বলেছেন। এতে তিনি বললেন, এটা তোমাকে আমি পরিধান করার জন্য দেইনি। হয় এটা বিক্রয় করে দিবে, নতুবা কাউকে দিয়ে দিবে। তখন ‘উমার (রাঃ) সেটা মক্কার বাসিন্দা তাঁর এক ভাইকে ইসলাম গ্রহণের আগে হাদিয়া পাঠালেন।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: মুশরিকদেরকে হাদিয়া প্রদান করা। | বর্ণনাকারী: আসমা বিনতে আবূ বকর (রাঃ)
হাদিস নং (২৬২০): আসমা বিনতে আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে আমার আম্মা মুশরিক অবস্থায় আমার নিকট এলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ফাতওয়া চেয়ে বললাম, তিনি আমার প্রতি খুবই আকৃষ্ট, এমতাবস্থায় আমি কি তার সঙ্গে সদাচরণ করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তুমি তোমার মায়ের সঙ্গে সদাচরণ কর।