অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত |
উপ-অধ্যায়: স্বামী আছে এমন নারীর স্বামী ব্যতীত অন্যের জন্য হিবা করা বা দাস মুক্ত করা। নির্বোধ না হলে বৈধ, নির্বোধ হলে অবৈধ। |
বর্ণনাকারী: আসমা (রাঃ)
হাদিস নং (২৫৯১):
আসমা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ খরচ কর, আর হিসাব করতে যেওনা, তাহলে আল্লাহ তোমার বেলায় হিসাব করে দিবেন। লুকিয়ে রেখ না, নইলে আল্লাহও তোমার ব্যাপারে লুকিয়ে রাখবেন।
|
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত |
উপ-অধ্যায়: স্বামী আছে এমন নারীর স্বামী ব্যতীত অন্যের জন্য হিবা করা বা দাস মুক্ত করা। নির্বোধ না হলে বৈধ, নির্বোধ হলে অবৈধ। |
বর্ণনাকারী: মায়মূনাহ বিনতে হারিস (রাঃ)
হাদিস নং (২৫৯২):
মায়মূনাহ বিনতে হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুমতি ব্যতীত তিনি আপন বাঁদীকে মুক্ত করে দিলেন। অতঃপর তার ঘরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অবস্থানের দিন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি জানেন না আমি আমার বাঁদী মুক্ত করে দিয়েছি? তিনি বললেন, তুমি কি তা করেছ? মায়মূনাহ (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, শুন! তুমি যদি তোমার মামাদেরকে এটা দান করতে তাহলে তোমার জন্য বেশি নেকির কাজ হত।
|
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত |
উপ-অধ্যায়: স্বামী আছে এমন নারীর স্বামী ব্যতীত অন্যের জন্য হিবা করা বা দাস মুক্ত করা। নির্বোধ না হলে বৈধ, নির্বোধ হলে অবৈধ। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৫৯৩):
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সফরের মনস্থ করলে স্ত্রীগণের মধ্যে কুরআর ব্যবস্থা করতেন। যার নাম আসত তিনি তাঁকে নিয়েই সফরে বের হতেন। এছাড়া প্রত্যেক স্ত্রীর জন্য একদিন এক রাত নির্দিষ্ট করে দিতেন। তবে সাওদা বিনতে যাম‘আহ (রাঃ) নিজের দিন ও রাত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে দান করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সন্তুষ্টি কামনা করতেন।
|
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত |
উপ-অধ্যায়: প্রথমে হাদিয়া দিয়ে শুরু করবে। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৫৯৪):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়ব হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী মায়মূনাহ (রাঃ) তার এক বাঁদীকে মুক্ত করে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন তাকে বললেন, তুমি যদি একে তোমার মামাদের কাউকে দিয়ে দিতে তবে তোমার অধিক পুণ্য হত।
|
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত |
উপ-অধ্যায়: প্রথমে হাদিয়া দিয়ে শুরু করবে। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৫৯৫):
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার দু’জন প্রতিবেশী আছে। এ দু’জনের কাকে আমি হাদিয়া দিব? তিনি ইরশাদ করলেন, এ দু’জনের মাঝে যার দরজা তোমার বেশি নিকটে।
|
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত |
উপ-অধ্যায়: কারণবশতঃ হাদিয়া কবুল না করা। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৫৯৬):
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জনৈক সাহাবী সা‘আব ইবনু জাস্সামা লাইসী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তিনি একটি বন্য গাধা হাদিয়া দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি ইহরাম অবস্থায় আবওয়াহ কিংবা ওয়াদ্দান নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। কাজেই তিনি সেটা ফিরিয়ে দিলেন। সা‘আব (রাঃ) বলেন, যখন তিনি আমার চেহারায় হাদিয়া ফিরিয়ে দেয়ার ছাপ দেখলেন, তখন তিনি বললেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় না থাকলে তোমার হাদিয়া ফিরিয়ে দিতাম না।
|
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত |
উপ-অধ্যায়: কারণবশতঃ হাদিয়া কবুল না করা। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুমায়দ সা‘ঈদ (রাঃ)
হাদিস নং (২৫৯৭):
আবূ হুমায়দ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আযদ গোত্রের ইবনু উতবিয়া নামের এক লোককে সাদাকা সংগ্রহের কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি ফিরে এসে বললেন, এগুলো আপনাদের আর এগুলো আমাকে হাদিয়া দেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সে তার বাবার ঘরে কিংবা তার মায়ের ঘরে কেন বসে থাকল না। তখন সে দেখত পেত, তাকে কেউ হাদিয়া দেয় কি দেয় না? যাঁর হাতে আমার প্রাণ, সেই সত্তার কসম, সাদাকার মাল হতে স্বল্প পরিমাণও যে আত্মসাৎ করবে, সে তা কাঁধে করে কিয়ামত দিবসে উপস্থিত হবে। সেটা উট হলে তার আওয়াজ করবে, আর গাভী হলে হাম্বা হাম্বা রব করবে আর বকরী হলে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করতে থাকবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দু’হাত এই পরিমাণ উঠালেন যে, আমরা তাঁর দুই বগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। তিনি তিনবার বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি। হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?
|
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত |
উপ-অধ্যায়: হাদিয়া পাঠিয়ে দিয়ে বা পাঠিয়ে দেয়ার ওয়াদা করে তা পৌঁছানোর পূর্বেই মৃত্যু হলে। |
বর্ণনাকারী: জাবির (রাঃ)
হাদিস নং (২৫৯৮):
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, বাহরাইন হতে মাল এসে পৌঁছলে তোমাকে আমি এভাবে তিনবার দিব, কিন্তু মাল আসার পূর্বেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মৃত্যু হল। পরে আবূ বকর (রাঃ) ঘোষককে ঘোষণা করতে নির্দেশ দিলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ হতে কারো জন্য কোন প্রতিশ্রুতি থাকলে কিংবা কারো কোন ঋণ থাকলে সে যেন আমার নিকট আসে। এ ঘোষণা শুনে আমি তাঁর নিকট গিয়ে বললাম, আমাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তখন তিনি আমাকে আঁজলা ভরে তিনবার দিলেন।
|
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত |
উপ-অধ্যায়: দাস ও বিবিধ সামগ্রী কিভাবে অধিকারভুক্ত করা যায়? |
বর্ণনাকারী: মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৫৯৯):
মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একবার কিছু কবা’ (পোশাক বিশেষ) বণ্টন করলেন। কিন্তু মাখরামাহকে তা হতে একটিও দিলেন না। মাখরামাহ (রাঃ) তখন (ছেলেকে) বললেন, প্রিয় বৎস! আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খিদমতে নিয়ে চল। [মিসওয়ার (রাঃ) বলেন] আমি তার সঙ্গে গেলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, যাও, ভেতরে গিয়ে তাঁকে আমার জন্য আহবান জানাও। [মিসওয়ার (রাঃ)] বলেন, অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আহবান জানালাম। তিনি বেরিয়ে এলেন। তখন তাঁর নিকট একটি কবা (জামা/আলখাল্লা) ছিল। তিনি বললেন, এটা আমি তোমার জন্য হিফাযত করে রেখে দিয়েছিলাম। মাখরামাহ (রাঃ) সেটি তাকিয়ে দেখলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, মাখরামাহ খুশী হয়ে গেছে।
|
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত |
উপ-অধ্যায়: হাদিয়া পাঠানো হলে ‘গ্রহণ করলাম’ এ কথা না বলে কেউ স্বীয় অধিকারভুক্ত করে নিলে। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২৬০০):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এল এবং বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তা কী? সে বলল, আমি রমাযানে দিনের বেলা স্ত্রী সম্ভোগ করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কোন গোলাম আযাদ করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এক নাগাড়ে দু’মাস সিয়াম পালন করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে তুমি কি ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াতে পারবে? সে বলল, না। বর্ণনকারী বলেন, ইতোমধ্যে এক আনসারী এক আরক খেজুর নিয়ে আসল। আরক হল নির্দিষ্ট মাপের খেজুর মাপার পাত্র। তিনি বললেন, যাও, এটা নিয়ে গিয়ে সাদাকা করে দাও। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের চেয়ে বেশি অভাবী এমন কাউকে সাদাকা করে দিব? যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম! কঙ্করময় মরুভূমির মাঝে (অর্থাৎ মদিনা্য়) আমাদের চেয়ে অভাবী কোন ঘর নেই। শেষে তিনি বললেন, যাও তা তোমার পরিবার-পরিজনদের খাওয়াও।
|