তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: কোন ব্যক্তির পানি চাওয়া সম্পর্কে। | বর্ণনাকারী: আনাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৫৭১): আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এই ঘরে আগমন করেন এবং কিছু পান করতে চাইলেন। আমরা আমাদের একটা বকরীর দুধ দোহন করে তাতে আমাদের এই কুয়ার পানি মিশালাম। অতঃপর তা সম্মুখে পেশ করলাম। এ সময় আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন তাঁর বামে, ‘উমার (রাঃ) ছিলেন তাঁর সম্মুখে, আর এক বেদুঈন ছিলেন তাঁর ডানে। তিনি যখন পান শেষ করলেন, তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, ইনি আবূ বকর, কিন্তু রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বেদুঈনকে তার অবশিষ্ট পানি দান করলেন। অতঃপর বললেন, ডান দিকের ব্যক্তিদেরকেই (অগ্রাধিকার), ডান দিকের ব্যক্তিদের (অগ্রাধিকার) শোন! ডান দিক থেকেই শুরু করবে। আনাস (রাঃ) বলেন, এটাই সুন্নাত, এটাই সুন্নাত, এটাই সুন্নাত।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: শিকারের গোশত হাদিয়া হিসেবে গ্রহণ করা সম্পর্কে। | বর্ণনাকারী: আনাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৫৭২): আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মক্কার অদূরে) মার্রায্ যাহারান নামক স্থানে আমরা একটি খরগোশ তাড়া করলাম। লোকেরা সেটার পিছনে ধাওয়া করে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। অবশেষে আমি সেটাকে পেয়ে গেলাম এবং ধরে আবূ ত্বলহা (রাঃ)-এর নিকট নিয়ে গেলাম। তিনি সেটাকে যবেহ করে তার পাছা অথবা রাবী বলেন, দু’ উরু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খিদমতে পাঠালেন। শু‘বা (রহ.) বলেন, দু’টি উরুই এতে কোন সন্দেহ নেই। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা গ্রহণ করেছিলেন। রাবী বলেন, আমি শু‘বা (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি তা খেয়েছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, খেয়েছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা গ্রহণ করেছিলেন।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: হাদিয়া কবুল করা সম্পর্কে | বর্ণনাকারী: সা‘আব ইবনু জাসসামাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৫৭৩): সা‘আব ইবনু জাসসামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি (সা‘আব ইবনু জাসসামা) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য একটি বন্য গাধা হাদিয়া পাঠালেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন আবওয়া কিংবা ওয়াদ্দান নামক স্থানে ছিলেন। তিনি হাদিয়া ফেরত পাঠালেন। পরে তার বিষণ্ণ মুখ দেখে বললেন, শুন! আমরা ইহরাম অবস্থায় না থাকলে তোমার হাদিয়া ফেরত দিতাম না।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: হাদিয়া কবুল করা সম্পর্কে। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৫৭৪): আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। লোকেরা তাদের হাদিয়া পাঠাবার ব্যাপারে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর জন্য নির্ধারিত দিনের অপেক্ষা করত। এতে তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করত।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: হাদিয়া কবুল করা সম্পর্কে। | বর্ণনাকারী: ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৫৭৫): ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ’আব্বাসের খালা উম্মু হুফায়দ (রাঃ) একদা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খিদমাতে পনির, ঘি ও দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) হাদিয়া পাঠালেন। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শুধু পনির ও ঘি খেলেন আর দব্ব অরুচিকর হওয়ায় বাদ দিলেন। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দস্তরখানে (দব্ব) খাওয়া হয়েছে। তা হারাম হলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দস্তরখানে খাওয়া হত না।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: হাদিয়া কবুল করা সম্পর্কে। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২৫৭৬): আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খিদমতে কোন খাবার আনা হলে তিনি জানতে চাইতেন, এটা হাদিয়া, না সাদাকা? যদি বলা হত সাদাকা, তাহলে সাহাবীদের তিনি বলতেন, তোমরা খাও। কিন্তু তিনি খেতেন না। আর যদি বলা হত হাদিয়া, তাহলে তিনিও হাত বাড়াতেন এবং তাদের সঙ্গে খাওয়ায় শরীক হতেন।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: হাদিয়া কবুল করা সম্পর্কে। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (২৫৭৭): আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খিদমতে কিছু মাংস আনা হল। তখন বলা হল যে, এট আসলে বারীরার নিকট সাদাকারূপে এসেছিল। তখন তিনি বললেন, এটা তার জন্য সাদাকা আর আমাদের জন্য হাদিয়া।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: হাদিয়া কবুল করা সম্পর্কে। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৫৭৮): আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বারীরাহ (রাঃ)-কে খরিদ করার ইচ্ছা করলে তার মালিক পক্ষ ওয়ালার শর্তারোপ করল। তখন বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে আলোচিত হল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তাকে খরিদ করে আযাদ করে দাও। কেননা যে আযাদ করল, সেই ওয়ালা লাভ করবে। ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর জন্য কিছু মাংস হাদিয়া পাঠানো হল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলা হল যে, এ মাংস বারীরাকে সাদাকা করা হয়েছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটা তার জন্য সাদাকা আর আমাদের জন্য হাদিয়া। তাকে (স্বামী বহাল রাখা বা পরিত্যাগ করার ব্যাপারে) স্বীয় ইচ্ছামাফিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার দেয়া হল। (রাবী) ‘আবদুর রহমান (রহ.) বলেন, তার স্বামী তখন আযাদ কিংবা গোলাম ছিল। শু‘বা (রহ.) বলেন, পরে আমি ‘আবদুর রহমান (রহ.)-কে তার স্বামী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি জানি না, সে আযাদ ছিল না গোলাম ছিল।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: হাদিয়া কবুল করা সম্পর্কে। | বর্ণনাকারী: উম্মু ‘আতিয়্যাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৫৭৯): উম্মু ‘আতিয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরে এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের নিকট খাবার কিছু আছে কি? তিনি বললেন, না; উম্মে আতিয়্যা প্রেরিত বকরির কিছু গোশ্ত ছাড়া, যা আপনি তাকে সাদাকা হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বললেন, সাদাকা তো যথাস্থানে পৌঁছে গেছে।
অধ্যায়: হিবা ও এর ফযীলত | উপ-অধ্যায়: সঙ্গীকে কোন হাদিয়া দেয়ার ক্ষেত্রে তার অন্য স্ত্রী ছেড়ে কোন স্ত্রীর জন্য নির্ধারিত দিনের অপেক্ষা করা। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৫৮০): আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা তাদের হাদিয়া পাঠাবার ব্যাপারে আমার জন্য নির্ধারিত দিনের অপেক্ষা করত। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বলেন, আমার সতীনগণ একত্রিত হলেন। ফলে উম্মু সালামাহ (রাঃ) বিষয়টি তাঁর নিকট উত্থাপন করলেন, কিন্তু তিনি ব্যাপারটি এড়িয়ে গেলেন।