অধ্যায়: অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন |
উপ-অধ্যায়: যদি কোন ব্যক্তি কাউকে কোন বিষয়ে অনুমতি প্রদান করে, তাকে মাফ করে, কিন্তু কী পরিমাণ ক্ষমা করল কিংবা কতটুকুর জন্য অনুমতি প্রদান করল তা উল্লেখ না করে। |
বর্ণনাকারী: সাহল ইবনু সা‘দ সায়াদী (রাঃ)
হাদিস নং (২৪৫১):
সাহল ইবনু সা‘দ সায়াদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে কিছু পানীয় দ্রব্য আনা হল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা হতে কিছুটা পান করলেন। তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডান দিকে বসা ছিল একটি বালক, আর বাম দিকে ছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠরা। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বালকটিকে বললেন, এ বয়োজ্যেষ্ঠদেরকে দেয়ার জন্য তুমি আমাকে অনুমতি দিবে কি? তখন বালকটি বলল, না, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! আমি আপনার কাছ হতে প্রাপ্য আমার অংশে কাউকে অগ্রাধিকার দিব না। রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানির পেয়ালাটা তার হাতে ঠেলে দিলেন।
|
অধ্যায়: অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন |
উপ-অধ্যায়: কোন ব্যক্তি কারো জমির কিছু অংশ ছিনিয়ে নেয় অথবা জুলুম করে নিয়ে নেয় তার গুনাহ। |
বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ)
হাদিস নং (২৪৫২):
সাঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কারো জমির অংশ জুলুম করে কেড়ে নেয়, কিয়ামতের দিন এর সাত তবক জমিন তার গলায় লটকিয়ে দেয়া হবে।
|
অধ্যায়: অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন |
উপ-অধ্যায়: কোন ব্যক্তি কারো জমির কিছু অংশ ছিনিয়ে নেয় অথবা জুলুম করে নিয়ে নেয় তার গুনাহ। |
বর্ণনাকারী: আবূ সালামাহ (রহ.)
হাদিস নং (২৪৫৩):
আবূ সালামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, তাঁর এবং কয়েকজন লোকের মধ্যে একটি বিবাদ ছিল। ‘আয়িশাহ (রাযি.)-এর কাছে উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, হে আবূ সালামাহ! জমির ব্যাপারে সতর্ক থাক। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এক বিঘত জমি অন্যায়ভাবে নিয়ে নেয়, (কিয়ামতের দিন) এর সাত তবক জমি তার গলায় লটকিয়ে দেয়া হবে।
|
অধ্যায়: অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন |
উপ-অধ্যায়: কোন ব্যক্তি কারো জমির কিছু অংশ ছিনিয়ে নেয় অথবা জুলুম করে নিয়ে নেয় তার গুনাহ। |
বর্ণনাকারী: সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রহঃ)
হাদিস নং (২৪৫৪):
সালিম (রহ.)-এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে সামান্য পরিমাণ জমিও নিয়ে নিবে, কিয়ামতের দিন তাকে সাত তবক জমিনের নীচ পর্যন্ত ধসিয়ে দেয়া হবে। আবূ ‘আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহ.) কর্তৃক খুরাসানে রচিত হাদীসগ্রন্থে এ হাদীসটি নেই। এ হাদীসটি বসরায় লোকজনকে শুনানো হয়েছে।
|
অধ্যায়: অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন |
উপ-অধ্যায়: যদি কোন ব্যক্তি কাউকে কোন বিষয়ে অনুমতি প্রদান করে তবে তা বৈধ। |
বর্ণনাকারী: জাবালাহ (রহ.)
হাদিস নং (২৪৫৫):
জাবালাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মাদ্বীনায় কিছু সংখ্যক ইরাকী লোকের সাথে ছিলাম। একবার আমরা দুর্ভিক্ষের কবলে পতিত হই, তখন ইবনু যুবাইর (রাঃ) আমাদেরকে খেজুর খেতে দিতেন। ইবনু উমার (রাঃ) আমাদের নিকট দিয়ে যেতেন এবং বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে তার ভাইয়ের অনুমতি ব্যতীত এক সাথে দু’টো করে খেজুর খেতে নিষেধ করেছেন।
|
অধ্যায়: অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন |
উপ-অধ্যায়: যদি কোন ব্যক্তি কাউকে কোন বিষয়ে অনুমতি প্রদান করে তবে তা বৈধ। |
বর্ণনাকারী: আবূ মাসঊদ (রাঃ)
হাদিস নং (২৪৫৬):
আবূ মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আবূ শুয়াইব (রাঃ) নামক এক আনসারীর মাংস বিক্রেতা একজন গোলাম ছিল। একদিন আবূ শুয়াইব (রাঃ) তাকে বললেন, আমার জন্য পাঁচজন লোকের খাবার তৈরী কর। আমি আশা করছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দাওয়াত করব। আর তিনি উক্ত পাঁচজনের একজন। উক্ত আনসারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেহারায় ক্ষুধার ছাপ লক্ষ্য করেছিলেন। কাজেই তিনি তাঁকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাওয়াত করলেন। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে আরেকজন লোক আসলেন, যাকে দাওয়াত করা হয়নি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আনসারীকে) বললেন, এ আমাদের পিছে পিছে চলে এসেছে। তুমি কি তাকে অনুমতি দিচ্ছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
|
অধ্যায়: অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন |
উপ-অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণীঃ প্রকৃতপক্ষে সে ঘোর বিরোধী। (আল-বাকারাঃ ২০৪) |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাযি.)
হাদিস নং (২৪৫৭):
আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নিকট সেই লোক সবচেয়ে বেশী ঘৃণিত, যে অতি ঝগড়াটে।
|
অধ্যায়: অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন |
উপ-অধ্যায়: যে ব্যক্তি জেনে শুনে অন্যায় বিষয়ে বিবাদ করে, তার গুনাহ। |
বর্ণনাকারী: উম্মু সালামাহ (রাযি.)
হাদিস নং (২৪৫৮):
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী উম্মু সালামাহ (রাযি.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, একদিন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরের দরজার নিকটে ঝগড়ার শব্দ শুনতে পেয়ে তাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন। [তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে বিচার চাওয়া হল] তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তো একজন মানুষ। আমার কাছে (কোন কোন সময়) ঝগড়াকারীরা আসে। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যের চেয়ে অধিক বাকপটু। তখন আমি মনে করি যে, সে সত্য বলেছে। তাই আমি তার পক্ষে রায় দেই। বিচারে যদি আমি ভুলবশত অন্য কোন মুসলিমের হক তাকে দিয়ে থাকি, তবে তা দোযখের টুকরা। এখন সে তা গ্রহণ করুক বা ত্যাগ করুক।
|
অধ্যায়: অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন |
উপ-অধ্যায়: ঝগড়া বিবাদ করার সময় অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)
হাদিস নং (২৪৫৯):
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকে, সে মুনাফিক অথবা যার মধ্যে এ চারটি স্বভাবের কোন একটা থাকে, তার মধ্যেও মুনাফিকীর একটি স্বভাব থাকে, যে পর্যন্ত না সে তা পরিত্যাগ করে।
(১) সে যখন কথা বলে মিথ্যা বলে
(২) যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে
(৩) যখন চুক্তি করে তা লঙ্ঘন করে
(৪) যখন ঝগড়া করে অশ্লীল বাক্যালাপ করে।
|
অধ্যায়: অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন |
উপ-অধ্যায়: অত্যাচারীর সম্পদ যদি অত্যাচারিতের হস্তগত হয়, তবে তা হতে সে নিজের প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পারে। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাযি.)
হাদিস নং (২৪৬০):
আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন উতবাহ ইবনু রবী‘আর কন্যা হিন্দা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমার স্বামী) আবূ সুফিয়ান বখিল ব্যক্তি। তার সম্পদ হতে যদি আমার সন্তানদের খেতে দেই, তাহলে আমার কোন গুনাহ হবে কি? তখন তিনি বললেন, যদি তুমি তাদেরকে ন্যায়সঙ্গতভাবে খেতে দাও তাহলে তোমার কোন গুনাহ হবে না।
|