তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: চাষাবাদ | উপ-অধ্যায়: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ (রাঃ) কৃষিকাজ ও ফল-ফসল উৎপাদনে একে অপরকে সহয়তা করতেন তার বিবরণ। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২৩৪১): আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার নিকট জমি রয়েছে, সে যেন তা নিজে চাষ করে, অথবা তার ভাইকে দিয়ে দেয়, যদি এটাও না করতে চায়, তবে সে যেন তার জমি ফেলে রাখে।
অধ্যায়: চাষাবাদ | উপ-অধ্যায়: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ (রাঃ) কৃষিকাজ ও ফল-ফসল উৎপাদনে একে অপরকে সহয়তা করতেন তার বিবরণ। | বর্ণনাকারী: আমর (রহ.)
হাদিস নং (২৩৪২): আমর (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (বর্গাচাষ সম্পর্কিত) এ হাদীসটি তাউস (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, (অন্যকে দিয়ে) চাষাবাদ করানো যেতে পারে। (কেননা) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা (বর্গাচাষ) নিষেধ করেননি। তবে তিনি বলেছেন যে, তোমাদের নিজের ভাইকে জমি দান করে দেয়া উত্তম, তার কাছ হতে নির্দিষ্ট কিছু গ্রহণ করার চেয়ে।
অধ্যায়: চাষাবাদ | উপ-অধ্যায়: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ (রাঃ) কৃষিকাজ ও ফল-ফসল উৎপাদনে একে অপরকে সহয়তা করতেন তার বিবরণ। | বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহ.)
হাদিস নং (২৩৪৩): নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে এবং আবূ বকর, ‘উমার, উসমান (রাঃ) মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর শাসনের শুরু ভাগে নিজের ক্ষেতে বর্গাচাষ করতে দিতেন।
অধ্যায়: চাষাবাদ | উপ-অধ্যায়: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ (রাঃ) কৃষিকাজ ও ফল-ফসল উৎপাদনে একে অপরকে সহয়তা করতেন তার বিবরণ। | বর্ণনাকারী: পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদিস নং (২৩৪৪): তারপর রাফি‘ ইবনু খাদীজের বর্ণিত হাদীসটি তাঁর নিকট বর্ণনা করা হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষেত ভাগে ইজারা দিতে নিষেধ করেছেন। তখন ইবনু ‘উমার (রাঃ) রাফি‘ (রাঃ)-এর নিকট গেলেন। আমিও তাঁর সঙ্গে গেলাম। তিনি (ইবনু ‘উমার) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি [রাফি‘ (রাঃ)] বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষেত ভাগে ইজারা দিতে নিষেধ করেছেন। তখন ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, আপনি তো জানেন যে, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় নালার পার্শ্বস্থ ক্ষেতের ফসলের শর্তে এবং কিছু ঘাসের বিনিময়ে আমাদের ক্ষেত ইজারা দিতাম।
অধ্যায়: চাষাবাদ | উপ-অধ্যায়: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ (রাঃ) কৃষিকাজ ও ফল-ফসল উৎপাদনে একে অপরকে সহয়তা করতেন তার বিবরণ। | বর্ণনাকারী: সালিম (রহ.)
হাদিস নং (২৩৪৫): সালিম (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, আমি জানতাম যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যামানায় ক্ষেত বর্গাচাষ করতে দেয়া হত। তারপর ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর ভয় হল, হয়ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে এমন কিছু নতুন নির্দেশ দিয়েছেন, যা তাঁর জানা নেই। তাই তিনি ভাগে জমি ইজারা দেয়া ত্যাগ করলেন।
অধ্যায়: চাষাবাদ | উপ-অধ্যায়: সোনা-রূপার বিনিময়ে জমি কিরায়া (নগদ বিক্রি) করা। | বর্ণনাকারী: রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ)
হাদিস নং (২৩৪৬): রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে আমার চাচারা বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় লোকেরা নালার পার্শ্বস্থ ফসলের শর্তে কিংবা এমন কিছু শর্তে ভাগে জমি ইজারা দিত, যা ক্ষেতের মালিক নিজের জন্য নির্দিষ্ট করে নিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এরূপ করতে নিষেধ করেন। রাবী বলেন, আমি রাফি‘ (রাঃ)-কে বললাম, দ্বীনার ও দিরহামের শর্তে জমি (ইজারা দেয়া) কেমন? রাফি‘ (রাঃ) বললেন, দ্বীনার ও দিরহামের বিনিময়ে ইজারা দেয়াতে কোন দোষ নেই। [লাইস (রহ.)] বলেন, আমার মনে হয়, যে বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে, হালাল ও হারাম বিষয়ে বিজ্ঞজনেরা সে সম্পর্কে চিন্তা করলেও তারা তা জায়িয মনে করবেন না। কেননা, তাতে (ক্ষতির) আশঙ্কা রয়েছে। আবূ ‘আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, আমার মনে হয়, যে বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে- এখান হতে লাইস (রহ.)-এর উক্তি শুরু হয়েছে।
অধ্যায়: চাষাবাদ | উপ-অধ্যায়: সোনা-রূপার বিনিময়ে জমি কিরায়া (নগদ বিক্রি) করা। | বর্ণনাকারী: রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ)
হাদিস নং (২৩৪৭): রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে আমার চাচারা বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যামানায় লোকেরা নালার পার্শ্বস্থ ফসলের শর্তে কিংবা এমন কিছু শর্তে ভাগে জমি ইজারা দিত, যা ক্ষেতের মালিক নিজের জন্য নির্দিষ্ট করে নিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এরূপ করতে নিষেধ করেন। রাবী বলেন, আমি রাফি‘ (রাঃ)-কে বললাম, দ্বীনার ও দিরহামের শর্তে জমি (ইজারা দেয়া) কেমন? রাফি‘ (রাঃ) বললেন, দ্বীনার ও দিরহামের বিনিময়ে ইজারা দেয়াতে কোন দোষ নেই। [লাইস (রহ.)] বলেন, আমার মনে হয়, যে বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে, হালাল ও হারাম বিষয়ে বিজ্ঞজনেরা সে সম্পর্কে চিন্তা করলেও তারা তা জায়িয মনে করবেন না। কেননা, তাতে (ক্ষতির) আশঙ্কা রয়েছে। আবূ ‘আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, আমার মনে হয়, যে বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে- এখান হতে লাইস (রহ.)-এর উক্তি শুরু হয়েছে।
অধ্যায়: চাষাবাদ | উপ-অধ্যায়: পরিচ্ছেদ নাই। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৩৪৮): আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বলছিলেন, তখন তাঁর নিকট গ্রামের একজন লোক উপবিষ্ট ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন যে, জান্নাতবাসীদের কোন একজন তার রবের কাছে চাষাবাদের অনুমতি চাইবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে বলবেন, তুমি কি যা চাও, তা পাচ্ছ না? সে বলবে, হ্যাঁ নিশ্চয়ই। কিন্তু আমার চাষ করার খুবই আগ্রহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তখন সে বীজ বুনবে এবং তা চারা হওয়া, গাছ বড় হওয়া ও ফসল কাটা সব কিছু পলকের মধ্যে হয়ে যাবে। আর তা (ফসল) পাহাড় সমান হয়ে যাবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, হে আদম সন্তান! এগুলো নিয়ে নাও। কোন কিছুই তোমাকে তৃপ্তি দেয় না। তখন গ্রাম্য লোকটি বলে উঠল, আল্লাহর কসম, এই ধরনের লোক আপনি কুরায়শী বা আনসারদের মধ্যেই পাবেন। কেননা তাঁরা চাষী। আর আমরা তো চাষী নই। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন।
অধ্যায়: চাষাবাদ | উপ-অধ্যায়: গাছ লাগানো সম্পর্কে। | বর্ণনাকারী: সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ)
হাদিস নং (২৩৪৯): সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুমু‘আর দিন আসলে আমরা আনন্দিত হতাম এজন্য যে, আমাদের (প্রতিবেশী) এক বৃদ্ধা ছিলেন, তিনি আমাদের নালার ধারে লাগানো বীট গাছের মূল তুলে এনে তার ডেকচিতে রাখতেন এবং তার সাথে যবের দানাও মিশাতেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার যতটুকু মনে পড়ে তিনি (সাহল) বলেছেন যে, তাতে কোন চর্বি বা তৈলাক্ত কিছু থাকত না। আমরা জুমু‘আর সালাতের পর বৃদ্ধার নিকট আসতাম এবং তিনি তা আমাদের সামনে পরিবেশন করতেন। এ কারণে জুমু‘আর দিন আমাদের খুব আনন্দ হত। আমরা জুমু‘আর সালাতের পরই আহার করতাম এবং কায়লুলাহ (বিশ্রাম) করতাম।
অধ্যায়: চাষাবাদ | উপ-অধ্যায়: গাছ লাগানো সম্পর্কে। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৩৫০): আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকজন বলে যে, আবূ হুরাইরাহ বেশী হাদীস বর্ণনা করে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছেই সবার প্রত্যাবর্তন। এবং তারা আরো বলে, মুহাজির ও আনসারদের কী হল যে, তারা আবূ হুরাইরাহর মতো এত হাদীস বর্ণনা করেন না। [আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন,] আমার মুহাজির ভাইদেরকে বাজারে বেচা-কেনা এবং আনসার ভাইদেরকে তাদের ক্ষেত খামার ও বাগানের কাজ-কর্ম ব্যতিব্যস্ত রাখত। আমি ছিলাম একজন মিসকীন লোক। পেটে যা জুটে, খেয়ে না খেয়ে তাতেই তুষ্ট হয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে পড়ে থাকতাম। তাই লোকেরা যখন অনুপস্থিত থাকত, আমি হাযির থাকতাম। লোকেরা যা ভুলে যেত, আমি তা স্মরণ রাখতাম। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের যে কেউ আমার কথা শেষ হওয়া পর্যন্ত তার চাদর বিছিয়ে রাখবে এবং আমার কথা শেষ হলে চাদরখানা তার বুকের সাথে মিলাবে, তাহলে সে আমার কোন কথা কখনো ভুলবে না। আমি আমার পশমী চাদরটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিছিয়ে রাখলাম। সে চাদর ছাড়া আমার গায়ে আর কোন চাদর ছিল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কথা শেষ হওয়ার পর আমি তা আমার বুকের সাথে মিলালাম। সে সত্তার কসম! যিনি তাঁকে সত্য দিয়ে প্রেরণ করেছেন, আজ পর্যন্ত তাঁর আমি একটি কথাও ভুলিনি। আল্লাহর কসম! যদি আল্লাহর কিতাবের এ দু’টি আয়াত না থাকত, তবে আমি কখনো তোমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করতাম না। (তা এই) : ﴿إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنْ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى ........ الرَّحِيمُ﴾ ‘‘যারা আমার নাযিলকৃত নিদর্শনসমূহ গোপন করে ....... আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু পর্যন্ত’’- (আল-বাকারা ১৫৯-১৬০)।