তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

ফিল্টার
মোট: ৩৫০০
পৃষ্ঠা ২২৯ / ৩৫০
ইজারা কোন ব্যক্তির কোন কৃতদাসীর মালিকের সাথে এ মর্মে আবেদন করা- সে যেন তার উপর ধার্যকৃত কর কমিয়ে দেয়। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
২২৮১ হাদিস নং
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙ্গা প্রয়োগকারী এক গোলামকে ডাকলেন। সে তাঁকে শিঙ্গা লাগাল। তিনি তাকে এক সা‘ বা দু’ সা‘ অথবা এক মুদ বা দু’ মুদ (পারিশ্রমিক) দিতে নির্দেশ দিলেন। এরপর তার ব্যাপারে (তার মালিকের সাথে) কথা বললেন, ফলে তার উপর ধার্যকৃত মাসুল কমিয়ে দেয়া হল।
ইজারা কৃতদাসী এবং পতিতার উপার্জন। আবূ মাসঊদ আনসারী (রাঃ)
২২৮২ হাদিস নং
আবূ মাসঊদ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, পতিতার উপার্জন ও গণকের পারিতোষিক নিষিদ্ধ করেছেন।
ইজারা কৃতদাসী এবং পতিতার উপার্জন। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
২২৮৩ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাসীদের অবৈধ উপার্জন নিষিদ্ধ করেছেন।
ইজারা পশুকে পাল দেয়ার মাশুল। ইবনু ‘উমার (রাঃ)
২২৮৪ হাদিস নং
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশুকে পাল দেয়া বাবদ বিনিময় নিতে নিষেধ করেছেন।
ইজারা যদি কোন ব্যক্তি ভূমি ইজারা নেয় এবং তাদের দু’জনের কেউ মৃত্যুবরণ করে। আবদুল্লাহ (ইবনু ‘উমার) (রাঃ)
২২৮৫ হাদিস নং
আবদুল্লাহ (ইবনু ‘উমার) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের জমি (ইয়াহূদীদেরকে) এ শর্তে দিয়েছিলেন যে, তারা তাতে কৃষি কাজ করে ফসল উৎপাদন করবে এবং উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তাদের প্রাপ্য হবে। ইবনু ‘উমার (রাঃ) নাফি‘ (রহ.)-কে বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যামানায় কিছু মূল্যের বিনিময়ে যার পরিমাণটা নাফি‘ নির্দিষ্ট করে বলেছিলেন, কিন্তু আমার তা স্মরণ নেই, জমি ইজারা দেয়া হত।
ইজারা যদি কোন ব্যক্তি ভূমি ইজারা নেয় এবং তাদের দু’জনের কেউ মৃত্যুবরণ করে। রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ)
২২৮৬ হাদিস নং
রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) রিওয়ায়েত করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শস্য ক্ষেত বর্গা দিতে নিষেধ করেছেন। উবায়দুল্লাহ (রহ.) নাফি‘-এর বরাত দিয়ে ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে (এটুকু অতিরিক্ত) বর্ণনা করেছেন যে, ‘উমার (রাঃ) কর্তৃক ইয়াহূদীদেরকে বিতাড়ণ করা পর্যন্ত (খায়বারের জমি তাদের নিকট ইজারাহ দেয়া হত)।
হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) হাওয়াল (দায় অপসারণ) করা। হাওয়ালা করার পর পুনরায় হাওয়ালাকারীর নিকট দাবী করা যায় কি? আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
২২৮৭ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ধনী ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম। যখন তোমাদের কাউকে (তার জন্যে) কোন ধনী ব্যক্তির হাওয়ালা করা হয়, তখন সে যেন তা মেনে নেয়।
হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) যখন (ঋণ) কোন আমীর ব্যক্তির হাওয়ালা করা হয়, তখন (তা মেনে নেয়ার পর) তার পক্ষে প্রত্যাখ্যান করার ইখতিয়ার নেই। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
২২৮৮ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ধনী ব্যক্তির পক্ষ হতে ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম। যাকে (তার পাওনার জন্য) ধনীর হাওয়ালা করা হয়, সে যেন তা মেনে নেয়।
হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) কারো উপর মৃত ব্যক্তির ঋণের ভার হাওয়ালা করা জায়েয। সালামাহ ইবনু আকওয়া (রাঃ)
২২৮৯ হাদিস নং
সালামাহ ইবনু আকওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, একদিন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় একটি জানাযা উপস্থিত করা হল। সাহাবীগণ বললেন, আপনি তার জানাযার সালাত আদায় করে দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার কি কোন ঋণ আছে? তারা বলল, না। তিনি বললেন, সে কি কিছু রেখে গেছে? তারা বলল, না। তখন তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। তারপর আরেকটি জানাযা উপস্থিত করা হল। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি জানাযার সালাত আদায় করে দিন। তিনি বললেন, তার কি কোন ঋণ আছে? বলা হল, হ্যাঁ, আছে। তিনি বললেন, সে কি কিছু রেখে গেছে? তারা বললেন, তিনটি দ্বীনার। তখন তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। তারপর তৃতীয় আরেকটি জানাযা উপস্থিত করা হল। সাহাবীগণ বললেন, আপনি তার জানাযা আদায় করুন। তিনি বলেন, সে কি কিছু রেখে গেছে। তারা বললেন, না। তিনি বললেন, তার কি কোন ঋণ আছে। তারা বললেন, তিন দ্বীনার। তিনি বললেন, তোমাদের এ লোকটির সালাত তোমরাই আদায় করে নাও। আবূ কাতাদাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তার জানাযার সালাত আদায় করুন, তার ঋণের জন্য আমি দায়ী। তখন তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করলেন।
যামিন হওয়া দেনা ও কর্জের ব্যাপারে দেহ এবং অন্য কিছুর আর্থিক দায় প্রসঙ্গে। আবূ যিনাদ (রহ.)
২২৯০ হাদিস নং
আবূ যিনাদ (রহ.) মুহাম্মাদ ইবনু হামযা ইবনু আমর আসলামী (রহ.)-এর মাধ্যমে তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, ‘উমার (রাঃ) তাঁকে সাদকা উশুলকারী নিযুক্ত করে পাঠান। সেখানে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সাথে ব্যভিচার করে বসল। তখন হামযা (রহ.) কিছু লোককে তার পক্ষ হতে যামিন স্থির করলেন। পরে তিনি ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট ফিরে আসলেন। ‘উমার (রাঃ) উক্ত লোকটিকে একশ’ বেত্রাঘাত করলেন এবং লোকদের বিবরণকে সত্য বলে গ্রহণ করলেন। তারপর লোকটিকে তার অজ্ঞতার জন্য (স্ত্রীর দাসীর সাথে যৌন সম্ভোগ করা যে অবৈধ তা সে জানত না) অব্যাহতি দেন। জরীর ও ‘আশ‘আস (রহ.) মুরতাদ-ধর্মচ্যুত ব্যক্তিদের সম্পর্কে ‘আবদুল্লাহ [ইবনু মাসঊদ (রাঃ)]-কে বলেন, তাদেরকে তওবা করতে বলুন এবং গোত্রের লোকেরা তাদের যামিন হয়ে গেল। হাম্মাদ (রহ.) বলেন, যদি কোন ব্যক্তি যামিন হবার পর মৃত্যুবরণ করে তবে সে দায়মুক্ত হয়ে যাবে। হাকাম (রহ.) বলেন, তার উপর দায়িত্ব থেকে যাবে (অর্থাৎ ওয়ারিশদের উপর সে দায়িত্ব বর্তাবে)।