তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় | উপ-অধ্যায়: মুদাবিবর (মনিবের মৃত্যুর পর যে কৃতদাস আযাদ হবে) বিক্রির বর্ণনা। | বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২২৩১): জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুদাববার বিক্রি করেছেন।
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় | উপ-অধ্যায়: মুদাবিবর (মনিবের মৃত্যুর পর যে কৃতদাস আযাদ হবে) বিক্রির বর্ণনা। | বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ)
হাদিস নং (২২৩২): যায়দ ইবনু খালিদ ও আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবিবাহিত ব্যভিচারিণী দাসী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তাঁকে বলতে শুনেছেন যে, ব্যভিচারিণীকে বেত্রাঘাত কর। সে আবার ব্যভিচার করলে আবার বেত্রাঘাত কর। এরপর তাকে বিক্রি করে দাও তৃতীয় বা চতুর্থবারের পরে।
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় | উপ-অধ্যায়: মুদাবিবর (মনিবের মৃত্যুর পর যে কৃতদাস আযাদ হবে) বিক্রির বর্ণনা। | বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ)
হাদিস নং (২২৩৩): যায়দ ইবনু খালিদ ও আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অবিবাহিত ব্যভিচারিণী দাসী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তাঁকে বলতে শুনেছেন যে, ব্যভিচারিণীকে বেত্রাঘাত কর। সে আবার ব্যভিচার করলে আবার বেত্রাঘাত কর। এরপর তাকে বিক্রি করে দাও তৃতীয় বা চতুর্থবারের পরে।
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় | উপ-অধ্যায়: মুদাবিবর (মনিবের মৃত্যুর পর যে কৃতদাস আযাদ হবে) বিক্রির বর্ণনা। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২২৩৪): আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি বলতে শুনেছি, তোমাদের কোন দাসী ব্যভিচার করলে এবং তার ব্যভিচার প্রমাণিত হলে তাকে ‘হদ’ স্বরূপ বেত্রাঘাত করবে এবং তাকে ভৎর্সনা করবে না। এরপর যদি সে আবার ব্যভিচার করে তাকে ‘হদ’ হিসাবে বেত্রাঘাত করবে কিন্তু তাকে ভৎর্সনা করবে না। তারপর সে যদি তৃতীয়বার ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার প্রমাণিত হয় তবে তাকে বিক্রি করে দেবে, যদিও তা চুলের রশির (তুচ্ছ মূল্যের) বিনিময়ে হয়।
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় | উপ-অধ্যায়: ইসতিবরা অর্থাৎ জরায়ু গর্ভমুক্ত কি-না তা অবগত হওয়ার আগে দাসীকে নিয়ে ভ্রমণে বের হওয়া যায় কিনা। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (২২৩৫): আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার গমন করেন। যখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দুর্গের বিজয় দান করেন, তখন তাঁর সামনে সাফিয়্যাহ (রাযি.) বিনতে হুয়ায়্যি ইবনু আখতাব এর সৌন্দর্যের আলোচনা করা হয়। তাঁর স্বামী নিহত হয় এবং তিনি তখন ছিলেন নব-বিবাহিতা। অবশেষে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নিজের জন্য গ্রহণ করে নেন। তিনি তাঁকে নিয়ে রওয়ানা হন। যখন আমরা সাদ্দা রাওহা নামক স্থানে উপনীত হলাম, তখন সাফিয়্যাহ (রাযি.) পবিত্র হলেন! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে মিলিত হন। তারপর চামড়ার ছোট দস্তরখানে হায়েস (খেজুরের ছাতু ও ঘি মিশ্রিত খাদ্য) তৈরী করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা আশেপাশের লোকদের উপস্থিত হওয়ার জন্য খবর দিয়ে দাও। এই ছিল সাফিয়্যাহ (রাযি.)-এর বিবাহে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ওয়ালিমাহ। এরপর আমরা মদ্বীনার উদ্দেশে রওয়ানা হই। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেলাম যে, তাঁকে নিজের আবা’ দিয়ে ঘেরাও করে দিচ্ছেন। তারপর তিনি তাঁর উটের পাশে বসে হাঁটু সোজা করে রাখলেন, পরে সাফিয়্যাহ (রাযি.) তাঁর হাঁটুর উপর পা দিয়ে ভর করে আরোহণ করলেন।
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় | উপ-অধ্যায়: ইসতিবরা অর্থাৎ জরায়ু গর্ভমুক্ত কি-না তা অবগত হওয়ার আগে দাসীকে নিয়ে ভ্রমণে বের হওয়া যায় কিনা। | বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২২৩৬): জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায় অবস্থানকালে বলতে শুনেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল শরাব, মৃত জন্তু, শূকর ও মূর্তি কেনা-বেচা হারাম করে দিয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! মৃত জন্তুর চর্বি সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তা দিয়ে তো নৌকায় প্রলেপ দেয়া হয় এবং চামড়া তৈলাক্ত করা হয় আর লোকে তা দ্বারা চেরাগ জ্বালিয়ে থাকে। তিনি বললেন, না, তাও হারাম। তারপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদীদের বিনাশ করুন। আল্লাহ যখন তাদের জন্য মৃতের চর্বি হারাম করে দেন, তখন তারা তা গলিয়ে বিক্রি করে মূল্য ভোগ করে। আবূ আসিম (রহ.) ....... আতা (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-কে (হাদীসটি) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করতে শুনেছি।
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় | উপ-অধ্যায়: কুকুরের বিনিময়। | বর্ণনাকারী: আবূ মাসঊদ আনসারী (রাঃ)
হাদিস নং (২২৩৭): আবূ মাসঊদ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারের বিনিময় এবং গণকের পারিতোষিক (গ্রহণ করা) হতে নিষেধ করেছেন।
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় | উপ-অধ্যায়: কুকুরের বিনিময়। | বর্ণনাকারী: আউন ইবনু আবূ জুহায়ফাহ
হাদিস নং (২২৩৮): আউন ইবনু আবূ জুহায়ফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে দেখেছি যে, তিনি একটি শিঙ্গা লাগানেওয়ালা গোলাম কিনলেন। তিনি তার শিঙ্গা লাগানোর যন্ত্র ভেঙ্গে ফেলতে নির্দেশ দিলে তা ভেঙ্গে ফেলা হলে। আমি তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তের মূল্য, কুকুরের মূল্য, দাসীর (ব্যভিচারের মাধ্যমে) উপার্জন করা হতে বারণ করেছেন। আর তিনি শরীরে উল্কি অঙ্কনকারী ও উল্কি গ্রহণকারী, সুদগ্রহীতা ও সুদ দাতার উপর এবং (জীব জানোয়ারের) ছবি অঙ্কনকারীর উপর অভিসম্পাত করেছেন।
অধ্যায়: সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) | উপ-অধ্যায়: মাপ বা নির্দিষ্ট পরিমাপে অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (২২৩৯): ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাদ্বীনায় আগমন করেন তখন লোকেরা এক বা দু’ বছরের বাকীতে [রাবী ইসমাঈল সন্দেহ করে বলেন, দু’ অথবা তিন বছরের (মেয়াদে) খেজুর সলম (পদ্ধতিতে) বেচা-কেনা করত। এতে তিনি বললেন,] যে ব্যক্তি খেজুরে সলম করতে চায় সে যেন নির্দিষ্ট মাপে এবং নির্দিষ্ট ওজনে সলম করে। হাম্মাদ (রহ.) .... ইবনু আবূ নাজীহ (রহ.) হতে নির্দিষ্ট মাপে এবং নির্দিষ্ট ওজনে (সলম করার কথা) বর্ণিত রয়েছে।
অধ্যায়: সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) | উপ-অধ্যায়: নির্দিষ্ট ওজনে অগ্রিম বেচা-কেনা। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (২২৪০): ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদ্বীনায় আসেন তখন মদ্বীনাবাসী ফলে দু’ ও তিন বছরের মেয়াদে সলম করত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন ব্যক্তি সলম করলে সে যেন নির্দিষ্ট মাপে এবং নির্দিষ্ট ওজনে নির্দিষ্ট মেয়াদে সলম করে। আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) ....... ইবনু আবূ নাজীহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সে যেন নির্দিষ্ট মেয়াদে সলম করে।