তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

ফিল্টার
মোট: ৩৫০০
পৃষ্ঠা ২১১ / ৩৫০
ক্রয়-বিক্রয় আতর ও মিস্ক বিক্রেতাদের সম্পর্কে। আবূ মূসা (রাঃ)
২১০১ হাদিস নং
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ মিস্ক বিক্রেতা ও কর্মকারের হাপরের ন্যায়। আতর বিক্রেতাদের থেকে শূন্য হাতে ফিরে আসবে না। হয় তুমি আতর খরিদ করবে, না হয় তার সুঘ্রাণ পাবে। আর কর্মকারের হাপর হয় তোমার ঘর অথবা তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে, না হয় তুমি তার দুর্গন্ধ পাবে।
ক্রয়-বিক্রয় রক্ত মোক্ষমকারীদের প্রসঙ্গে। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
২১০২ হাদিস নং
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তায়বা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে শিঙ্গা লাগালেন তখন তিনি তাকে এক সা‘ পরিমাণ খেজুর দিতে আদেশ করলেন এবং তার মালিককে তার দৈনিক পারিশ্রমিকের হার কমিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন।
ক্রয়-বিক্রয় রক্ত মোক্ষমকারীদের প্রসঙ্গে। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
২১০৩ হাদিস নং
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙ্গা লাগালেন এবং যে তাঁকে শিঙ্গা লাগিয়েছে, তাকে তিনি মজুরী দিলেন। যদি তা হারাম হতো তবে তিনি তা দিতেন না।
ক্রয়-বিক্রয় যা পরিধান করা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য নিষিদ্ধ সেই জিনিষের ব্যবসা। আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
২১০৪ হাদিস নং
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট একটি রেশমী চাদর পাঠিয়ে দেন, পরে তিনি তা তাঁর গায়ে দেখতে পেয়ে বলেন, আমি তা তোমাকে এ জন্য দেইনি যে, তুমি তা পরিধান করবে। অবশ্য তা তারাই পরিধান করে, যার (আখিরাতে) কোন অংশ নেই। আমি তো তা তোমার কাছে এজন্য পাঠিয়েছি যে, তুমি তা দিয়ে উপকৃত হবে অর্থাৎ তা বিক্রি করবে।
ক্রয়-বিক্রয় যা পরিধান করা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য নিষিদ্ধ সেই জিনিষের ব্যবসা। উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ (রাযি.)
২১০৫ হাদিস নং
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, তিনি একটি ছবিওয়ালা বালিশ ক্রয় করেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখতে পেয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে গেলেন, ভিতরে প্রবেশ করলেন না। আমি তাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টি ভাব দেখতে পেলাম। তখন বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে তওবা করছি। আমি কী অপরাধ করেছি? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ বালিশের কী ব্যাপার? ‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, আমি বললাম, আমি এটি আপনার জন্য ক্রয় করেছি, যাতে আপনি টেক লাগিয়ে বসতে পারেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই ছবি তৈরীকারীদের কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে। তাদের বলা হবে, তোমরা যা তৈরী করেছিলে, তা জীবিত কর। তিনি আরো বলেন, যে ঘরে এ সব ছবি থাকে, সে ঘরে (রহমতের) ফেরেশতাগণ প্রবেশ করেন না।
ক্রয়-বিক্রয় দ্রব্যসামগ্রীর মালিক মুল্য বলার অধিক হকদার। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
২১০৬ হাদিস নং
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে বানূ নাজ্জার! আমাকে তোমাদের বাগানের মূল্য বল। বাগানটিতে ঘরের ভাঙা চুরা অংশ ও খেজুর গাছ ছিল।
ক্রয়-বিক্রয় (ক্রেতা-বিক্রেতার) ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করার ইখতিয়ার কতক্ষণ থাকবে? ইবনু ‘উমার (রাঃ)
২১০৭ হাদিস নং
ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হবে, ততক্ষণ তাদের বেচা-কেনার ব্যাপারে উভয়ের ইখতিয়ার থাকবে। আর যদি খিয়ারের শর্তে ক্রয়-বিক্রয় হয় (তাহলে পরেও ইখতিয়ার থাকবে)। নাফি‘ (রহ.) বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) কোন পণ্য ক্রয়ের পর তা পছন্দ হলে মালিক হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তেন।
ক্রয়-বিক্রয় (ক্রেতা-বিক্রেতার) ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করার ইখতিয়ার কতক্ষণ থাকবে? হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ)
২১০৮ হাদিস নং
হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যতক্ষণ ক্রেতা-বিক্রেতা বিচ্ছিন্ন না হবে ততক্ষণ তাদের খিয়ারের অধিকার থাকবে। وَزَادَ أَحْمَدُ حَدَّثَنَا بَهْزٌ قَالَ قَالَ هَمَّامٌ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لأَبِي التَّيَّاحِ فَقَالَ كُنْتُ مَعَ أَبِي الْخَلِيلِ لَمَّا حَدَّثَهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ الْحَارِثِ بِهَذَا الْحَدِيثِ আহমাদ (রহ.) বাহয (রহ.) সূত্রে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, হাম্মাম (রহ.) বলেন, আমি আবূ তাইয়্যাহ্ (রহ.)-কে এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বললেন, তখন আমি তার সাথে ছিলাম যখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু হারিস এই হাদীসটি আবূ খলীলকে বর্ণনা করেন।
ক্রয়-বিক্রয় ইখতিয়ারের সময়-সীমা নির্ধারণ না করলে ক্রয়-বিক্রয় কি বৈধ হবে? ইবনু ‘উমার (রাঃ)
২১০৯ হাদিস নং
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের খিয়ার থাকবে অথবা একপক্ষ অপর পক্ষকে বলবে, গ্রহণ করে নাও। রাবী কখনো বলেছেনঃ অথবা গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের শর্তে ক্রয়-বিক্রয় হলো।
ক্রয়-বিক্রয় ক্রেতা-বিক্রেতা বেচা-কেনা বাতিল করার ইখতিয়ার ততক্ষণ পর্যন্ত থাকে যতক্ষণ না তারা পরস্পর পৃথক হয়। হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ)
২১১০ হাদিস নং
হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতা (একে অপরের সাথে) বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের উভয়ের ইখতিয়ার থাকবে। যদি তারা উভয়ে সত্য কথা বলে ও (পণ্যের দোষ-ত্রুটি) যথাযথ বর্ণনা করে তবে তাদের কেনা বেচায় বরকত হবে, আর যদি তারা মিথ্যা বলে ও (ত্রুটি) গোপন করে, তবে তাদের কেনা বেচার বরকত নষ্ট হয়ে যাবে।