অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: তীরের ফলক নির্মাতা ও কর্মকারের সম্পর্কে বর্ণনা। |
বর্ণনাকারী: খাব্বাব (রাঃ)
হাদিস নং (২০৯১):
খাব্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলীয়্যাতের যুগে আমি কর্মকারের পেশায় ছিলাম। ‘আস ইবনু ওয়াইলের কাছে কিছু পাওনা ছিল আমি তার কাছে তাগাদা করতে গেলে সে বলল, যতক্ষণ তুমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অস্বীকার না করবে ততক্ষণ আমি তোমাকে তোমার পাওনা দিব না। আমি বললাম, আল্লাহ তোমাকে মৃত্যু দিয়ে তারপর তোমাকে পুনরুত্থিত করা পর্যন্ত আমি তাঁকে অস্বীকার করব না। সে বলল, আমি মরে পুনরুত্থিত হওয়া পর্যন্ত আমাকে অব্যাহতি দাও। শীগ্গীরই আমাকে সম্পদ ও সন্তান দেয়া হবে, তখন আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করব। এ প্রসঙ্গে এ আয়াত নাযিল হলঃ ‘‘তুমি কি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবেই’’- (মারইয়াম ৭৭-৭৮)।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: দরজীদের সম্পর্কে বর্ণনা। |
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (২০৯২):
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক দরজী খাবার তৈরী করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দাওয়াত করলেন। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে রুটি এবং ঝোল যাতে লাউ ও মাংসের টুকরা ছিল, পেশ করলেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেলাম যে, পেয়ালার কিনারা হতে তিনি লাউয়ের টুকরা খোঁজ করে নিচ্ছেন। সেদিন হতে আমি সব সময় লাউ ভালবাসতে থাকি।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: তাঁতী সম্পর্কে বর্ণনা। |
বর্ণনাকারী: সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ)
হাদিস নং (২০৯৩):
সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা একটি বুরদা আনলেন। [সাহল (রাঃ)] বললেন, তোমরা জান বুরদা কী? তাকে বলা হয়, হ্যাঁ, তা হল এমন চাদর, যার পাড় বুনানো। মহিলা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে পরিধান করানোর জন্য আমি এটি নিজ হাতে বুনে নিয়ে এসেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহণ করলেন এবং তাঁর এটির প্রয়োজন ছিল। তারপর তিনি তা তহবন্দরূপে পরিধান করে আমাদের সামনে এলেন। উপস্থিত লোকজনের মধ্যে একজন বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তা আমাকে পরিধান করতে দিন। তিনি বললেন, আচ্ছা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ মজলিসে বসে পরে ফিরে গেলেন। তারপর চাদরটি ভাঁজ করে সে লোকটির কাছে পাঠিয়ে দিলেন। লোকজন সে ব্যক্তিকে বললেন, তুমি ভাল করনি, তুমি তাঁর কাছে চাদরটি চেয়ে ফেললে, অথচ তুমি জান যে, তিনি কোন যাচ্ঞাকারীকে ফিরিয়ে দেন না। সে লোকটি বললেন, আল্লাহর কসম, আমি চাদরটি এ জন্যই চেয়েছি যে, তা যাতে আমার মৃত্যুর পর আমার কাফন হয়। রাবী সাহল (রাঃ) বলেন, সেটি তার কাফন হয়েছিল।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: কাঠমিস্ত্রিদের সম্পর্কে। |
বর্ণনাকারী: আবু হাজিম (রাঃ)
হাদিস নং (২০৯৪):
আবূ হাযিম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিছু লোক সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ)-এর কাছে এসে মিম্বরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন (আনসারী) মহিলা- সাহল (রাঃ) যার নাম উল্লেখ করেছিলেন- তার কাছে তিনি সংবাদ পাঠালেন যে, তোমার সূত্রধর গোলামকে বল, সে যেন আমার জন্য কাঠ দিয়ে একটি (মিম্বর) তৈরী করে দেয়। লোকদের সাথে কথা বলার সময় যার উপর আমি বসতে পারি। সে মহিলা তাকে গাবা নামক স্থানের কাঠ দিয়ে মিম্বর বানানোর নির্দেশ দিলেন। তারপর গোলামটি তা নিয়ে এল এবং সে মহিলা এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তাঁর নির্দেশত্রুমে তা স্থাপন করা হল, পরে তার উপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপবেশন করলেন।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: কাঠমিস্ত্রিদের সম্পর্কে। |
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২০৯৫):
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একজন আনসারী মহিলা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার জন্য এমন একটি জিনিস বানিয়ে দিব না, যার উপর আপনি বসবেন? কেননা, আমার একজন কাঠমিস্ত্রি গোলাম আছে। তিনি বললেন, যদি তুমি তা চাও। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর সে মহিলা তাঁর জন্য মিম্বার তৈরী করলেন। যখন জুমু‘আর দিন হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই তৈরী মিম্বারের উপরে বসলেন। সে সময় যে খেজুর গাছের কান্ডের উপর ভর দিয়ে তিনি খুতবা দিতেন, সেটি এমনভাবে চীৎকার করে উঠল, যেন তা ফেটে পড়বে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেমে এসে তাকে নিজের সঙ্গে জড়িয়ে ধরলেন। তখন সেটি ফোঁপাতে লাগল, যেমন ছোট শিশুকে চুপ করানোর সময় ফোঁপায়।[1] অবশেষে তা স্থির হয়ে গেল। (রাবী বলেন) খেজুর কান্ডটি যে যিক্র-নসীহত শুনত, তা হারানোর কারণে কেঁদেছিল।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: ইমাম বা রাষ্ট্রের প্রধান কর্তৃক প্রয়োজনীয় বস্তু নিজেই ক্রয় করা। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাযি.)
হাদিস নং (২০৯৬):
আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ইয়াহূদী হতে বাকীতে খাদ্য ক্রয় করেন এবং নিজের লৌহ বর্ম তার কাছে বন্ধক রাখেন।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: চতুষ্পদ জন্তু ও গর্দভ ক্রয় করা। |
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২০৯৭):
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম। আমার উটটি অত্যন্ত ধীরে চলছিল বরং চলতে অক্ষম হয়ে পড়েছিল। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন এবং বললেন, জাবির? আমি বললাম, জী। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার অবস্থা কী? আমি বললাম, আমার উট আমাকে নিয়ে অত্যন্ত ধীরে চলছে এবং অক্ষম হয়ে পড়ছে। ফলে আমি পিছনে পড়ে গেছি। তখন তিনি নেমে চাবুক দিয়ে উটটিকে আঘাত করতে লাগলেন। তারপর বললেন, এবার আরোহণ কর। আমি আরোহণ করলাম। এরপর অবশ্য আমি উটটিকে এমন পেলাম যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অগ্রসর হওয়ায় বাধা দিতে হয়েছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি বিবাহ করেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, কুমারী না বিবাহিতা? আমি বললাম, বিবাহিতা। তিনি বললেন, তরুণী বিবাহ করলে না কেন? তুমি তার সাথে হাসি-তামাসা এবং সে তোমার সাথে পূর্ণভাবে হাঁসি-তামাসা করত। আমি বললাম, আমার কয়েকটি বোন রয়েছে, ফলে আমি এমন এক মহিলাকে বিবাহ করতে পছন্দ করলাম, যে তাদেরকে মিল-মহববতে রাখতে, তাদের পরিচর্যা করতে এবং তাদের উপর উত্তমরূপে কর্তৃত্ব করতে সক্ষম হয়। তিনি বললেন, শোন! তুমি তো বাড়ীতে পৌঁছবে? যখন তুমি পৌঁছবে তখন তুমি বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেবে। তিনি বললেন, তোমার উটটি বিক্রি করবে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তা এক উকীয়ার বিনিময়ে আমার নিকট হতে কিনে নিলেন। তারপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার আগে (মদ্বীনায়) পৌঁছলেন এবং আমি (পরের দিন) ভোরে পৌঁছলাম। আমি মসজিদে নাববীতে গিয়ে তাঁকে দরজার সামনে পেলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এখন এলে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তোমার উটটি রাখ এবং মসজিদে প্রবেশ করে দু’রাক‘আত সালাত আদায় কর। আমি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করলাম। তারপর তিনি বিলাল (রাঃ)-কে উকীয়া ওজন করে আমাকে দিতে বললেন। বিলাল (রাঃ) ওজন করে দিলেন এবং আমার পক্ষে ঝুঁকিয়ে দিলেন। আমি রওয়ানা হলাম। যখন আমি পিছনে ফিরেছি তখন তিনি বললেন, জাবিরকে আমার কাছে ডাক। আমি ভাবলাম, এখন হয়তো উটটি আমাকে ফিরিয়ে দেবেন। আর আমার নিকট এর চেয়ে অপছন্দনীয় আর কিছুই ছিল না। তিনি বললেন, তোমার উটটি নিয়ে যাও এবং তার দামও তোমার।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: জাহিলী যুগের বাজার যেখানে লোকেরা ক্রয়-বিক্রয় করেছে এরপর ইসলামী যুগে সেগুলোতে লোকেদের ক্রয়-বিক্রয় করা। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (২০৯৮):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, উকায, মাজান্না ও যুল-মাজায জাহিলী যুগের বাজার ছিল, ইসলামের আবির্ভাবের পরে লোকেরা তথায় ব্যবসা করা গুনাহের কাজ মনে করল। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেনঃ তোমাদের উপর কোন গুনাহ নাই ....... (অর্থাৎ) হাজ্জের মওসুমে। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এরূপ পড়েছেন।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: তৃষ্ণা কাতর অথবা চর্মরোগে আক্রান্ত উটের ক্রয়-বিক্রয় করা। |
বর্ণনাকারী: আমর (ইবনু দ্বীনার) (রহ.)
হাদিস নং (২০৯৯):
আমর (ইবনু দ্বীনার) (রহ.) বলেন, এখানে নাওওয়াস নামক এক ব্যক্তি ছিল। তার নিকট অতি পিপাসা রোগে আক্রান্ত একটি উট ছিল। ইবনু ’উমার (রাঃ) তার শরীকের কাছ হতে সে উটটি কিনে নেন। পরে তার শরীক তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, সে উটটি বিক্রি করে দিয়েছি। নাওওয়াস জিজ্ঞেস করলেন, কার কাছে বিক্রি করেছ? সে বলল, এমন আকৃতির এক বৃদ্ধের কাছে। নাওওয়াস বলে উঠলেন, আরে কি সর্বনাশ! তিনি তো আল্লাহর কসম ইবনু ’উমার (রাঃ) ছিলেন। এরপর নাওওয়াস তাঁর নিকট এলেন এবং বললেন, আমার শরীক আপনাকে চিনতে না পেরে আপনার কাছে একটি পিপাসাক্রান্ত উট বিক্রি করেছে। তিনি বললেন, তবে উটটি নিয়ে যাও। সে যখন উটটি নিয়ে যেতে উদ্যত হলো, তখন তিনি বললেন, রেখে দাও। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ফায়সালায় সন্তুষ্ট যে, রোগে কোন সংক্রমণ নেই। সুফয়ান (রহ.) ’আমর (রহ.) হতে উক্ত হাদীসটি শুনেছেন।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: ফিতনার (গোলযোগপূর্ণ) সময় বা অন্য সময়ে অস্ত্র বিক্রি। |
বর্ণনাকারী: আবূ কাতাদাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২১০০):
আবূ কাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে হুনাইনের যুদ্ধে গমন করেছিলাম। তখন তিনি আমাকে একটি বর্ম দিয়েছিলেন। আমি সেটি বিক্রয় করে তার মূল্য দ্বারা বণূ সালিমা গোত্রের এলাকায় একটি বাগান ক্রয় করি। এ ছিল ইসলাম গ্রহণের পর আমার প্রথম স্থাবর সম্পত্তি অর্জন।
|