অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: গোশত বিক্রেতা ও কসাই সম্পর্কিত বিবরণ |
বর্ণনাকারী: আবূ মাস’ঊদ (রাঃ)
হাদিস নং (২০৮১):
আবূ মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ শু’আইব নামক জনৈক আনসারী এসে তার কসাই গোলামকে বললেন, পাঁচ জনের উপযোগী খাবার তৈরী কর। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -সহ পাঁচজনকে দাওয়াত করতে যাই। তাঁর চেহারায় আমি ক্ষুধার চিহ্ন দেখতে পেয়েছি। তারপর সে লোক এসে দাওয়াত দিলেন। তাদের সঙ্গে আরেকজন অতিরিক্ত এলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ আমাদের সঙ্গে এসেছে, তুমি ইচ্ছা করলে একে অনুমতি দিতে পার আর তুমি যদি চাও সে ফিরে যাক, তবে সে ফিরে যাবে। সাহাবী বললেন, না, বরং আমি তাকে অনুমতি দিলাম।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: মিথ্যা বলা ও দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখায় ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত মুছে যায়। |
বর্ণনাকারী: হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ)
হাদিস নং (২০৮২):
হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হবে ততক্ষণ ক্রেতা-বিক্রেতার ইখতিয়ার থাকবে। যদি তারা সত্য বলে ও যথাযথ অবস্থা বর্ণনা করে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে, আর যদি পণ্যের প্রকৃত অবস্থা গোপন করে ও মিথ্যা বলে তবে ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত চলে যাবে।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২০৮৩):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের উপর এমন এক যুগ অবশ্যই আসবে যখন মানুষ পরোয়া করবে না যে কিভাবে সে মাল অর্জন করল হালাল উপায়ে না হারাম উপায়ে।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: সুদ গ্রহীতা, তার সাক্ষ্যদাতা ও তার লেখক। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাযি.)
হাদিস নং (২০৮৪):
আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সূরা আল-বাকারার শেষ আয়াতগুলো নাযিল হল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা মসজিদে পড়ে শোনালেন। তারপর মদের ব্যবসা হারাম বলে ঘোষণা করেন।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: সুদ গ্রহীতা, তার সাক্ষ্যদাতা ও তার লেখক। |
বর্ণনাকারী: সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ)
হাদিস নং (২০৮৫):
সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আজ রাত্রে আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, দু’ব্যক্তি আমার নিকট আগমন করে আমাকে এক পবিত্র ভূমিতে নিয়ে গেল। আমরা চলতে চলতে এক রক্তের নদীর কাছে পৌঁছলাম। নদীর মধ্যস্থলে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে এবং আরেক ব্যক্তি নদীর তীরে, তার সামনে পাথর পড়ে রয়েছে। নদীর মাঝখানে লোকটি যখন বের হয়ে আসতে চায় তখন তীরের লোকটি তার মুখে পাথর খন্ড নিক্ষেপ করে তাকে স্বস্থানে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এভাবে যতবার সে বেরিয়ে আসতে চায় ততবারই তার মুখে পাথর নিক্ষেপ করছে আর সে স্বস্থানে ফিরে যাচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কে? সে বলল, যাকে আপনি (রক্তের) নদীতে দেখেছেন, সে হল সুদখোর।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: জাহিলী যুগের বাজার যেখানে লোকেরা ক্রয়-বিক্রয় করেছে এরপর ইসলামী যুগে সেগুলোতে লোকেদের ক্রয়-বিক্রয় করা। |
বর্ণনাকারী: আওন ইবনু আবূ জুহাইফা (রহ.)
হাদিস নং (২০৮৬):
আওন ইবনু আবূ জুহাইফা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতাকে দেখেছি, তিনি এক গোলাম খরিদ করেন যে শিঙ্গা লাগানোর কাজ করত। তিনি তার শিঙ্গার যন্ত্রপাতি সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন এবং তা ভেঙ্গে ফেলা হল। আমি এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য এবং রক্তের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন [1], আর দেহে দাগ দেয়া ও নেয়া হতে নিষেধ করেছেন। সুদ খাওয়া ও খাওয়ানো নিষেধ করেছেন আর ছবি অঙ্কণকারীর উপর লা‘নত করেছেন।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: (আল্লাহ তা‘আলার বাণী)ঃ আল্লাহ সুদকে ধ্বংস করেন এবং যাকাতে ক্রমবৃদ্ধি প্রদান করেন। আল্লাহ কোন অকৃতজ্ঞ অপরাধীকে পছন্দ করেন না। (আল-বাকারাঃ ২৭৬) |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২০৮৭):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, মিথ্যা কসম পণ্য চালু করে দেয় বটে, কিন্তু বরকত নিশ্চিহ্ন করে দেয়।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয়ে শপথ করা অপছন্দনীয়। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আবূ ‘আওফা (রাঃ)
হাদিস নং (২০৮৮):
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ ‘আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বাজারে পণ্য আমদানী করে আল্লাহর নামে কসম খেল যে, এর এত দাম বলা হয়েছে; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা কেউ বলেনি। এতে তার উদ্দেশ্য সে যেন কোন মুসলিমকে পণ্যের ব্যাপারে ধোঁকায় ফেলতে পারে। এ প্রসঙ্গে আয়াত অবতীর্ণ হয়, ‘‘যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে’’- (আলে ‘ইমরান ৭৭)।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: স্বর্ণকারদের ব্যাপারে যা বলা হয়েছে। |
বর্ণনাকারী: হুসাইন ইবনু আলী (রাঃ)
হাদিস নং (২০৮৯):
হুসাইন ইবনু ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন, ‘আলী (রাঃ) বলেছেন, (বদর যুদ্ধের) গনীমতের মাল হতে আমার অংশের একটি উটনী ছিল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুমুস্ হতে একটি উটনী আমাকে দান করলেন। যখন আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যা ফাতিমাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে বাসর রাত যাপনের ইচ্ছা করলাম সে সময় আমি কায়নুকা গোত্রের একজন স্বর্ণকারের সাথে এই চুক্তি করেছিলাম যে, সে আমার সঙ্গে (জঙ্গলে) যাবে এবং ইযখির ঘাস বহন করে আনবে এবং তা স্বর্ণকারদের নিকট বিক্রি করে তার মূল্য দ্বারা আমার বিবাহের ওয়ালীমার ব্যবস্থা করব।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: স্বর্ণকারদের ব্যাপারে যা বলা হয়েছে। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (২০৯০):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কা্ বিজয়ের দিন) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা মক্কা্য় (রক্তপাত) হারাম করে দিয়েছেন। আমার আগেও কারো জন্য মক্কা্ হালাল করা হয়নি এবং আমার পরেও কারো জন্য হালাল করা হবে না। আমার জন্য শুধুমাত্র দিনের কিছু অংশে মক্কা্য় (রক্তপাত) হালাল হয়েছিল।[1] মক্কার কোন ঘাস কাটা যাবে না, কোন গাছ কাটা যাবে না। কোন শিকারকে তাড়ানো যাবে না। ঘোষণাকারী ব্যতীত কেউ মক্কার জমিনে পড়ে থাকা মাল উঠাতে পারবে না। ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) বললেন, কিন্তু ইযখির ঘাস, যা আমাদের স্বর্ণকারদের ও আমাদের ঘরের ছাদের জন্য ব্যবহৃত তা ব্যতীত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইযখির ঘাস ব্যতীত। রাবী ইকরাম (রহ.) বলেন, তুমি জানো শিকার তাড়ানোর অর্থ কী? তা হল, ছায়ায় অবস্থিত শিকারকে তাড়িয়ে তার স্থানে নিজে বসা। ‘আবদুল ওয়াহহাব (রহ.) সূত্রে বলেছেন, আমাদের স্বর্ণকারদের জন্য ও আমাদের কবরের জন্য।
|