অধ্যায়: ই‘তিকাফ |
উপ-অধ্যায়: শাওয়াল মাসে ই‘তিকাফ করা। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (২০৪১):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রমাযানে ই‘তিকাফ করতেন। ফজরের সালাত শেষে ই‘তিকাফের নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশ করতেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) তাঁর কাছে ই‘তিকাফ করার অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দিলেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) মসজিদে (নিজের জন্য) একটি তাঁবু করে নিলেন। হাফসাহ (রাযি.) তা শুনে (নিজের জন্য) একটি তাঁবু তৈরি করে নিলেন এবং যায়নাব (রাযি.)-ও তা শুনে (নিজের জন্য) আর একটি তাঁবু তৈরি করে নিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত শেষে এসে চারটি তাঁবু দেখতে পেয়ে বললেনঃ একী? তাঁকে তাঁদের ব্যাপার জানানো হলে, তিনি বললেনঃ নেক আমলের প্রেরণা তাদেরকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করেনি। সব খুলে ফেলা হল। তিনি সেই রমাযানে আর ই‘তিকাফ করলেন না। পরে শাওয়াল মাসের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করেন।
|
অধ্যায়: ই‘তিকাফ |
উপ-অধ্যায়: যিনি ই‘তিকাফকারীর জন্য রোযা রাখা আবশ্যক মনে করেন না। |
বর্ণনাকারী: উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)
হাদিস নং (২০৪২):
উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জাহিলিয়্যাতের যুগে মসজিদে হারামে এক রাত ই‘তিকাফ করার মানৎ করেছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ তোমার মানৎ পুরা কর। তিনি এক রাতের ই‘তিকাফ করলেন।
|
অধ্যায়: ই‘তিকাফ |
উপ-অধ্যায়: জাহিলিয়্যাতের যুগে ই‘তিকাফ করার নযর মেনে পরে ইসলাম গ্রহণ করা। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (২০৪৩):
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) জাহিলিয়্যাতের যুগে মসজিদে হারামে ই‘তিকাফ করার মানত করেছিলেন। (বর্ণনাকারী) বলেন, আমার মনে হয় তিনি এক রাতের কথা উল্লেখ করেছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ তোমার মানৎ পুরা কর।
|
অধ্যায়: ই‘তিকাফ |
উপ-অধ্যায়: রমাযানের মধ্যম দশকে ই‘তিকাফ করা। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২০৪৪):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রমাযানে দশ দিনের ই‘তিকাফ করতেন। যে বছর তিনি ইন্তিকাল করেন সে বছর তিনি বিশ দিনের ইতিকাফ করেছিলেন।
|
অধ্যায়: ই‘তিকাফ |
উপ-অধ্যায়: ই‘তিকাফ করার সংকল্প করে পরে কোন কারণবশতঃ তা হতে বেরিয়ে যাওয়া। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (২০৪৫):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করার ইচ্ছ প্রকাশ করলে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) তাঁর কাছে ই‘তিকাফ করার অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। এরপর হাফসাহ্ (রাযি.) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর নিকট অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। তা দেখে যায়নাব বিনতু জাহশ (রাঃ) নিজের জন্য তাঁবু লাগানোর নির্দেশ দিলে তা পালন করা হল। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করে নিজের তাঁবুতে ফিরে এসে কয়েকটি তাঁবু দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেনঃ এ কী ব্যাপার? লোকেরা বলল, ‘আয়িশাহ্, হাফসাহ্ ও যায়নাব (রাযি.)-এর তাঁবু। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা কি নেকী পেতে চায়? আমি আর ই‘তিকাফ করবো না। এরপর তিনি ফিরে আসলেন। পরে সওম শেষ করে শাওয়াল মাসের দশ দিন ই‘তিকাফ করেন।
|
অধ্যায়: ই‘তিকাফ |
উপ-অধ্যায়: ই‘তিকাফরত ব্যক্তি মাথা ধোয়ার নিমিত্তে তার মাথা ঘরে প্রবেশ করানো। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (২০৪৬):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি ঋতুমতী অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চুল আঁচড়িয়ে দিতেন। ঐ সময়ে তিনি মসজিদে ই‘তিকাফ অবস্থায় থাকতেন আর ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) তাঁর হুজরায় অবস্থান করতেন। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর দিকে তাঁর মাথা বাড়িয়ে দিতেন।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ তা‘আলার এ বাণী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে (ইরশাদ করেছেন) |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২০৪৭):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা বলে থাক, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বেশি বেশি হাদীস বর্ণনা করে থাকে এবং আরো বলেন, মুহাজির ও আনসারদের কী হলো যে, তারা তো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাদীস বর্ণনা করে না? আমার মুহাজির ভাইয়েরা বাজারে ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যস্ত থাকত আর আমি কোন প্রকারে আমার পেটের চাহিদা মিটিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকটে পড়ে থাকতাম। তাঁরা যখন অনুপস্থিত থাকত আমি তখন উপস্থিত থাকতাম। তাঁরা যা ভুলে যেত আমি তা মুখস্থ করতাম। আর আমার আনসার ভাইয়েরা নিজেদের ক্ষেত-খামারের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। আমি ছিলাম সুফ্ফার মিসকীনদের একজন মিসকীন। তাঁরা যা ভুলে যেতো, আমি তা মুখস্থ রাখতাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এক বর্ণনায় বললেন, আমার এ কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যে কেউ তার কাপড় বিছিয়ে দিবে এবং পরে নিজের শরীরের সাথে তার কাপড় জড়িয়ে নেবে, আমি যা বলছি সে তা স্মরণ রাখতে পারবে। [আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন] আমি আমার গায়ের চাদরখানা বিছিয়ে দিলাম যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা শেষ করলেন, পরে আমি তা আমার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলাম। ফলে আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সে কথার কিছুই ভুলে যাইনি।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ তা‘আলার এ বাণী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে (ইরশাদ করেছেন) |
বর্ণনাকারী: আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ)
হাদিস নং (২০৪৮):
আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন মদ্বীনায় আসি, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার এবং সা‘দ ইবনু রাবী‘ (রাঃ)-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সৃষ্টি করে দেন। পরে সা‘দ ইবনু রাবী‘ বললেন, আমি আনসারদের মধ্যে অধিক ধনাঢ্য ছিলাম। আমার অর্ধেক সম্পত্তি তোমাকে বণ্টন করে দিচ্ছি এবং আমার উভয় স্ত্রীকে দেখে যাকে তোমার পছন্দ হয়, বল আমি তাকে তোমার জন্য পরিত্যাগ করব। যখন সে (ইদ্দত পূর্ণ করবে) তখন তুমি বিবাহ করবে। আবদুর রহমান (রাঃ) বললেন, এ সবে আমার কোন প্রয়োজন নেই। বরং (আপনি বলুন) ব্যবসা-বাণিজ্য করার মতো কোন বাজার আছে কি? তিনি বললেন, কায়নুকার বাজার আছে। পরদিন ‘আবদুর রহমান (রাঃ) সে বাজারে গিয়ে পনীর ও ঘি (খরিদ করে) নিয়ে আসলেন। এরপর ক্রমাগত যাওয়া-আসা করতে থাকেন। কিছুকাল পরে ‘আবদুর রহমান (রাঃ)-এর কাপড়ে বিয়ের হলুদ রঙের চিহ্ন দেখা গেল। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি বিবাহ করেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সে কে? তিনি বললেন, জনৈকা আনসারী মহিলা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কী পরিমাণ মাহর দিয়েছ? ‘আবদুর রহমান (রাঃ) বললেন, খেজুরের এক আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমা কর।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ তা‘আলার এ বাণী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে (ইরশাদ করেছেন) |
বর্ণনাকারী: আনাস (রাঃ)
হাদিস নং (২০৪৯):
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) মদ্বীনায় আগমন করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও সা‘দ ইবনু রাবী‘ আনসারীর মাঝে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন করে দেন। সা‘দ (রাঃ) ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ‘আবদুর রহমান (রাঃ)-কে বললেন, আমি তোমার উদ্দেশে আমার সম্পত্তি অর্ধেক অর্ধেক ভাগ করে নিতে চাই এবং তোমাকে বিবাহ করিয়ে দিতে চাই। তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা তোমার পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন। আমাকে বাজার দেখিয়ে দাও। তিনি বাজার হতে মুনাফা করে নিয়ে আসলেন পনীর ও ঘি। এভাবে কিছুকাল কাটালেন। একদিন তিনি এভাবে আসলেন যে, তাঁর গায়ে বিয়ের হলুদ রংয়ের চিহ্ন লেগে আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জনৈকা আনসারী মহিলাকে বিবাহ করেছি। তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তাকে কী দিয়েছ? তিনি বললেন, খেজুরের এক আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ। তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] বললেন, একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমা কর।
|
অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয় |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ তা‘আলার এ বাণী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে (ইরশাদ করেছেন) |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (২০৫০):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উকায, মাজিন্না ও যুল-মাজায জাহিলীয়্যাতের যুগে বাজার ছিল। ইসলামের আগমনের পরে লোকেরা ঐ সমস্ত বাজারে যেতে গুনাহ মনে করতে লাগল। ফলে অবতীর্ণ হলঃ ‘‘তোমাদের প্রভুর অনুগ্রহ তালাশে তোমাদের কোন গুনাহ নেই’’- (আল-বাকারা ১৯৮)। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) (আয়াতের সঙ্গে) হাজ্জের মওসুমে কথাটুকুও পড়লেন।
|