তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: ই‘তিকাফ | উপ-অধ্যায়: ই‘তিকাফকারীর গোসল করা। | বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
হাদিস নং (২০৩১): এবং তিনি ই‘তিকাফরত অবস্থায় মাসজিদ হতে তাঁর মাথা বের করে দিতেন, আমি ঋতুমতী অবস্থায় তা ধুয়ে দিতাম।
অধ্যায়: ই‘তিকাফ | উপ-অধ্যায়: রাত্রিকালে ই‘তিকাফ করা। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (২০৩২): ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত যে, ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করেন যে, আমি জাহিলিয়্যা যুগে মাসজিদুল হারামে এক রাত ই‘তিকাফ করার মানৎ করেছিলাম। তিনি (উত্তরে) বললেনঃ তোমার মানৎ পুরা কর।
অধ্যায়: ই‘তিকাফ | উপ-অধ্যায়: মহিলাগণের ই‘তিকাফ করা। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (২০৩৩): আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমাযানের শেষ দশকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই‘তিকাফ করতেন। আমি তাঁর তাঁবু তৈরি করে দিতাম। তিনি ফজরের সালাত আদায় করে তাতে প্রবেশ করতেন। (নবী-সহধর্মিণী) হাফসাহ্ (রাযি.) তাঁবু খাটাবার জন্য ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর কাছে অনুমতি চাইলেন। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলে হাফসাহ্ (রাযি.) তাঁবু খাটালেন। (নবী-সহধর্মিনী) যায়নাব বিনতু জাহশ (রাযি.) তা দেখে আরেকটি তাঁবু তৈরি করলেন। সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁবুগুলো দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এগুলো কী? তাঁকে জানানো হলে তিনি বললেনঃ তোমরা কি মনে কর এগুলো দিয়ে নেকী হাসিল হবে? এ মাসে তিনি ই‘তিকাফ ত্যাগ করলেন এবং পরে শাওয়াল মাসে দশ দিন (কাযা স্বরূপ) ই‘তিকাফ করেন।
অধ্যায়: ই‘তিকাফ | উপ-অধ্যায়: মসজিদের ভেতরে তাঁবু খাটানো। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (২০৩৪): ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই‘তিকাফ করার ইচ্ছা করলেন। এরপর যে স্থানে ই‘তিকাফ করার ইচ্ছা করেছিলেন সেখানে এসে কয়েকটি তাঁবু দেখতে পেলেন। (তাঁবুগুলো হল নবী-সহধর্মিণী) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.), হাফসাহ্ (রাযি.) ও যায়নাব (রাযি.)-এর তাঁবু। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা কি এগুলো দিয়ে নেকী হাসিলের ধারণা কর? এরপর তিনি চলে গেলেন আর ই‘তিকাফ করলেন না। পরে শাওয়াল মাসে দশ দিনের ই‘তিকাফ করলেন।
অধ্যায়: ই‘তিকাফ | উপ-অধ্যায়: প্রয়োজনবশতঃ ই‘তিকাফরত ব্যক্তি কি মসজিদের দরজা পর্যন্ত বের হতে পারেন? | বর্ণনাকারী: সফীয়্যাহ (রাযি.)
হাদিস নং (২০৩৫): নবী-সহধর্মিণী সফীয়্যাহ (রাযি.) বর্ণনা করেন যে, একদা তিনি রমাযানের শেষ দশকে মসজিদে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে উপস্থিত হন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই‘তিকাফরত ছিলেন। সাফিয়্যাহ তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলেন। অতঃপর ফিরে যাবার জন্য উঠে দাঁড়ান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশে উঠে দাঁড়ালেন। যখন তিনি (উম্মুল মু’মিনীন) উম্মু সালামাহ (রাযি.)-এর গৃহ সংলগ্ন মসজিদের দরজা পর্যন্ত পৌঁছলেন, তখন দু’জন আনসারী সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁরা উভয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাম করলেন। তাঁদের দু’জনকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা দু’জন থাম। ইনি তো (আমার স্ত্রী সাফিয়্যাহ বিনতু হুয়ায়্যী (রাযি.)। এতে তাঁরা দু’জনে ‘সুবহানাল্লাহ হে আল্লাহর রাসূল’ বলে উঠলেন এবং তাঁরা বিব্রত বোধ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ শয়তান মানুষের রক্তের শিরায় চলাচল করে। আমি ভয় করলাম যে, সে তোমাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করতে পারে।
অধ্যায়: ই‘তিকাফ | উপ-অধ্যায়: ই‘তিকাফ এবং নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক (রমাযানের) বিশ তারিখ সকালে বেরিয়ে আসা। | বর্ণনাকারী: আবূ সালামা ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রহ.)
হাদিস নং (২০৩৬): আবূ সালামা ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে লাইলাতুল কাদর প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ, আমরা রমাযানের মধ্যম দশকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ই‘তিকাফ করেছিলাম। রাবী বলেন, এরপর আমরা বিশ তারিখের সকালে বের হতে চাইলাম। তিনি বিশ তারিখের সকালে আমাদেরকে সম্বোধন করে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন আমাকে (স্বপ্নযোগে) লাইলাতুল কদর [ক্বদর] (-এর নির্দিষ্ট তারিখ) দেখানো হয়েছিল। পরে আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা শেষ দশকের বেজোড় তারিখে তা খোঁজ কর। আমি দেখেছি যে, আমি পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা করছি। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ই‘তিকাফ করেছে সে যেন ফিরে আসে (বের হওয়া হতে বিরত থাকে)। লোকেরা মসজিদে ফিরে এল। আমরা তখন আকাশে এক খন্ড মেঘও দেখতে পাইনি। একটু পরে এক খন্ড মেঘ দেখা দিল ও বর্ষণ হল এবং সালাত শুরু হল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাদা-পানির মাঝে সিজদা করলেন। এমনকি আমি তাঁর কপালে ও নাকে কাদার চিহ্ন দেখতে পেলাম।
অধ্যায়: ই‘তিকাফ | উপ-অধ্যায়: মুস্তাহাযা নারীর ই‘তিকাফ করা। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (২০৩৭): আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে তাঁর এক মুস্তাহাযা সহধর্মিণী ই‘তিকাফ করেন। তিনি লাল ও হলুদ রংয়ের স্রাব নির্গত হতে দেখতে পেতেন। অনেক সময় আমরা তাঁর নীচে একটি গামলা রেখে দিতাম আর তিনি তার উপর সালাত আদায় করতেন।
অধ্যায়: ই‘তিকাফ | উপ-অধ্যায়: ই‘তিকাফরত স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর দেখা করা। | বর্ণনাকারী: আলী ইবনু হুসাইন (রাঃ)
হাদিস নং (২০৩৮): আলী ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহধর্মিণী সাফিয়্যাহ (রাযি.) বর্ণনা করেন, নবী (ই‘তিকাফ অবস্থায়) মসজিদে অবস্থান করছিলেন, ঐ সময় তাঁর নিকট তাঁর সহধর্মিণীগণ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা যাওয়ার জন্য রওয়ানা হন। তিনি (আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়ায়্যীকে বললেনঃ তুমি তাড়াতাড়ি করো না। আমি তোমার সাথে যাব। তাঁর [সাফিয়্যাহ (রাযি.)]-এর ঘর ছিল উসামার বাড়িতে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সঙ্গে করে বের হলেন। এমতাবস্থায় দু’জন আনসার ব্যক্তির সাক্ষাৎ ঘটলে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেয়ে (দ্রুত) আগে বেড়ে গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দু’জনকে বললেনঃ তোমরা এদিকে আস। এতো সাফিয়্যাহ বিন্তু হুয়ায়্যী। তাঁরা দু’জন বলে উঠলেন, সুবহানাল্লাহ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ শয়তান মানুষের শরীরে রক্তের মত চলাচল করে। আমি আশঙ্কা করলাম যে, সে তোমাদের মনে কিছু সন্দেহ ঢুকিয়ে দিবে।
অধ্যায়: ই‘তিকাফ | উপ-অধ্যায়: ই‘তিকাফকারী কি নিজের উপর সৃষ্ট সন্দেহ দূর করতে পারেন? | বর্ণনাকারী: সাফিয়্যাহ (রাযি.)
হাদিস নং (২০৩৯): সাফিয়্যাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ই‘তিকাফ অবস্থায় একদা তিনি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। তিনি যখন ফিরে যান তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে কিছু দূর হেঁটে আসেন। ঐ সময়ে এক আনসার ব্যক্তি তাঁকে দেখতে পায়। তিনি যখন তাকে দেখতে পেলেন তখন তাকে ডাক দিলেন ও বললেনঃ এসো, এ তো সাফিয়্যাহ বিনতু হুয়ায়্যী। শয়তান মানব দেহে রক্তের মত চলাচল করে থাকে। রাবী বলেন, আমি সুফইয়ান (রাঃ)-কে বললাম, তিনি রাতে এসেছিলেন? তিনি বললেন, রাতে ছাড়া আর কি?
অধ্যায়: ই‘তিকাফ | উপ-অধ্যায়: ই‘তিকাফ থেকে সকাল বেলা বেরিয়ে আসা। | বর্ণনাকারী: আবূ সা‘ঈদ (রাঃ)
হাদিস নং (২০৪০): আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রমাযানের মাঝের দশকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ই‘তিকাফ করেছিলাম। বিশ তারিখের সকালে (ই‘তিকাফ শেষ করে চলে আসার উদ্দেশে) আমরা আমাদের আসবাবপত্র সরিয়ে ফেলি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকটে এসে বললেনঃ যে ব্যক্তি ই‘তিকাফ করেছে সে যেন তার ই‘তিকাফ স্থলে ফিরে যায়। কারণ আমি এই রাতে (লাইলাতুল কদর [ক্বদর]) দেখতে পেয়েছি এবং আমি আরো দেখেছি যে, আমি পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা করছি। এরপর যখন তিনি তাঁর ই‘তিকাফের স্থানে ফিরে গেলেন ও আকাশে মেঘ দেখা দিল, তখন আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হল। সেই সত্তার কসম! যিনি তাঁকে যথাযথই প্রেরণ করেছেন, ঐ দিনের শেষভাগে আকাশে মেঘ দেখা দিল। মাসজিদ ছিল খেজুর পাতার ছাউনির। আমি তাঁর নাকের অগ্রভাগে পানি ও কাদার চিহ্ন দেখেছিলাম।