অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: আশূরার দিনে সওম করা। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (২০০১):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে ‘আশূরার দিনে সওম পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন, পরে যখন রমাযানের সওম ফরজ করা হলো তখন যার ইচ্ছা (‘আশূরার) সওম পালন করত আর যার ইচ্ছা করত না।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: আশূরার দিনে সওম করা। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (২০০২):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলিয়্যাতের যুগে কুরাইশগণ ‘আশূরার সওম পালন করত এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও এ সওম পালন করতেন। যখন তিনি মাদ্বীনায় আগমন করেন তখনও এ সওম পালন করেন এবং তা পালনের নির্দেশ দেন। যখন রমাযানের সওম ফরজ করা হল তখন ‘আশূরার সওম ছেড়ে দেয়া হলো, যার ইচ্ছা সে পালন করবে আর যার ইচ্ছা পালন করবে না।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: আশূরার দিনে সওম করা। |
বর্ণনাকারী: হুমাইদ ইবনু আবদুর রাহমান (রহ.)
হাদিস নং (২০০৩):
হুমাইদ ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রহ.) হতে বর্ণিত। যে বছর মু‘আবিয়াহ (রাঃ) হাজ্জ করেন সে বছর ‘আশূরার দিনে (মসজিদে নাববীর) মিম্বরে তিনি (রাবী) তাঁকে বলতে শুনেছেন যে, হে মাদ্বীনাবাসিগণ! তোমাদের ‘আলিমগণ কোথায়? আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, আজকে ‘আশূরার দিন, আল্লাহ তা‘আলা এর সওম তোমাদের উপর ফরজ করেননি বটে, তবে আমি (আজ) সওম পালন করছি। যার ইচ্ছা সে সওম পালন করুক, যার ইচ্ছা সে পালন না করুক।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: আশূরার দিনে সওম করা। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (২০০৪):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদ্বীনায় আগমন করে দেখতে পেলেন যে, ইয়াহুদীগণ ‘আশূরার দিনে সওম পালন করে। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কি ব্যাপার? (তোমরা এ দিনে সওম পালন কর কেন?) তারা বলল, এ অতি উত্তম দিন, এ দিনে আল্লাহ তা‘আলা বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর কবল হতে নাজাত দান করেন, ফলে এ দিনে মূসা (আঃ) সওম পালন করেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ঃ আমি তোমাদের অপেক্ষা মূসার অধিক নিকটবর্তী, এরপর তিনি এ দিনে সওম পালন করেন এবং সওম পালনের নির্দেশ দেন।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: আশূরার দিনে সওম করা। |
বর্ণনাকারী: আবূ মূসা (রাঃ)
হাদিস নং (২০০৫):
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আশূরার দিনকে ইয়াহূদীগণ ‘ঈদ (উৎসবের দিন) মনে করত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাহাবীগণকে) বললেনঃ তোমরাও এ দিনের সওম পালন কর।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: আশূরার দিনে সওম করা। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (২০০৬):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘আশূরার দিনের সওমের উপরে অন্য কোন দিনের সওমকে প্রাধান্য প্রদান করতে দেখিনি এবং এ মাস অর্থাৎ রমাযান মাস (এর উপর অন্য মাসের গুরুত্ব প্রদান করতেও দেখিনি)।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: আশূরার দিনে সওম করা। |
বর্ণনাকারী: সালামাহ ইবনু আকওয়া‘ (রাঃ)
হাদিস নং (২০০৭):
সালামাহ ইবনু আকওয়া‘ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তিকে লোকজনের মধ্যে এ মর্মে ঘোষণা দিতে আদেশ করলেন যে, যে ব্যক্তি খেয়েছে, সে যেন দিনের বাকি অংশে সওম পালন করে, আর যে খায়নি, সেও যেন সওম পালন করে। কেননা আজকের দিন ‘আশূরার দিন।
|
অধ্যায়: তারাবীহর সালাত |
উপ-অধ্যায়: কিয়ামে রমাযান-এর (রমাযানে তারাবীহর সালাতের) গুরুত্ব। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২০০৮):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে রমাযান সম্পর্কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি রমাযানে ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় কিয়ামে রমাযান অর্থাৎ তারাবীহর সালাত আদায় করবে তার পূর্ববর্তী গোনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে।
|
অধ্যায়: তারাবীহর সালাত |
উপ-অধ্যায়: কিয়ামে রমাযান-এর (রমাযানে তারাবীহর সালাতের) গুরুত্ব। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২০০৯):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রমাযানে ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় তারাবীহর সালাতে দাঁড়াবে তার পূর্ববর্তী গোনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে। হাদীসের রাবী ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করেন এবং তারাবীহর ব্যাপারটি এ ভাবেই চালু ছিল। এমনকি আবূ বকর (রাঃ)-এর খিলাফতকালে ও ‘উমার (রাঃ)-এর খিলাফতের প্রথম ভাগে এরূপই ছিল।
|
অধ্যায়: তারাবীহর সালাত |
উপ-অধ্যায়: কিয়ামে রমাযান-এর (রমাযানে তারাবীহর সালাতের) গুরুত্ব। |
বর্ণনাকারী: আবদুর রাহমান ইবনু ‘আবদ আল-ক্বারী (রহ.)
হাদিস নং (২০১০):
আবদুর রাহমান ইবনু ‘আবদ আল-ক্বারী (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রমাযানের এক রাতে ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর সাথে মসজিদে নাবাবীতে গিয়ে দেখি যে, লোকেরা এলোমেলোভাবে জামা‘আতে বিভক্ত। কেউ একাকী সালাত আদায় করছে আবার কোন ব্যক্তি সালাত আদায় করছে এবং ইকতেদা করে একদল লোক সালাত আদায় করছে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি মনে করি যে, এই লোকদের যদি আমি একজন ক্বারীর (ইমামের) পিছনে জমা করে দেই, তবে তা উত্তম হবে। এরপর তিনি ‘উবাই ইবনু ‘কাব (রাঃ)-এর পিছনে সকলকে জমা করে দিলেন। পরে আর এক রাতে আমি তাঁর [‘উমার (রাঃ)] সাথে বের হই। তখন লোকেরা তাদের ইমামের সাথে সালাত আদায় করছিল। ‘উমার (রাঃ) বললেন, কত না সুন্দর এই নতুন ব্যবস্থা! তোমরা রাতের যে অংশে ঘুমিয়ে থাক তা রাতের ঐ অংশ অপেক্ষা উত্তম যে অংশে তোমরা সালাত আদায় কর, এর দ্বারা তিনি শেষ রাত বুঝিয়েছেন, কেননা তখন রাতের প্রথমভাগে লোকেরা সালাত আদায় করত।
|