অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: সিয়ামুল বীয ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ (এর সওম)। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (১৯৮১):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতি মাসে তিন দিন করে সওম পালন করা এবং দু‘রাক‘আত সালাতুয-যুহা এবং ঘুমানোর পূর্বে বিতর সালাত আদায় করা।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: কারো সাথে দেখা করতে গিয়ে (নফল) সওম ভেঙ্গে না ফেলা। |
বর্ণনাকারী: আনাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৯৮২):
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমার মাতা) উম্মু সুলাইম (রাযি.)-এর ঘরে আগমন করলেন। তিনি তাঁর সামনে খেজুর ও ঘি পেশ করলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের ঘি মশকে এবং খেজুর তার বরতনে রেখে দাও। কারণ আমি সায়িম। এরপর তিনি ঘরের এক পাশে গিয়ে নফল সালাত আদায় করলেন এবং উম্মু সুলাইম (রাযি.) ও তাঁর পরিজনের জন্য দু‘আ করলেন। উম্মু সুলাইম (রাযি.) আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার একটি ছোট ছেলে আছে। তিনি বললেনঃ কে সে? উম্মু সুলাইম (রাযি.) বললেন, আপনার খাদেম আনাস। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণের দু‘আ করলেন। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! তুমি তাকে মাল ও সন্তান-সন্ততি দান কর এবং তাকে বরকত দাও। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি আনসারগণের মধ্যে অধিক সম্পদশালীদের একজন। এবং আমার কন্যা উমায়না আমাকে জানিয়েছে যে, হাজ্জাজ (ইবনু ইউসুফ) বসরায় আগমনের পূর্ব পর্যন্ত একশত বিশের অধিক আমার নিজের সন্তান মারা গেছে। হুমায়দ (রহ.) আনাস (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: মাসের শেষভাগে সওম। |
বর্ণনাকারী: ইমরান ইবনু হুইায়ন (রাঃ)
হাদিস নং (১৯৮৩):
ইমরান ইবনু হুইায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে অথবা (রাবী বলেন) অন্য এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেন এবং ‘ইমরান (রাঃ) তা শুনছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে অমুকের পিতা!! তুমি কি এ মাসের শেষভাগে সওম পালন করনি? (রাবী) বলেন, আমার মনে হয় (আমার ওস্তাদ) বলেছেন, অর্থাৎ রমাযান। লোকটি উত্তর দিল, হে আল্লাহর রাসূল! না। তিনি বললেনঃ যখন সওম পালন শেষ করবে তখন দু’দিন সওম পালন করে নিবে। আমার মনে হয় সালত (রহ.) রমাযান শব্দটি বর্ণনা করেননি। সাবিত (রহ.) ‘ইমরান সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে مِنْ سَرَرِ شَعْبَانَ শা‘বানের শেষভাগে বলে উল্লেখ করেছেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী (রহ.) বলেন, শা‘বান শব্দটি অধিকতর সহীহ।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: জুমু‘আর দিনে সওম করা। যদি জুমু‘আর দিনে সওম পালনরত অবস্থায় ভোর হয় তবে তার উচিত সওম ছেড়ে দেয়া। অর্থাৎ যদি এর আগের দিনে সওম পালন না করে থাকে এবং পরের দিনে সওম পালনের ইচ্ছা না থাকে। |
বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনু ‘আব্বাদ (রহ.)
হাদিস নং (১৯৮৪):
মুহাম্মাদ ইবনু ‘আব্বাদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি জুমু‘আর দিনে (নফল) সওম পালন করতে নিষেধ করেছেন? উত্তরে তিনি বললেন, হাঁ। আবূ ‘আসিম (রহ.) ব্যতীত অন্যেরা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, পৃথকভাবে জুমু‘আর দিনের সওম পালন (-কে নিষেধ করেছেন)।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: জুমু‘আর দিনে সওম করা। যদি জুমু‘আর দিনে সওম পালনরত অবস্থায় ভোর হয় তবে তার উচিত সওম ছেড়ে দেয়া। অর্থাৎ যদি এর আগের দিনে সওম পালন না করে থাকে এবং পরের দিনে সওম পালনের ইচ্ছা না থাকে। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (১৯৮৫):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের কেউ যেন শুধু জুম‘আর দিনে সওম পালন না করে কিন্তু তার পূর্বে একদিন অথবা পরের দিন (যদি পালন করে তবে জুমু‘আর দিনে সওম পালন করা যায়)।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: জুমু‘আর দিনে সওম করা। যদি জুমু‘আর দিনে সওম পালনরত অবস্থায় ভোর হয় তবে তার উচিত সওম ছেড়ে দেয়া। অর্থাৎ যদি এর আগের দিনে সওম পালন না করে থাকে এবং পরের দিনে সওম পালনের ইচ্ছা না থাকে। |
বর্ণনাকারী: জুয়াইরিয়া বিনতে হারিস (রাযি.)
হাদিস নং (১৯৮৬):
জুয়াইরিয়া বিনতে হারিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আর দিনে তাঁর নিকট প্রবেশ করেন তখন তিনি (জুয়াইরিয়া) সওম পালনরত ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি গতকাল সওম পালন করেছিলে? তিনি বললেন, না। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি আগামীকাল সওম পালনের ইচ্ছা রাখ? তিনি বললেন, না। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে সওম ভেঙ্গে ফেল। হাম্মাদ ইবনুল জা‘দ (রহ.) স্বীয় সূত্রে জুয়াইরিয়া (রাযি.) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে আদেশ দেন এবং তিনি সওম ভঙ্গ করেন।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: সওমের (উদ্দেশে) কোন দিন কি নির্দিষ্ট করা যায়? |
বর্ণনাকারী: আলকামা (রহ.)
হাদিস নং (১৯৮৭):
আলকামা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কোন দিন কোন কাজের জন্য নির্দিষ্ট করে নিতেন? উত্তরে তিনি বললেন, না, বরং তাঁর ‘আমল স্থায়ী হতো এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব ‘আমল করার শক্তি-সামর্থ্য রাখতেন তোমাদের মধ্যে কে আছে যে সে সবের সামর্থ্য রাখে?
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: আরাফাতের দিবসে সওম করা। |
বর্ণনাকারী: উম্মুল ফাযল বিনত হারিস (রাযি.)
হাদিস নং (১৯৮৮):
উম্মুল ফাযল বিনত হারিস (রাযি.) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, কিছু সংখ্যক লোক ‘আরাফাতের দিনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সওম পালন সম্পর্কে তাঁর কাছে সন্দেহ প্রকাশ করে। তাদের কেউ বলল, তিনি সওম পালন করেছেন। আর কেউ বলল, না, তিনি করেননি। এতে উম্মুল ফাযল (রাযি.) এক পেয়ালা দুধ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট পাঠিয়ে দিলেন এবং তিনি তা পান করে নিলেন। এ সময় তিনি উটের পিঠে (‘আরাফাতে) উকূফ অবস্থায় ছিলেন।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: আরাফাতের দিবসে সওম করা। |
বর্ণনাকারী: মায়মূনাহ (রাযি.)
হাদিস নং (১৯৮৯):
মায়মূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, কিছু সংখ্যক লোক ‘আরাফাতের দিনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সওম পালন সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করলে তিনি স্বল্প পরিমাণ দুধ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট পাঠিয়ে দিলে তিনি তা পান করলেন ও লোকেরা তা প্রত্যক্ষ করছিল। তখন তিনি (‘আরাফাতে) অবস্থান স্থলে ওকূফ করছিলেন।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: ঈদুল ফিতরের দিবসে সওম করা। |
বর্ণনাকারী: বনূ আযহারের আযাদকৃত গোলাম আবূ ‘উবাইদ (রহ.)
হাদিস নং (১৯৯০):
বনূ আযহারের আযাদকৃত গোলাম আবূ ‘উবাইদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা ঈদে ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম, তখন তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুই দিনে সওম পালন করতে নিষেধ করেছেন। (ঈদুল ফিত্রের দিন) যে দিন তোমরা তোমাদের সওম ছেড়ে দাও। আরেক দিন, যেদিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর মাংস্ খাও। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, ইবনু ‘উয়ায়নাহ (রহ.) বলেন, যিনি ইবনু আযহারের মাওলা বলে উল্লেখ করেছেন, তিনি ঠিক বর্ণনা করেছেন; আর যিনি ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ)-এর মাওলা বলেছেন, তিনিও ঠিক বর্ণনা করেছেন।
|