অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: ঋতুমতী সালাত ও সওম উভয়ই ছেড়ে দিবে। |
বর্ণনাকারী: আবূ সা‘ঈদ (রাঃ)
হাদিস নং (১৯৫১):
আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এ কথা কি ঠিক নয় যে, ঋতু শুরু হলে মেয়েরা সালাত আদায় করে না এবং সওমও পালন করে না। এ হল তাদের দ্বীনেরই ত্রুটি।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: সওমের কাযা রেখে যিনি মারা যান। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৯৫২):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সওমের কাযা যিম্মায় রেখে যদি কোন ব্যক্তি মারা যায় তাহলে তার অভিভাবক তার পক্ষ হতে সওম আদায় করবে।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: সওমের কাযা রেখে যিনি মারা যান। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৯৫৩):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা এক মাসের সওম যিম্মায় রেখে মারা গেছেন, আমি কি তাঁর পক্ষ হতে এ সওম কাযা করতে পারি? তিনি বলেনঃ হাঁ, আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করাই হল অধিক যোগ্য। সুলায়মান (রহ.) বলেন, হাকাম (রহ.) এবং সালামাহ (রহ.) বলেছেন, মুসলিম (রহ.) এ হাদীস বর্ণনা করার সময় আমরা সকলেই একসাথে উপবিষ্ট ছিলাম। তাঁরা উভয়ই বলেছেন যে, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে মুজাহিদ (রহ.)-কে এ হাদীস বর্ণনা করতে আমরা শুনেছি। আবূ খালিদ আহমার (রহ.)....ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলল, আমার বোন মারা গেছে। ইয়াহইয়া (রহ.) ও আবূ মু‘আবিয়া....ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, জনৈকা মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলল, আমার মা মারা গেছেন। ‘উবায়দুল্লাহ (রহ.)....ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলল, আমার মা মারা গেছে, অথচ তার যিম্মায় মানতের সওম রয়েছে। আবূ হারীয (রহ.)....ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলল, আমার মা মারা গেছে, অথচ তার যিম্মায় পনের দিনের সওম রয়ে গেছে।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: সায়িমের জন্য কখন ইফতার করা বৈধ। |
বর্ণনাকারী: উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)
হাদিস নং (১৯৫৪):
উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রাত্র সে দিক হতে ঘনিয়ে আসে ও দিন এ দিক হতে চলে যায় এবং সূর্য ডুবে যায়, তখন সায়িম ইফতার করবে।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: সায়িমের জন্য কখন ইফতার করা বৈধ। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)
হাদিস নং (১৯৫৫):
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে ছিলাম। আর তিনি ছিলেন সওমের অবস্থায়। যখন সূর্য ডুবে গেল তখন তিনি দলের কাউকে বললেনঃ হে অমুক! উঠ। আমাদের জন্য ছাতু গুলে আন। সে বলল, সন্ধ্যা হলে ভাল হতো। তিনি বললেনঃ নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আন। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সন্ধ্যা হলে ভাল হতো। তিনি বললেনঃ নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আন। সে বলল, দিন তো এখনো রয়ে গেছে। তিনি বললেনঃ তুমি নামো এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আন। অতঃপর সে নামল এবং তাঁদের জন্য ছাতু গুলে আনল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পান করলেন, অতঃপর বললেনঃ যখন তোমরা দেখবে, রাত একদিক হতে ঘনিয়ে আসছে, তখন সওম পালনকারী ইফতার করবে।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: পানি বা অন্য কিছু যা সহজলভ্য তদ্দবারা ইফতার করবে। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)
হাদিস নং (১৯৫৬):
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে রওয়ানা দিলাম এবং তিনি সওমরত ছিলেন। সূর্য অস্ত যেতেই তিনি বললেনঃ তুমি সওয়ারী হতে নেমে আমাদের জন্য ছাতু গুলে আন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আর একটু সন্ধ্যা হতে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এখনো তো আপনার সামনে দিন রয়েছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আন। অতঃপর তিনি সওয়ারী হতে নামলেন এবং ছাতু গুলে আনলেন। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙ্গুল দ্বারা পূর্বদিকে ইঙ্গিত করে বললেনঃ যখন তোমরা দেখবে যে, রাত এদিক হতে আসছে, তখনই সওম পালনকারীর ইফতারের সময় হয়ে গেল।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: শীঘ্র ইফতার করা। |
বর্ণনাকারী: সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ)
হাদিস নং (১৯৫৭):
সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা যতদিন শীঘ্র ইফতার করবে [1], ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: শীঘ্র ইফতার করা। |
বর্ণনাকারী: ইবনু আবূ ‘আওফা (রাঃ)
হাদিস নং (১৯৫৮):
ইবনু আবূ ‘আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি সন্ধ্যা পর্যন্ত সওম পালন করেন। এরপর এক ব্যক্তিকে বললেনঃ সওয়ারী হতে নেমে ছাতু গুলে আন। লোকটি বলল, আপনি যদি (পূর্ণ সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত) অপেক্ষা করতেন। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বললেনঃ নেমে আমার জন্য ছাতু গুলে আন। [তারপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন] যখন তুমি এদিক (পূর্বদিক) হতে রাত্রির আগমন দেখতে পাবে তখন সওম পালনকারী ইফতার করবে।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: রমাযানে ইফতারের পরে যদি সূর্য (আবার) দেখা যায়। |
বর্ণনাকারী: আসমা বিনত আবূ বকর (রাযি.)
হাদিস নং (১৯৫৯):
আসমা বিনত আবূ বকর (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে একদা মেঘাচ্ছন্ন দিনে আমরা ইফতার করলাম, এরপর সূর্য দেখা যায়। বর্ণনাকারী হিশামকে জিজ্ঞেস করা হল, তাদের কি কাযা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল? হিশাম (রহ.) বললেন, কাযা ব্যতীত উপায় কী? (অপর বর্ণনাকারী) মা‘মার (রহ.) বলেন, আমি হিশামকে বলতে শুনেছি, তাঁরা কাযা করেছিলেন কি না তা আমি জানি না।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: বাচ্চাদের সওম পালন করা। |
বর্ণনাকারী: রুবায়্যি‘ বিনতু মু‘আব্বিয (রাযি.)
হাদিস নং (১৯৬০):
রুবায়্যি‘ বিনতু মু‘আব্বিয (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আশূরার সকালে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের সকল পল্লীতে এ নির্দেশ দিলেনঃ যে ব্যক্তি সওম পালন করেনি সে যেন দিনের বাকি অংশ না খেয়ে থাকে, আর যার সওম অবস্থায় সকাল হয়েছে, সে যেন সওম পূর্ণ করে। তিনি (রুবায়্যি‘) (রাযি.) বলেন, পরবর্তীতে আমরা ঐ দিন সওম পালন করতাম এবং আমাদের শিশুদের সওম পালন করাতাম। আমরা তাদের জন্য পশমের খেলনা তৈরি করে দিতাম। তাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদলে তাকে ঐ খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতাম। আর এভাবেই ইফতারের সময় হয়ে যেত।
|